আজকাল ওয়েবডেস্ক: ‘ভোটে লিড যেন আসে, না হলে এনআরসির সময় কিচ্ছু করব না, তাকিয়ে তাকিয়ে দেখতে হবে।’ প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পরেই পুরোদমে প্রচার নেমে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।

বৃহস্পতিবার আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বোলপুর পুরসভার ২২ নম্বর ওয়ার্ডের জোড়াসাঁকো শিবতলায় তৃণমূল কংগ্রেসের উদ্যোগে বিশেষ জনসভার আয়োজন করা হয়েছিল।

 সভায় উপস্থিত ছিলেন বীরভূম জেলা তৃণমূলের কোর কমিটির আহ্বায়ক অনুব্রত মণ্ডল, বোলপুর বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী চন্দ্রনাথ সিনহা সহ অন্যান্য নেতা-কর্মীরা।

সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে অনুব্রত মণ্ডল দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে স্পষ্ট বার্তা দেন, এই ওয়ার্ড থেকে বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকতে হবে। তিনি বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সংগঠনকে আরও সক্রিয় করার ওপর জোর দেন।

তিনি বলেন, ‘এই বিধানসভা নির্বাচনে লিড দিতেই হবে, না হলে ভবিষ্যতে বিভিন্ন ইস্যুতে আমরা কোনও উদ্যোগ নেব না।’ এনআরসি প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, অতীতে বহু ক্ষেত্রে মানুষকে সাহায্য করা হয়েছে, তবে ভোটে প্রত্যাশিত ফল না এলে ভবিষ্যতে সেই ভূমিকা নেওয়া হবে না বলেও ইঙ্গিত দেন।

তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ভোটে আমরা লিড চাই। নইলে, এনআরসির যখন ফর্ম আসবে, কিচ্ছু করব না। তাকিয়ে তাকিয়ে দেখতে হবে। এসআইআরের সময় বাঁচিয়ে দিয়েছি, লিড যেন আসে।’

সভা চলাকালীন এদিন বীরভূমের বেতাজ বাদশা স্থানীয় নেতা বিদ্যুৎ গায়েনের কাছে জানতে চান মানুষ তৃণমূলের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন কেন? উত্তরে স্থানীয় নেতা বলেন, ‘নিচু স্তরে অনেক নেতা সাধারণ মানুষের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন। সে কারণেই মানুষ তৃণমূলের থেকে মুখ ঘুরিয়ে নিচ্ছেন।’

দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে অনুব্রত মণ্ডল আরও বলেন, ‘সব সুবিধা নেবেন, আর ভোটের সময় পাশে থাকবেন না, এটা চলবে না।’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা যদি কোনও ভুল করে থাকি, তাহলে হাত জোড় করে ক্ষমা চাইছি। মমতা ব্যানার্জি সাধারণ মানুষের জন্য অনেক কাজ করেছেন, তাই ভোটে সমর্থন প্রত্যাশা করাই স্বাভাবিক।’ 

এদিন তিনি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শিবনাথ রায় ওরফে কেবলাকেও সরাসরি বার্তা দেন। তাঁর কথায়, ‘অনেক হয়েছে, এবার কথায় নয়, ভোটের ফলাফলে লিড দেখাতে হবে।’

উল্লেখ্য, বোলপুর পুরসভার ২২ নম্বর ওয়ার্ডটি অনুব্রত মণ্ডলের নিজস্ব এলাকা হিসেবে পরিচিত। সেই কারণে এই ওয়ার্ডে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। বিভিন্ন এলাকায় ছোট ছোট সভার মাধ্যমে সংগঠনকে চাঙ্গা করার পরিকল্পনার কথাও জানান।

প্রসঙ্গত, গত লোকসভা নির্বাচনে বোলপুর পুরসভার ২২টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৬টিতেই পরাজিত হয় তৃণমূল। সেই ফলাফল থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার ঘাটতি পূরণে জোরদার প্রচারে নেমেছে রাজ্যের শাসক দল।

ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে জনসভা, কর্মী বৈঠক ও ঘনঘন প্রচারের মাধ্যমে সংগঠন মজবুত করার চেষ্টা চলছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বোলপুরে তৃণমূলের এই আক্রমণাত্মক প্রচার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে, গত নির্বাচনের ফল থেকে শিক্ষা নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে এগোচ্ছে শাসকদল।