আজকাল ওয়েবডেস্ক: অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীকে হেনস্থার ঘটনায় স্থানীয় ক্লাবের কর্মকর্তা তনয় শাস্ত্রীকে আটক করেছে বনগাঁ থানার পুলিশ। গত রবিবার থানায় হেনস্থার অভিযোগ করেছিলেন মিমি। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তিন দিন পরে বৃহস্পতিবার বাড়ি থেকেই তনয়কে আটক করা হয়। এদিন এলাকায় পুলিশ পৌঁছতেই ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তনয়ের অনুগামী-সহ স্থানীয় কিছু লোক পুলিশকে বাধা দেয়। এর ফলে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। তাঁকে নিয়ে আসা হয় বনগাঁ থানায়। 

গত রবিবার বনগাঁ নয়া গোপালগঞ্জ যুবক সংঘের পরিচালনায় বাৎসরিক অনুষ্ঠান ছিল সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মিমি। সেই অনুষ্ঠানে অভিনেত্রী হেনস্তার অভিযোগ তোলেন। তাঁর অভিযোগ, অনুষ্ঠানের মাঝেই ক্লাবের কর্মকর্তা তনয় শাস্ত্রী স্টেজে উঠে পড়েন। মিমিকে গান গাইতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। মিমিকে তিনি স্টেজ থেকে নেমে যেতে বলেন। তাতে অপমানিত বোধ করেন মিমি। ফিরে এসে তিনি বনগাঁ থানায় ইমেল করে অভিযোগ দায়ের করেন। 

সমাজমাধ্যমে ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন অভিনেত্রী। তিনি লেখেন, “আজ আমরা প্রজাতন্ত্র দিবস পালন করছি, আমরা কথা বলছি সমাজের স্বাধীনতা ও সমান মর্যাদাকে নিয়ে। কিন্তু আজও মহিলা শিল্পীদের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা ও অধিকার কেড়ে নেওয়া সহজ। আমি এত বছর ধরে আমার একটা ভাবমূর্তি তৈরি করেছি। কিন্তু এবার চুপ করে থাকা মানে শিল্পীদের হেনস্থাকে সমর্থন করা।” 

মিমি আরও লেখেন, “স্টেজের অধিকার নিয়ে কোনও আপোষ করতে পারব না। বিষয়টা এখন আইনি পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে। তাই এখন এই বিষয়ে আর কথা বাড়াতে চাই না।”

এই বিষয়ে এক ক্লাবকর্তা দাবি করেন, “মিমি চক্রবর্তীকে কোনও অসম্মান করা হয়নি। তিনি এক ঘণ্টা দেরি করে রাত সাড়ে ১১টার পর মঞ্চে ওঠেন। প্রশাসনের দেওয়া টাইম এবং মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের কথা ভেবে আমরা ঠিক ১২টায় অনুষ্ঠান বন্ধ করি। ওঁর অনুষ্ঠান চলাকালীন অনুষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা ওঁর অসম্মানিত মনে হতে পারে কিন্তু আমরা ওঁকে সসম্মানেই বিদায় দিয়েছি। উপরন্ত ক্লাবের মহিলারা মিমিকে ফুল দিয়ে বরণ করতে গেলে তাঁর দেহরক্ষীরা ধাক্কা মারে। আমরা মিমিদেবীর সম্মানের দিকে তাকিয়ে সে অভিযোগ করিনি। তাই ওঁর অভিযোগ ভিত্তিহীন।”