আজকাল ওয়েবডেস্ক: অনেক ভারতীয়ের কাছেই সোনা, জমি, বাণিজ্যিক সম্পত্তি বা শেয়ার বিক্রি করা মানেই বড় অঙ্কের করের বোঝা। বিশেষ করে যদি সেই সম্পদ বহু বছর ধরে ধরে রাখা হয়ে থাকে, তাহলে লং-টার্ম ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স দিতে হয়। তবে আয়কর আইনের একটি তুলনামূলকভাবে কম আলোচিত ধারা সেকশন ৫৪এফ এই করের দায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সাহায্য করতে পারে।
আয়কর আইন, ১৯৬১-এর সেকশন ৫৪এফ অনুযায়ী, কোনও ব্যক্তি বা হিন্দু পরিবার যদি আবাসিক বাড়ি ছাড়া অন্য কোনো দীর্ঘমেয়াদি মূলধনী সম্পদ বিক্রি করে এবং সেই অর্থ নতুন একটি আবাসিক বাড়িতে বিনিয়োগ করে, তাহলে কর থেকে ছাড় পাওয়া যায়। ২৩ জুলাই, ২০২৪-এর পর হওয়া অধিকাংশ সম্পদ বিক্রির ক্ষেত্রে ভারতে করের হার এখন ১২.৫ শতাংশ। এই প্রেক্ষাপটে সেকশন ৫৪এফ কর পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সেকশন ৫৪এফ একটি উপকারী ছাড়ের বিধান, তবে এর সঙ্গে বেশ কিছু কড়া শর্ত জড়িত। এই ছাড় দাবি করতে হলে করদাতার নামে সম্পদ বিক্রির দিনে একটির বেশি আবাসিক বাড়ি থাকা চলবে না। পাশাপাশি, নির্দিষ্ট ‘লক-ইন’ সময়ের মধ্যে নতুন কোনও আবাসিক বাড়ি কিনলে বা নির্মাণ করলে এই ছাড় বাতিল হয়ে যেতে পারে।
এই ছাড় শুধুমাত্র ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। কোম্পানি বা এলএলপি এই সুবিধা নিতে পারে না। যে সম্পদ বিক্রি করা হচ্ছে, তা অবশ্যই লং-টার্ম ক্যাপিটাল অ্যাসেট হতে হবে। যেমন— জমি বা আনলিস্টেড শেয়ারের ক্ষেত্রে ২৪ মাসের বেশি এবং তালিকাভুক্ত শেয়ারের ক্ষেত্রে ১২ মাসের বেশি সময় ধরে ধরে রাখা সম্পদ।
সেকশন ৫৪এফ-এর অধীনে ছাড়ের অঙ্ক নির্ভর করে কতটা অর্থ নতুন বাড়িতে বিনিয়োগ করা হয়েছে তার ওপর। যদি সম্পূর্ণ ‘নেট কনসিডারেশন’ আবাসিক বাড়িতে বিনিয়োগ করা হয়, তাহলে পুরও ছাড় পাওয়া যায়। আর যদি আংশিক বিনিয়োগ করা হয়, তাহলে ছাড়ও অনুপাতে কমে যায়।
তবে সময়সীমার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণভাবে, সম্পদ বিক্রির এক বছরের মধ্যে বা দুই বছরের মধ্যে বাড়ি কেনা, অথবা তিন বছরের মধ্যে বাড়ি নির্মাণ শেষ করতে হয়। আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় সঠিক ফর্ম নির্বাচন করাও বাধ্যতামূলক।
সব মিলিয়ে, সেকশন ৫৪এফ সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলে দীর্ঘমেয়াদি কর সাশ্রয়ের একটি শক্তিশালী উপায় হতে পারে, তবে শর্ত ও সময়সীমা মেনে চলাই এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
