আজকাল ওয়েবডেস্ক: এসআইআর। বঙ্গে এসআইআর চলছে,। খসড়া তালিকা প্রকাশের পর, শুনানি প্রক্রিয়া চলছে। এই সময়কালে রাজ্যে এসআইআর আতঙ্কে সাধারণ মানুষের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। কাজের চাপে মৃত্যু বিএলও'দের, অভযোগ তেমনটাও। এই পরিস্থিতিতে শুরু থেকেই সুর চড়িয়েছে রাজ্যের শাসক দল। আন্দোলন তীব্র করেছে কলকাতার রাস্তায়, দিল্লির রাজপ্তহে। রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটমুখী বাংলায় এসআইআর আবহে মমতা-অভিষেক যেভাবে সাধারণ মানুষের  পাশে দাঁড়িয়েরয়েছে শুরু থেকে, তাতে এই ভোটে এসআইআর শাপে বর হল তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য।

সোমবার, এসআইআর ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্টে শুনানি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির মামলার। সোমবারেই এসআইআর ইস্যুতে কলম ধরলেন অভিষেক ব্যানার্জি। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি লেখা পোস্ট করেছেন। তাতে ফুটে উঠেছে, এসআইআর-এর নামে কীভাবে হয়রানি হয়েছে সাধারণ মানুষের। 

 

কী লিখলেন অভিষেক। লিখলেন-
'আমি অস্বীকার করি
আমি অস্বীকার করি
এই হঠকারিতা, এই তালিকার শাসন, এই ভয়ের রাজত্ব। আমি অস্বীকার করি- রাষ্ট্রের নামে রক্তের ঋণ, আমি অস্বীকার করি- রক্তের উপর কালির শাসন।
আমাদের বলা হল- “নাম দাও”, “কাগজ দেখাও” আর আমরা দিলাম ইতিহাস, মাটি, আর ঘাম-ঝরা জন্মভূমি। তারা বললো - “এগুলো যথেষ্ট নয়”
আমরা বললাম তবে বলো

কোন ধারায় মৃত্যু বৈধ হল?
১৫০ (একশো পঞ্চাশ) – এটা সংখ্যা নয়, এটা রাষ্ট্রের লাগানো আগুনে মানুষের চিৎকার
এ এক থেমে যাওয়া গান। এক মুছে যাওয়া মুখ। রাষ্ট্রের খাতায় ঠাঁই পায় প্রাণের বদলে পরিসংখ্যান, শাসকের বুটের তলায় পিষে যায় বিবেক, সত্য আর সম্মান। যে দেশ জন্মেছিল আপোষহীন আন্দোলন ও প্রশ্নের আগুনে সে দেশ নোয়াবে না মাথা ধর্মের শাসনে। নাগরিকত্ব যদি বন্দি হয় কাগজের জালে তবে মানুষ যাবে কোথায় সংবিধানের কালে? যে আইন মানুষ ছেঁটে ফেলে, মানুষের প্রাণ নেয় কেড়ে সে আইন; আইন নয়
সে আইন ফাঁসি।
আমি শান্তি চাই না। • অন্যায়ের সঙ্গে! আমি নীরবতা চাই না লাশের উপর!

যারা চুপ থাকে এই মুহূর্তে, তারাই ইতিহাসে অপরাধী স্তব্ধ স্বর আমি শুধু একজন মানুষ নই – আজ আমি সাক্ষী, আর সাক্ষী যখন কথা বলে সিংহাসন তখন কাঁপে
আর ইতিহাস
সে ক্ষমা করে না, তালিকা পড়ে না। ইতিহাস মনে রাখে
কে রুখেছিল, কে লড়াই করেছিল, কে দাঁড়িয়েছিল, আর কে আগুন লাগিয়েছিল!
যে শাসক অহঙ্কারে কথা বলে
যে শাসক মানুষের কথা শোনে না
যে ক্ষমতা মানুষকে তুচ্ছ করে, ইতিহাস তাকে কখনো ক্ষমা করে না।'

নীচে অভিষেকের সাক্ষর, সঙ্গে ৯ ফেব্রুয়ারির তারিখ দেওয়া।