আজকাল ওয়েবডেস্ক: হাইকোর্টের নির্দেশ কার্যকর করতে টাকির ইছামতি নদীর তীরে অবৈধভাবে নির্মিত গেস্ট হাউস ভাঙার কাজ শুরু করল প্রশাসন। বুধবার থেকেই বুলডোজার নামিয়ে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। প্রথমেই ভাঙা শুরু হয় ‘সিটি গেস্ট হাউস’। প্রশাসনের এই মেগা অভিযানে গোটা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ইছামতি নদীর তীরবর্তী সেচ দপ্তরের জমি দখল করে ‘সিটি গেস্ট হাউস’ এবং ‘দিশা গেস্ট হাউস’ নামে দু’টি বিলাসবহুল গেস্ট হাউস নির্মাণ করা হয়েছিল। বিষয়টি আদালতের নজরে আসার পর তদন্ত ও শুনানির ভিত্তিতে হাইকোর্ট অবৈধ নির্মাণ অপসারণের নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশ মেনেই বুধবার থেকে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে বুলডোজার দিয়ে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন ম্যাজিস্ট্রেট, টাকি পুরসভার ইঞ্জিনিয়ার, সেচ দপ্তরের আধিকারিক, দমকল, অ্যাম্বুলেন্স এবং বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের কর্মীরাও।
প্রথম পর্যায়ে ‘সিটি গেস্ট হাউস’ ভাঙার কাজ শুরু হলেও ‘দিশা গেস্ট হাউস’-এর কর্তৃপক্ষ ভিতরের মূল্যবান সামগ্রী সরিয়ে নেওয়ার জন্য পুরসভার কাছে তিন দিনের সময় চায়। সেই আবেদন মঞ্জুর হওয়ায় এদিন ভবনটি ভাঙা না হলেও, নিজেদের উদ্যোগে মালপত্র ও পরিকাঠামো খুলে সরানোর কাজ শুরু হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ২৬ জুন টাকি পুরসভার পক্ষ থেকে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট নির্মাণগুলির গায়ে চূড়ান্ত নোটিশ টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছিল। টাকি পুরসভার পুরপ্রধান জানান, কোনও বৈধ ছাড়পত্র ছাড়াই ইছামতি নদীর তীরে এই গেস্ট হাউসগুলি নির্মাণ করা হয়েছিল। আদালতের নির্দেশ মেনে সেগুলি ভেঙে ফেলা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও সরকারি জমি দখল বা নদীতীরবর্তী এলাকায় কোনও বেআইনি নির্মাণ বরদাস্ত করা হবে না বলেও তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, এই উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি, এটি কেবল শুরু। রাজ্যজুড়ে সরকারি জমি দখল করে গড়ে ওঠা সমস্ত অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধেই একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
এদিকে, ইছামতি নদীর পাড় থেকে বেআইনি নির্মাণ সরানোর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন পরিবেশপ্রেমী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। তাঁদের মতে, নদীতীর সংরক্ষণ এবং সরকারি জমি রক্ষায় প্রশাসনের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। হাইকোর্টের নির্দেশে শুরু হওয়া এই উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে টাকি জুড়ে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে।















