আজকাল ওয়েবডেস্ক: সাধের সেবাশ্রয় নিয়েই এবার নাজেহাল অভিষেক! একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে আনছেন ডায়মন্ড হারবারের বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ববি। মঙ্গলে আজকাল ডট ইন-কে একগুচ্ছ অভিযোগ জানিয়েছিলেন। বুধেই সোজা পুলিশের দরজায়, আরও বিস্ফোরক ববি।
কী বলছেন? সেবাশ্রয়ের একাধিক চিকিৎসকের নাম তুলে ধরে, তিনি বলেন, তাঁরা আদতে সকলে অবৈধ চিকিৎসক। অভিযোগ, কেউ হোমিওপ্যাথি পড়ুয়া, কেউ হাতুড়ে। লিখিত অভিযোগে তিনি দাবি করেছেন, চিকিৎসা পরিষেবার নামে একাধিক আইন ও সরকারি বিধি লঙ্ঘন করা হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
১ জুলাই ২০২৬ তারিখে বিষ্ণুপুর থানার আইসি-র কাছে জমা দেওয়া অভিযোগপত্রে অভিজিৎ দাস বিস্তারিতভাবে একাধিক অনিয়মের কথা উল্লেখ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, ‘সেবাশ্রয়’ ও ‘সেবাশ্রয়-২’ ক্যাম্পে আল্ট্রাসাউন্ড এবং পোর্টেবল এক্স-রে-র মতো নিয়ন্ত্রিত ডায়াগনস্টিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয়েছে, যথাযথ অনুমতি ও নির্ধারিত বিধি ছাড়াই। এই ধরনের যন্ত্র পরিচালনার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট লাইসেন্স, প্রশিক্ষিত কর্মী এবং নির্ধারিত নিরাপত্তা প্রোটোকল বাধ্যতামূলক হলেও, সেই নিয়ম মানা হয়েছে কি না তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
বিজেপি নেতার অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ক্যাম্পগুলিতে এমন ব্যক্তিদের দিয়ে রোগী দেখানো হয়েছে যাঁদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাগত যোগ্যতা নেই। তাঁর দাবি, নিবন্ধিত চিকিৎসকদের বদলে অযোগ্য বা অননুমোদিত ব্যক্তিদের চিকিৎসা পরিষেবায় যুক্ত করা হয়েছে, যা সরাসরি রোগীদের জীবন নিয়ে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি রোগীদের প্রেসক্রিপশন তৈরির ক্ষেত্রেও অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ভুয়ো প্রেসক্রিপশন, অসত্য কনসালটেশন রেকর্ড এবং নথিপত্রে তথ্য গোপনের মতো ঘটনাও ঘটেছে।
অভিজিৎ দাস অভিযোগে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন বায়োমেডিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়টিকেও। তাঁর দাবি, মেডিক্যাল ক্যাম্পে ব্যবহৃত সিরিঞ্জ, ব্যান্ডেজ, গ্লাভস এবং অন্যান্য চিকিৎসা বর্জ্য যথাযথ নিয়মে নিষ্পত্তি করা হয়নি। চিকিৎসা বর্জ্য সঠিকভাবে অপসারণ না হলে সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি বাড়ে এবং তা জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে উঠতে পারে। ফলে বিষয়টি প্রশাসনের গুরুত্ব সহকারে দেখা উচিত বলেই মত তাঁর। শুধু চিকিৎসা সংক্রান্ত অনিয়ম নয়, অভিযোগে সরকারি সম্পদের অপব্যবহার এবং আর্থিক অনিয়মের প্রসঙ্গও উঠে এসেছে। অভিজিৎ দাসের দাবি, সরকারি সম্পদ ও অবকাঠামো কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, তাতে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। পাশাপাশি ক্যাম্প পরিচালনার অর্থনৈতিক লেনদেনেও অসঙ্গতি থাকতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, পুরো ঘটনার পেছনে সুপরিকল্পিত অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
এই অভিযোগের কপি ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার এসপি-র কাছেও পাঠানো হয়েছে। অভিজিৎ দাস জানিয়েছেন, আয়োজকদের সরকারি প্রকাশনা, প্রচারপত্র, কনসালটেশন শিট, রেফারেল স্লিপ, ছবি, ভিডিও ফুটেজ এবং সরেজমিন পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতেই তিনি এই অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁর দাবি, প্রাথমিক তথ্যপ্রমাণই যথেষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে যে চিকিৎসা সংক্রান্ত একাধিক আইন এবং রোগী সুরক্ষার বিধি লঙ্ঘিত হয়েছে।
বিজেপি নেতা বলেন, “স্বাস্থ্য পরিষেবার নামে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা বা তাঁদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা যায় না। বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।” তাঁর আরও দাবি, অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে অবিলম্বে এফআইআর দায়ের করা প্রয়োজন, যাতে তদন্তে কোনও প্রভাব না পড়ে।
অন্যদিকে, বিষ্ণুপুর থানা সূত্রে জানা গিয়েছে, ১ জুলাই অভিযোগপত্রটি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই বিষয়টি খতিয়ে দেখা শুরু করেছে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সংগ্রহ করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হবে বলে সূত্রের খবর।
এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, ডায়মন্ড হারবার তথা নিজের কেন্দ্রে এই ক্যাম্প চালু করে একপ্রকার সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন অভিষেক। ক্যাম্প চলাকালীন নানা সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে তিনি সেবাশ্রয় থেকে এলাকার মানুষ কীভাবে উপকৃত হয়েছেন, সেই কাজের খতিয়ান তুলে ধরেছেন। তাঁর দাবি, বহু মানুষ উপকৃত হয়েছেন এই সেবাশ্রয় ক্যাম্পের মাধ্যমে। ডায়মন্ড হারবার মডেলের অনুসরণে নন্দীগ্রামেও চালু হয় সেবাশ্রয় ক্যাম্প। ছাব্বিশের ভোটের আগে, আরও একাধিক এলাকায় এই ক্যাম্প হয়। কিন্তু এবার সেবাশ্রয় নিয়েই বিরাট অভিযোগ।
ভোটে তৃণমূলের হারের পর থেকে একাধিক অভিযোগ উঠেছে অভিষেকের বিরুদ্ধে। একদিন ইডি তলব করছে, একদিন সিআইডি। একাধিক বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জির বিরুদ্ধে ভয়াবহ অভিযোগ তুলছেন, ২০২৪-এর ভোটে তাঁরই প্রতিপক্ষ হিসেবে ভোট লড়া অভিজিৎ দাস ববি।















