আজকাল ওয়েবডেস্ক: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের হারের নেপথ্যে রাহুল গান্ধীর 'সতর্কবার্তাকে' গুরুত্ব না দেওয়াকেই দায়ী করলেন শিবসেনা নেতা সঞ্জয় রাউত। তাঁর স্পষ্ট কথা, বিজেপি যে কৌশলে ভোট ‘চুরি’ করে, রাহুল তা বারবার বলা সত্ত্বেও তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জি তা শোনেননি। এটাই ছিল তাঁর সবথেকে বড় ভুল।
রাহুল আগেই দাবি করেছিলেন, লোকসভা নির্বাচনে অন্তত ১০০টি আসনে কারচুপি করে ক্ষমতায় ফিরেছে বিজেপি। এমনকী হরিয়ানা বা মধ্যপ্রদেশেও একই কায়দায় জয় ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি।
মঙ্গলবার রাউত বলেন, “মমতা দিদি যদি রাহুলের সঙ্গে বসে এই ভোট চুরি ঠেকানোর কৌশল নিয়ে আলোচনা করতেন, তবে বাংলার ফল আজ অন্যরকম হতে পারত।”
রাহুলকে ‘দূরদর্শী’ নেতা আখ্যা দিয়েছেন সঞ্জয় রাউত। তিনি জানান, পশ্চিমবঙ্গ এবং তামিলনাড়ু- দুই রাজ্যেই বিজেপি কার্যত জয় ‘লুট’ করেছে।
উল্লেখ্য, বাংলায় পদ্ম শিবির জিতলেও তামিলনাড়ুতে স্ট্যালিন সরকারকে সরিয়ে বড় শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে অভিনেতা বিজয়ের দল ‘টিভিকে’। রাউতের দাবি, “রাহুল আগে যা বলেছিলেন, আজ তা-ই সত্যি হল।”
এদিকে সোমবার রাতেই মমতা ব্যানার্জি অভিযোগ তোলেন, বিজেপি ১০০-র বেশি আসন ‘লুট’ করেছে। নির্বাচন কমিশনকে ‘বিজেপির কমিশন’ বলে দেগে দিয়ে এই জয়কে ‘অনৈতিক’ ও ‘বেআইনি’ বলে তোপ দাগেন তৃণমূল নেত্রী।
রাহুলও মমতার এই দাবিকে সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, বিজেপি সেই পুরনো চেনা ছকেই এই জয় হাসিল করেছে। তৃণমূলের এই বিপর্যয়ে ইন্ডি জোটের শরিকদের একাংশের উল্লাস দেখেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সঞ্জয় রাউত। তাঁর হুঁশিয়ারি, জোটের অন্দরে কাদা ছোড়াছুড়ি করলে লাভ হবে শুধু বিজেপিরই। তৃণমূল বা ডিএমকে-র হারে খুশি না হয়ে বরং বিজেপির এই ‘ভোট চুরির’ কৌশলের বিরুদ্ধে জোটবদ্ধ হওয়ার ডাক দিয়েছেন তিনি। তাঁর সাফ কথা, পারস্পরিক রেষারেষি নয়, বরং ঐক্যবদ্ধ শক্তি হিসেবেই ইন্ডি জোটকে আগামী দিনে এগোতে হবে।















