আজকাল ওয়েবডেস্ক: ছেলের মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা পার। অবশেষে আজ, বৃহস্পতিবার সকালে সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুললেন চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানী রথ। ছেলের মৃত্যুর জন্য তৃণমূলের গুন্ডাদের দিকেই অভিযোগের তির ছুড়লেন তিনি। 

 

এদিন সকালে হাসিরানী রথ বলেন, ""আমি চাই দোষীরা শাস্তি পাক। আমি তো একজন মা। কারও ফাঁসি চাই না। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হোক। আমরা বিজেপি কর্মী, ক্ষমতায় আসার পর সভাপতি ও বিধায়করা বারবার অশান্তি না করার বার্তা দিয়েছেন। শাসক দলের যাঁরা গরম গরম বক্তব্য দিয়েছিলেন, সেটাই তাঁরা করে দেখালেন। এবার যারা নতুন সরকার গঠন করতে চলেছে, তাদের কাছে আমার অনুরোধ, আমার ছেলের খুনিরা যেন শাস্তি পায়। আমার ছেলের কোনও অঘটন ঘটলে, আমার এত কষ্ট হত না। কাল যেভাবে ওকে খুন করা হয়েছে, এটা তৃণমূলের সাজানো ঘটনা। ভবানীপুর, নন্দীগ্রাম, আরও একাধিক জায়গায় ভোটের দায়িত্বে ছিল ও। আমার মনে হয়, তাই ওকে টার্গেট করা হয়েছিল।" 

 

পূর্ব মেদিনীপুরের চন্ডীপুর থানা এলাকার কুলটা গ্রামে বাড়ি চন্দ্রনাথ রথের। বেশ কয়েক বছর ধরে শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়কের কাজ করে আসছিলেন। শুভেন্দু অধিকারীর সমস্ত কাজ সামলাতেন তিনি। 

 

বাবা কিছুদিন আগে মারা গিয়েছেন। ভাই, ভাইয়ের বউ ও মায়ের সঙ্গে থাকতেন চন্দ্রনাথ। ছোট ছেলে, বউমা ও নাতনিকে নিয়ে ৬৯ বয়সি মা বাড়িতে থাকতেন। তবে ইদানিং কাজের সুবিধার্থে মধ্যমগ্রামে ভাড়া বাড়িতে থাকতেন চন্দ্রনাথ। 

 

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, শুভেন্দু অধিকারীর কাছে কাজে যোগ দেওয়ার আগে বায়ুসেনায় কাজ করতেন চন্দ্রনাথ। প্রতিবেশীদের কথায়, তাঁর কোনও শত্রু ছিল কি না এখনও পর্যন্ত কেউ বলতে পারেননি। তাঁর মা হাসিরানী রথ রীতিমতো শোকে পাথর হয়ে গেছেন। 

 

মধ্যমগ্রামের দোহাড়িয়ায় বুধবার রাতে খুন হয়েছেন শুভেন্দুর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ। খবর পেয়ে রাত ১২টার পর হাসপাতালে পৌঁছন শুভেন্দু। রাজ্য বিজেপির একাধিক শীর্ষ নেতৃত্বও একে একে সেখানে যান। চন্দ্রনাথের স্ত্রী এবং মেয়ের সঙ্গে রয়েছেন তাঁরা। চন্দ্রনাথ রথের স্ত্রীর সঙ্গে মধ্যমগ্রামের হাসপাতালে গিয়ে দেখা করেন রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত।

 

এই ঘটনার খবর পেয়েই মধ্যমগ্রামে ঘটনাস্থলে পৌঁছন শুভেন্দু অধিকারী, অর্জুন সিং, সুকান্ত মজুমদার, অগ্নিমিত্রা পাল, রুদ্রনীল ঘোষ-সহ আরও একাধিক বিজেপি বিধায়ক। ভিভা সিটি হাসপাতালে বাইরে বিজেপি কর্মী, সমর্থকরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। 

 

সময়টা রাত দু'টো। আপ্ত সহায়ক, সবসময়ের সঙ্গী চন্দ্রনাথ রথের মৃত্যুর পর ভিভা সিটি হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুললেন বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, এটি পূর্বপরিকল্পিত, ঠান্ডা মাথায় খুন। তিন-চারদিন আগে এই খুনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। খুনের বিচার হবেই। অভয়ার মতো বিচারহীন থাকবে না এই ঘটনা।