আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ রাজনৈতিক প্রচারের উত্তাপের মধ্যেই রাজগঞ্জে নেমে এল শোকের ছায়া। রাজগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী স্বপ্না বর্মণের বাবা পঞ্চানন বর্মণের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ গোটা এলাকা। শনিবার ভোররাতে শিলিগুড়ির একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন পঞ্চানন বর্মণ এবং সেখানেই তার চিকিৎসা চলছিল। ছিলেন ভেন্টিলেশনে।


বাবার অসুস্থতার কারণে গত কয়েকদিন ধরেই প্রচারের ব্যস্ততার পাশাপাশি পরিবারের পাশে সময় দিচ্ছিলেন স্বপ্না বর্মণ। বাবার দ্রুত সুস্থতার কামনায় পুজোও দিয়েছিলেন তিনি। তবে শেষরক্ষা হল না।


 বাবার মৃত্যুতে স্বাভাবিকভাবেই ভেঙে পড়েছেন সোনাজয়ী এই অ্যাথলিট। এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন মহল থেকে শোকপ্রকাশ করা হয়েছে।


প্রসঙ্গত, গত মাসের শেষের দিকে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন স্বপ্না। গত মঙ্গলবার তৃণমূল রাজ্যের ২৯১টি বিধানসভা আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে। রাজগঞ্জ থেকে স্বপ্নাকে টিকিট দেয় শাসকদল। তিনি প্রচারও শুরু করে দিয়েছিলেন। কিন্তু বাবার অসুস্থতা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন স্বপ্না। যদিও শেষরক্ষা হল না।


এটা ঘটনা, ২০১৮ সালের এশিয়াডে সোনা জিতেছিলেন স্বপ্না। তবে চোটের কারণে তার পর খেলা ছেড়ে দেন। এখন তিনি রেলে চাকরি করেন। আর এবার দাঁড়িয়েছেন ভোটে। যদিও স্বপ্নাকে টিকিট দেওয়ায় সেখানকার বিদায়ী বিধায়ক খগেশ্বর রায় ‘‌বিদ্রোহ’‌ ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির ফোনে তাঁর মন গলে। 


এদিকে, রাজগঞ্জে প্রথম দফায় ২৩ এপ্রিল ভোটগ্রহণ হবে। বৃহস্পতিবারই প্রচার শুরু করেছিলেন স্বপ্না। কিন্তু ভোটের ঠিক আগেই বাবা মারা যাওয়ায় শোকে কাতর এই অ্যাথলিট। 


জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের পাহাড়পুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ঢিং পাড়া এলাকার বাসিন্দা স্বপ্না। বাবা পঞ্চানন বর্মা কঠোর পরিশ্রম করে সংসার চালাতেন। পঞ্চাননবাবুর মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব।