আজকাল ওয়েবডেস্ক: বাংলায় ভোট-রীতিতে বড় বদল। গত কয়েকটি বিধানসভা বা লোকসভা ভোটে ৭-৮ দফায় ভোট হয়েছে এ রাজ্যে। ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে হবে মাত্র দু'দফায়। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর নেতৃত্ব কমিশনের কাছে দরবার করেছিলেন কম দফায় বাংলার ভোটের জন্য। তাতেই সায় দিল নির্বাচন কমিশন?
পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রতিক দুই দিনের সফরে, নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ ভোটের বিভিন্ন পর্যায় নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করেছিল। বৈঠকে বেশিরভাগ বিরোধী নেতৃত্বের যুক্তি ছিল যে, বহু-পর্যায়ে নির্বাচন হওয়ার ফলে প্রচারের সময়কাল দীর্ঘায়িত হয়, এর জেরে অধিক অর্থব্যয় ও শারীরিক পরিশ্রমের প্রয়োজন পড়ে। এই ধরনের সময়সূচি নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে আর্থিকভাবে বোঝাগ্রস্ত করে তোলে এবং ভোটারদের কাছে এই পুরো প্রক্রিয়াটিকে একঘেয়ে ও ক্লান্তিকর বলে মনে হয়।
বাংলায় গত নির্বাচনে আট দফায় ভোট গ্রহণ করা হয়েছিল। এবার ভোট হবে দু'দফায়। কেন ভোটের দফা কমানো হল? তা নিয়ে ভোট ঘোষণার পরই প্রশ্ন করা হয়েছিল মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে। জবাবে তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে দেখেছে কমিশন। তাতে মনে করা হয়েছে, দু'দফাতেই ভোট করানো যথেষ্ট।
এছাড়াও পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার এবারের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ৭ মে। সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী, শাসনব্যবস্থার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার স্বার্থে বিধানসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বেই নির্বাচন সম্পন্ন করা আবশ্যক।
নির্বাচনী সময়সূচি নির্ধারণের ক্ষেত্রে নিরাপত্তাও একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে, যেখানে ঐতিহাসিকভাবেই রাজনৈতিক উত্তেজনা নজির রয়েছে। জানা গিয়েছে যে, নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর প্রায় ৪৮০ ব্যাটালিয়ন ইতিমধ্যেই বাংলায় মোতায়েন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতির মূল লক্ষ্য হল শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং নির্বাচনী চলাকালীন আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখা।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী হিংসার ঘটনায় বাংলায় যে সব পুলিশ অফিসারদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল, এবার কী তাঁরা ভোট প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন? জবাবে জ্ঞানেশ কুমার বলেছেন, অভিযুক্ত পুলিশ অফিসারদের এবারের ভোটের প্রক্রিয়ার বাইরে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যে সমস্ত পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে তাদের তালিকা তৈরি হচ্ছে।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সাফ জানান, ভোটে কোনও ধরনের হিংসা বরদাস্ত করা হবে না। সব ভোটকর্মী এবং পুলিশকর্মীদের নিরপেক্ষ হয়ে কাজ করতে হবে।
পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট
পশ্চিমবঙ্গের মোট ২৯৪টি বিধানসভা আসনে ভোট হবে দু’দফায়।
প্রথম দফায় ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ করা হবে।
দ্বিতীয় দফায় ভোট গ্রহণ করা হবে ১৪২টি আসনে।
৪ মে ফল ঘোষণা।
পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে ৭ মে।
গত ২৫ ফেব্রুয়ারি অনুযায়ী, বাংলায় এখন ভোটের সংখ্যা ৬.৪৪ কোটি।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে আরও কিছু আবেদন এখন বিবেচনা করা হচ্ছে। সেগুলো সাপ্লিমেন্টারি লিস্টে প্রকাশ করা হবে।
