ইঞ্জেকশন দিলেও শিশুরা হাসে, বলিউডের গান গাইতে গাইতে করেন চিকিৎসা, ভাইয়ের যন্ত্রণা কীভাবে বদলে দিল ডাক্তার ইমরানের জীবন?
নিজস্ব সংবাদদাতা
১ জুলাই ২০২৬ ১৮ : ৪৪
শেয়ার করুন
1
14
শিশুকে ডাক্তার দেখাতে নিয়ে যাওয়া অনেক অভিভাবকের কাছেই কঠিন এক অভিজ্ঞতা। যদি ইঞ্জেকশন দেওয়ার বিষয় থাকে, তাহলে তো কান্নাকাটি সামলাতে নাজেহাল হয় বাবা মায়েরা৷
2
14
কিন্তু এমন একজন চিকিৎসক আছেন যিনি ইঞ্জেকশন দিলেও শিশুরা খিলখিলিয়ে হেসে ওঠেন৷ চিকিৎসার কঠিন মুহূর্তেও নিজের শান্ত স্বভাব, ভালবাসা ও বন্ধুত্বপূর্ণ ব্যবহারে শিশুদের ভয় কাটিয়ে তোলার চেষ্টা করেন ডাঃ ইমরান প্যাটেল।
3
14
শিশুকে ইঞ্জেকশন দেওয়ার আগে গান গেয়ে কখনও তার কাছে খেলনা দিয়ে আগে শিশুর মন জয় করার চেষ্টা করেন ডাক্তার৷ হাসি মুখ মজার অঙ্গভঙ্গি আর গানের ছন্দে শিশুটি যখন ভুলে যায় তখনই টুক করে ইঞ্জেকশন দিয়ে দেন ডাক্তার৷
4
14
ইঞ্জেকশনের ব্যথা বুঝতে পারার আগেই আবার শুরু হয়ে যায় অন্য খেলা বা উপহার দেওয়ার কায়দা৷ আশ্চর্যের বিষয়, শিশুটি প্রায় বুঝতেই পারে না কখন ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়ে গেছে।
5
14
চিকিৎসার প্রতি তাঁর আগ্রহ তৈরি হয় ছোটবেলাতেই। তাঁর ছোট ভাইয়ের হৃদযন্ত্রের সমস্যা ছিল, যার কারণে নিয়মিত হাসপাতালে যেতে হত এবং পরে অস্ত্রোপচারও হয়।
6
14
তিনি বলেন, “যে ডাক্তাররা আমার ভাইয়ের চিকিৎসা করতেন, তাঁদের দেবদূত মনে হত। সেই সময় থেকেই চিকিৎসার প্রতি আমার আগ্রহ তৈরি হয় এবং এই পেশায় আসার ইচ্ছা আরও দৃঢ় হয়।”
7
14
তিনি একজন শিশু বিশেষজ্ঞ ও নিওনেটোলজিস্ট, যিনি শুধু চিকিৎসা নয়, অভিভাবকদের সচেতন করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। গুজরাটের মাঙ্গরোলে ১৯৮৮ সালের ৫ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন ডাঃ ইমরান প্যাটেল।
8
14
এমবিবিএস শেষ করার পর পেডিয়াট্রিক্সে উচ্চশিক্ষা অর্জন করেন। তিনি MD (পেডিয়াট্রিক্স) ডিগ্রি লাভ করেন এবং নিওনেটোলজিতে বিশেষ প্রশিক্ষণ নেন।
9
14
বর্তমানে তিনি আহমেদাবাদের এশিয়ান চিলড্রেন্স হাসপাতালে কনসালট্যান্ট পেডিয়াট্রিশিয়ান ও নিওনেটোলজিস্ট হিসেবে কাজ করছেন।
10
14
এর আগে তিনি অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর হিসেবেও চিকিৎসা শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। চিকিৎসক তৈরির ক্ষেত্রেও তাঁর অবদান রয়েছে।
11
14
ডাঃ প্যাটেলের সবচেয়ে বড় শক্তি তাঁর সহজ ব্যবহার। ছোট রোগীদের সঙ্গে বন্ধুর মতো কথা বলা, অভিভাবকদের ধৈর্য ধরে বোঝানো এবং আধুনিক গবেষণাভিত্তিক চিকিৎসা পরামর্শ দেওয়ার জন্য তিনি পরিচিত।
12
14
অনেক অভিভাবকের কাছে তিনি শুধু একজন ডাক্তার নন, বরং সন্তানের স্বাস্থ্যের বিষয়ে নির্ভরযোগ্য পথপ্রদর্শক।
13
14
ডিজিটাল মাধ্যমেও শিশুস্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা তৈরির কাজ করছেন তিনি। টিকাকরণ, শিশুর পুষ্টি, স্তন্যপান, নবজাতকের যত্ন এবং শিশুর স্বাভাবিক বিকাশ—এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সহজ ভাষায় মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেন।
14
14
তাঁর মতে, চিকিৎসায় শুধু জ্ঞান থাকলেই হয় না, প্রয়োজন সহানুভূতি ও মানবিকতা। একটি শিশুর চিকিৎসার সঙ্গে পুরো পরিবারের আবেগ জড়িয়ে থাকে। তাই একজন ভালো চিকিৎসকের দায়িত্ব শুধু রোগ নিরাময় নয়, পরিবারের উদ্বেগ কমানোও।