শ্রেয়সী পাল: সিনেমার গল্প এবার বাস্তবের মাটিতে। স্বামীর সামনে প্রেমিকের গলায় মালা দিলেন এক গৃহবধূ। আর তাতে সম্মতি জানালেন প্রাক্তন স্বামী নিজেই। চেনা চেনা লাগছে তো দৃশ্যটা? হ্যাঁ। ঠিকই ধরেছেন। সিনেমার পর্দার কোনও এক দৃশ্যকেই মনে করিয়ে দিয়েছে মুর্শিদাবাদের বড়ঞা থানার পাঁচথুপি পঞ্চায়েতের অন্তর্গত পুলিয়া -কালিতলা গ্রামের সীমা মাঝি এবং শ্রীকান্ত হাজরার এই বিয়ের আসর।

নাবালক ছেলেকে পাশে নিয়ে প্রাক্তন স্বামীর সামনে দাঁড়িয়ে মন্দিরে গিয়ে প্রেমিকের গলায় মালা দিয়ে, সিঁদুর পরে সামাজিক মতে বিয়ে করেন ওই মহিলা। আর কোনও রকম সমালোচনা না করেই গোটা গ্রামের লোক উপস্থিত ছিলেন নব দম্পতিকে আশীর্বাদ করার জন্য।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ছয় বছর আগে জজানের রাজেন বিত্তার নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে বিয়ে হয় সীমা মাঝির। বর্তমানে তাদের পাঁচ বছরের একটি পুত্রসন্তানও রয়েছে। কিন্তু বিবাহিত জীবনে দীর্ঘদিন সম্পর্কের টানাপোড়নের পর প্রেমিকের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলেন ওই গৃহবধূ। আর তাতে কোনও আপত্তি জানালেন না প্রাক্তন স্বামী রাজেন। বরং বিবাহ বাসরে উপস্থিত থেকে স্ত্রীর বিয়ের অনুষ্ঠানকে চাক্ষুষ করলেন তিনি। 

নান্টু ঘোষ নামে পাঁচথুপি পঞ্চায়েতের এক সদস্য জানিয়েছেন, "বছর ছয় আগে  রাজেন এবং সীমা মাঝির বিয়ে হয়। তাদের পাঁচ বছরের একটি ছেলে রয়েছে। শুনেছি ওই দম্পতির সংসারে খুবই অশান্তি ছিল। তাই সীমা নতুন করে আবার বিয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। তবে তাতে আপত্তি জানায়নি রাজেন। আশা করব সীমার নতুন জীবন সুখের হবে।"

এ প্রসঙ্গে পাত্রী সীমা মাঝি জানিয়েছেন, "আমাদের ছয় বছরের বিবাহিত জীবন। আমাদের সংসারে খুব অশান্তি ছিল। আমার উপর অত্যাচার করত আমার প্রাক্তন স্বামী।" সীমা আরও বলেন, "মানসিক ও শারীরিক অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে নতুন জীবন শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমার একটি পাঁচ বছরের ছেলে রয়েছে। এখন ছেলে আমার কাছেই থাকবে।"

সীমার নতুন স্বামী শ্রীকান্ত বলেন, "গত প্রায় তিন মাস ধরে আমাদের ভালবাসার সম্পর্ক ছিল। সীমার প্রাক্তন স্বামী ওকে খুব মারধর করত। এছাড়া আমার স্ত্রীর সঙ্গেও আমার বনিবনা হচ্ছিলো না। তাই দু'জনে নতুন করে সংসার পাতার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি খুব খুশি এই বিয়ে করে।" 
 
সীমা মাঝির বাবা রতন মাঝি জানিয়েছেন," মেয়ের সংসারে প্রচুর অশান্তি ছিল। তারপরেও আমি  তাঁকে মানিয়ে নিতে বলেছিলাম। কিন্তু মেয়ে মানেনি এবং নতুন জীবন শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করব সে যেন সুখী হয়।"

তবে সম্পর্কের আইনি সমীকরণ যাই হোক না কেন, একরত্তির জীবনে সেই সমীকরণের জটিলতা কোনও প্রভাব ফেলবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।