আজকাল ওয়েবডেস্ক: এক ঐতিহাসিক পটপরিবর্তনের সাক্ষী থাকল বাংলা। ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে আজ রাজভবন নয়, বরং ব্রিগেডের খোলা মঞ্চে দাঁড়িয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। একদিকে যখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে জয়ধ্বনি আর উৎসবের আবহে গেরুয়া শিবির বিজয়োল্লাস সারছে, ঠিক তখনই পাল্টা চাল দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জি। রাজ্যে প্রথম বিজেপি সরকারের শপথের দিনেই সমস্ত বিজেপি-বিরোধী রাজনৈতিক দলকে এক ছাতার তলায় আসার ‘বিস্ফোরক’ ডাক দিলেন তিনি। "বাংলার সমস্ত বিজেপি বিরোধী দলের সঙ্গে একজোট হয়ে লড়তে চাই, বামেদেরও স্বাগত", ইন্ডিয়া জোটের মতো একসঙ্গে এ রাজ্যেও লড়াইয়ের আহ্ববান মমতার।
এদিন এক দলীয় অনুষ্ঠান থেকে তৃণমূল নেত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই মুহূর্তে তাঁর একমাত্র লক্ষ্য বিজেপিকে আটকানো। মমতা বলেন, "ভয় না পেয়ে বাংলার সমস্ত রাজনৈতিক বিরোধী দল যারা আছে, তাদের এক হওয়ার ডাক দিচ্ছি। জোট বাঁধুন, যৌথ মঞ্চ তৈরি হবে। আমার কোনো ইগো নেই। বিজেপিকে রুখতে হলে আমি বামেদেরও ডাক দিচ্ছি।" মমতা আরও অভিযোগ করেন, রাজ্যে এখন ‘তাণ্ডব’ চলছে এবং পুলিশ প্রশাসন কার্যত নিশ্চুপ। তাঁর দাবি, ভোট পরবর্তী পরিস্থিতিতে কর্মীরা আক্রান্ত হচ্ছেন এবং যেদিন থেকে বিজেপি জিতেছে, সেদিন থেকেই সমস্ত নিরাপত্তা ও ইন্টারনেট পরিষেবা তুলে নেওয়া হয়েছে। কর্মীদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, "লড়াই চলবে। যারা যেতে চায় তারা চলে যাক, যারা থাকতে চায় তারা থাকুন।"
মমতা ব্যানার্জির এই ‘একত্রিত’ হওয়ার আহ্বানে অবশ্য বিন্দুমাত্র গলে জল হতে রাজি নয় সিপিইএম। বাম মহলে এই প্রস্তাব নিয়ে উল্টে উপহাসের সুর শোনা যাচ্ছে। ফলাফল ঘোষণার দিন মমতার করা "আমি হারিনি" মন্তব্যের প্রেক্ষিতে সিপিইএম নেতা সুজন চক্রবর্তী কটাক্ষের সুরে বলেন, "উনি নিজে কি আদৌ বিরোধী বলে মনে করছেন? সেটা আমার জানা নেই। উনি তো নিজেই শিওর নন উনি বিরোধী না এখনও শাসক। উনি বিজেপি-বিরোধী লড়াইয়ের বদলে যারা প্রকৃত বিরোধী, তাদের মধ্যে ফাটল ধরাতে অভ্যস্ত। আগে উনি স্থিত হন।" একই সুরে আক্রমণ শানিয়েছেন পানিহাটির সিপিএম প্রার্থী যুব নেতা কলতান দাশগুপ্ত। তিনি সরাসরি মমতাকে আরএসএসের ‘প্রোডাক্ট’ বলে তোপ দাগেন। তাঁর কথায়, "মমতা ব্যানার্জি কোনওদিন বিজেপি বিরোধী ছিলেন না। ক্ষমতায় এসে উনি নিজেই আরএসএসের শাখা বাড়িয়ে বিজেপির পথ প্রশস্ত করেছেন। সারা দেশে একমাত্র বামেরাই প্রকৃত বিজেপি বিরোধী।"
শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে বাংলায় যখন নতুন রাজের সূচনা হল, ঠিক তখনই মমতার এই ‘নমনীয়’ রূপ এবং বামেদের দিকে হাত বাড়িয়ে দেওয়া নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের জন্ম দিচ্ছে। রাজনীতির আঙিনায় শত্রু-মিত্র চিরস্থায়ী হয় না— মমতার এই জোট বার্তার পর বাংলা আগামী দিনে কোন নতুন লড়াইয়ের সাক্ষী থাকে, সেটাই এখন দেখার।















