আজকাল ওয়েবডেস্ক: মুখ্যমন্ত্রী পদে শুভেন্দু অধিকারী-সহ শনিবার বাংলার প্রথম বিজেপি মন্ত্রিসভার মোট ছ'জন শপথ নিয়েছেন। বাকি পাঁচজন মন্ত্রীর তালিকায় রয়েছেন- দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, নিশীথ প্রামাণিক, ক্ষুদিরাম টুডু এবং অশোক কীর্তনীয়া। এখন প্রশ্ন হল, কেন প্রথম পর্যায়ে এই পাঁচজনকেই বেছে নিলেন পদ্ম নেতৃত্ব?
মনে করা হচ্ছে, জাতপাতের তুখোড় সমীকরণেই মোট ছ'জনকে মন্ত্রী হিসাবে বেচে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখলেই তা আরও স্পষ্ট হয়।
এক নজরে মন্ত্রীদের পরিচয়:
শুভেন্দু অধিকারী:
পোড় খাওয়া রাজনীতিক। তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোদগান ২০২০ সালের নভেম্বরে। তারপর বিরোদী দলনেতার দায়িত্ব সামলেছেন গত পাঁচ বছর ধরে। অদম্য জেদ, তীব্র লড়াই। ২০২১ সালে নন্দীগ্রামের পর, এবার ভবানীপুরেও মমতা ব্য়ানার্জিকে হারিয়ে বাজিমাত। শেষমেষ পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি মন্ত্রিসভার মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। কাঁথির অধিকারী পরিবারের মেজ ছেলে আদতে ব্রাহ্মণদের প্রতিনিধি।
দিলীপ ঘোষ
দিলীপ ঘোষ একজন প্রবীণ বিজেপি নেতা এবং দলের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি। মূলত আরএসএস-এর একজন পূর্ণকালীন প্রচারক হিসেবে দায়িত্ব সামলেছেন, ২০১৪ সালের পর বাংলায় বিজেপির তৃণমূল স্তরে দলকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। খগড়পুর থেকে বিধায়ক ছিলেন। পরে মেদিনীপুর থেকে লোকসভার সাংসদ হন। দিলীপ ঘোষ আদতে 'অন্য়ান্য অনগ্রসর শ্রেণি' বা ওবিসি সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত।
অগ্নিমিত্রা পাল
অগ্নিমিত্রা পাল একজন ফ্যাশন ডিজাইনার। পরে তিনি রাজনীতির ময়দানে পা রাখেন। এদিন বিজেপি মন্ত্রিসভার সদস্য হিসাবে শপথ নিয়েছেন অগ্নিমিত্রা। শুভেন্দুর সরকারে এখনও পর্যন্ত তিনিই একমাত্র মহিলা মন্ত্রী। অগ্নিমিত্রা একজন কায়স্থ।
এই লড়াকু নেত্রী ২০১৯ সালে বিজেপিতে যোগ দেন। এক বছর পর, লকেট চ্যাটার্জির স্থলাভিষিক্ত হয়ে দলের মহিলা মোর্চার রাজ্য সভানেত্রী হন। ২০২১ সালে, তাঁকে বাংলায় বিজেপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নিযুক্ত করা হয়।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে, অগ্নিমিত্রা পাল আসানসোল দক্ষিণ আসন থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের সায়নী ঘোষকে পরাজিত করেন। পরবর্তীতে ২০২২ সালে, তিনি আসানসোল লোকসভা কেন্দ্র থেকে উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, কিন্তু অভিনেতা-রাজনীতিবিদ শত্রুঘ্ন সিনহার কাছে পরাজিত হন। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও তিনি মেদিনীপুর কেন্দ্র থেকে অভিনেতা-রাজনীতিবিদ জুন মালিয়ার কাছে পরাজিত হন।
এই বছরের শুরুর দিকে তাঁকে বিজেপির বাংলা শাখার সহ-সভানেত্রী হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছিল।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে, তিনি আসানসোল দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জয়লাভ করেছেন।
ক্ষুদিরাম টুডু
বিজেপি সরকারের নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য হিসাবে শপথ নিয়েছেন বাঁকুড়ার রানিবাঁধের বিজেপি বিধায়ক ক্ষুদিরাম টুডু। শনিবার বিগ্রেডে সাঁওতালিতে শপথবাক্য পাঠ করেন তিনি। সদ্যসমাপ্ত নির্বাচনে ক্ষুদিরাম তৃণমূলের প্রার্থী তনুশ্রী হাঁসদাকে পরাজিত করেন। পেশায় শিক্ষক ক্ষুদিরাম এর আগেও দু’বার রানিবাঁধ কেন্দ্র থেকে ভোট লড়েছিলেন। ক্ষুদিরাম টুডু আদিবাসী সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত।
নিশীথ প্রামাণিক
মন্ত্রী পদে শপথ নিলেন নিশীথ প্রামাণিকও। রাজ্যপাল আরএন রবি তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করালেন। মাথাভাঙা থেকে জিতেছেন নিশীথ। তিনি বাংলা ভাষায় শপথ নেন। রাজবংশী সম্প্রদায় থেকে মন্ত্রিসভায় ঠাঁই হয়েছে নিশীথের।
অশোক কীর্তনীয়া
বনগাঁ উত্তর বিধানসভা থেকে জিতে রাজ্যের মন্ত্রী পদে শপথ নিয়েছেন অশোক কীর্তনীয়ার। রাজ্যপাল আরএন রবি তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করালেন। তিনিও বাংলায় শপথ নিলেন। শুভেন্দু মন্ত্রিসভায় অশোক কির্তনীয়া মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রিনিধি।















