বুধবার রাতে মধ্যমগ্রামের দোহাড়িয়ায় গুলি করে খুন করা হয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে। এই ঘটনায় উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। নিজের ফ্ল্যাটের অদূরেই বাইকে বসা ঘাতক বাহিনী গুলি করে খুন করে  চন্দ্রনাথকে।এদিকে, বৃহস্পতিবার সকালেই ঘটনাস্থলে গিয়েছে সিআইডি। এই গোটা ঘটনার তদন্তভার যেতে পারে সিআইডির হাতে। তারা ইতিমধ্যেই তদন্তে সহযোগিতা শুরু করেছে। ঘটনাস্থলে থেকে নমুনা সংগ্রহের চেষ্টায় সিআইডি আধিকারিকরা। রয়েছে পুলিশও। ঘটনাস্থল খতিয়ে দেখছে রাজ্যের তদন্তকারী দল সিআইডি .তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান সুপারি কিলারদের দিয়ে পরিকল্পিত হত্যা করা হয়েছে। এবার গোটা ঘটনায় সরব হলেন টালিগঞ্জের নব বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী।  আজকাল ডট ইন-এর সঙ্গে কথা বলাকালীন চন্দ্রনাথ হত্যায় তৃণমূলকে দায়ী করা  থেকে শুরু করে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন মমতা ব্যানার্জিকেও। পাশাপাশি বিজেপি কর্মীদের শান্ত থাকার বার্তাও দিতে ভোলেননি তিনি।  


আজকাল ডট ইন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পাপিয়া অধিকারী বললেন, " দেখুন, আমাদের এত ছেলে তবু কিন্তু আমরা শান্ত আছি। আমি বারবার ওদের শান্ত থাকার নির্দেশ দিয়েছি। আমরা অত্যন্ত রেগে আছি তবু শান্ত আছি। আমার ছেলেদের বলে রেখেছি শান্ত থাকতে। কিছু হলে পুলিশে জানাতে। ওদের তো সরাসরি বলেছি, " ওরা যদি পশু হয়ে কামড়ায়, আমরা কিন্তু পাল্টা কামড়াব না। আমরা ন্যায্যভাবে জিতিয়ে দেখিয়ে দিয়েছি। মানুষকে দুঃখ-দুর্দশার হাত থেকে বাঁচানোর জন্যই কিন্তু আমরা এসেছি। অসভ্য-অভব্য এই দলটাকে বের করে দিয়েছি আমরা।  দেখুন, আর দু'দিন পরে আমাদের শপথগ্রহণ। সরকার গঠনের আগেই এসব করছে তৃণমূল! আমরা তো শুনতে পাচ্ছি, দাঙ্গা বাধানোর মতলব করছে ওঁরা!  একদম দাঙ্গা বাধানোর চেষ্টা করছেন ওঁরা।  ওঁদের দলের বড়-বড় যে নেতারা তাঁরা তো সব লুকিয়ে পড়েছেন। তারপর দাঙ্গা বাধিয়ে দিয়ে সামনে এসে বলবে -দেখুন, দাঙ্গা-দাঙ্গা-দাঙ্গা!  এত অসভ্য...এত জঙ্গুলে স্বভাব তবে আমরা কিন্তু শক্ত হাতে দমন করে রেখেছি আমাদের ছেলেদের।  আমরা কিন্তু কিছু করছি না। তার মানে এই নয় যে আমরা কিছু পারি না। আসলে, হেরে গিয়ে এসব করছে না। এখনও হিংসার রাজনীতি চালিয়ে যাচ্ছে। এসবের পরেও মমতা বলছেন যে তিনি পদত্যাগ করবেন না মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে। চেয়ার ধরে এবার গঙ্গায় ফেলে দেওয়া হবে!"   

 

 

বৃহস্পতিবার চন্দ্রনাথের দেহের ময়নাতদন্ত হবে। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট পাওয়ার পর এফআইআর দায়ের হবে। ইতিমধ্যেই ফরেনসিক দল নমুনা সংগ্রহ করেছে। কী ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে তা জানতে মৃতদেহের ক্ষতচিহ্ন থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে গাড়ি এবং ঘটনাস্থল থেকেও। তবে  চন্দ্রনাথের হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তরা এখনও অধরা। তাদের খোঁজে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ইতিমধ্যে এলাকার বেশ কিছু সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছেন তদন্তকারীরা। ওই সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তদের খোঁজ চলছে বলে সূত্রের খবর।

 সিআইডি এবং রাজ্য পুলিশের সদস্যদের নিয়ে একটি দল গঠন করা হয়েছে। তারা তদন্ত শুরু করেছে।
যেখানে বুধবার রাতে চন্দ্রনাথ রথকে গুলি করা হয়েছে, সেই এলাকা পুলিশ কর্ডন করে রেখেছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীও মোতায়েন হয়েছে। চন্দ্রনাথ যে হাউজিংয়ে থাকতেন, সেখান থেকে যশোর রোড পর্যন্ত পুরো রাস্তাতেই পুলিশ ও বাহিনী মোতায়েন করে রাখা হয়েছে। রাস্তায় যানবাহন চলাচল বন্ধ রেখেছে পুলিশ। লোকজনের যাতায়াতেও বিধিনিষেধ রয়েছে।বারাসাত মেডিকেল কলেজ ইতিমধ্যে তিন সদস্যের একটি টিম তৈরি করেছে চন্দ্রনাথ রথের দেহ ময়নাতদন্ত করার জন্য। একজন বিভাগীয় প্রধান এবং দু’জন সহকারী অধ্যাপক রয়েছেন তিন সদস্যের টিমে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এসে গেলেই দ্রুততার সঙ্গে শুরু করা হবে ময়নাতদন্তের কাজ। ভোররাতে নার্সিংহোম থেকে চন্দ্রনাথের দেহ বারাসাত মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে ময়নাতদন্তের জন্য।