আজকাল ওয়েবডেস্ক: এইচডিএফসি ব্যাঙ্কে নমিনিদের টাকা প্রদানে বিলম্ব সংক্রান্ত একটি অভিযোগ গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। আর্থিক সাংবাদিক বীণা বেণুগোপাল সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ তাঁর অভিজ্ঞতা শেয়ার করার পর বিষয়টি সামনে আসে। তিনি জানান, তাঁর স্বামীর মৃত্যুর এক বছরেরও বেশি সময় পার হয়ে গেলেও ব্যাঙ্ক সেই অ্যাকাউন্ট থেকে নথিবন্ধ নমিনি তাঁর মেয়ের কাছে টাকা হস্তান্তর করেনি।
বীণা বেণুগোপালের মতে, স্বামীর মৃত্যুর পরপরই তিনি মৃত্যু সংশাপত্র-সহ সমস্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ব্যাঙ্কে জমা দিয়েছিলেন। পরে ব্যাঙ্ক পরিবারকে জানায় যে, ব্যাঙ্কের কর্মীরা চাকরি ছেড়ে দেওয়ায় কাগজপত্রগুলো খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর ব্যাঙ্ক আবারও নোটারি করা স্ট্যাম্পযুক্ত কাগজপত্র এবং মৃত্যুর পর করা অটো-ডেবিট সম্পর্কিত তথ্য-সহ সমস্ত নথি চেয়ে পাঠায়। শুধু তাই নয়, ব্যাঙ্ক এই অটো-ডেবিটগুলোর জন্য বিমা কোম্পানির কাছ থেকে অনুমতিও চেয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, তার ২০ বছর বয়সী মেয়ে, যিনি নমিনি, তাঁকে বারবার ব্যাঙ্কে যেতে হয়েছে এবং প্রতিবারই নতুন কর্মীদের কাছে তাঁর বাবার মৃত্যুর বিস্তারিত বিবরণ দিতে হয়েছে। বেণুগোপাল বলেন, এই অ্যাকাউন্টটি নিয়ে কোনও বিরোধ নেই এবং অন্য কোনও দাবিদারও নেই। তুলনামূলকভাবে তিনি জানান, তাঁর স্বামীর ইন্ডাসইন্ড ব্যাঙ্কে আরেকটি অ্যাকাউন্ট ছিল, যা মাত্র একবার ব্যাঙ্কে গিয়ে দুই সপ্তাহের মধ্যেই নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছিল।
যদিও বীণা বেণুগোপাল যোগ করেন যে, তার পরিবার আর্থিকভাবে এই অর্থের উপর নির্ভরশীল নয়, তবে এমন অনেক পরিবার আছে যাদের জন্য উপার্জনকারী ব্যক্তির মৃত্যুর পর এই টাকা একটি অপরিহার্য প্রয়োজন হয়ে দাঁড়ায়। এমন পরিস্থিতিতে এই ধরনের বিলম্ব গুরুতর সমস্যার কারণ হতে পারে।
এই ঘটনার পর, এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক ১ জানুয়ারি সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে এবং বিষয়টি তদন্তের জন্য অ্যাকাউন্টের বিবরণ জানতে চায়। ব্যাঙ্ক আশ্বাস দিয়েছে যে, অভিযোগটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধান করা হবে।
ব্যাঙ্কিং নিয়ম অনুযায়ী, নমিনির দাবি নিষ্পত্তিতে বিলম্ব হলে গ্রাহক ব্যাঙ্কের অভিযোগ নিষ্পত্তি বিভাগে লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেন। সেখানে সন্তোষজনক সাড়া না পেলে বিষয়টি আরবিআই ব্যাঙ্কিং ন্যায়পালের কাছে নিয়ে যাওয়া যেতে পারে। নিয়মাবলীতে আরও বলা হয়েছে যে, সম্পূর্ণ কাগজপত্র পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে ব্যাঙ্ককে দাবি নিষ্পত্তি করতে হবে এবং বিলম্বে সুদও ধার্য করা হতে পারে।
