আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভোটের মরশুম মিটতেই ছন্দে ফিরল প্রশাসন। রাজ্য সরকারের কড়া বার্তার পর এবার হাওড়ায় কোমর বেঁধে নামল পুরনিগম। সোমবার হাওড়া পুরসভার ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের শরৎ চ্যাটার্জী রোডে একটি বহুতলের বেআইনি নির্মাণ ভাঙার কাজ শুরু করল প্রশাসন। নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তৈরি হওয়া ওই বহুতলে সোমবার সকাল থেকেই চলে বুলডোজার। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এই অভিযোগের বিষয়ে অবশেষে প্রশাসনের এই 'অ্যাকশন'-এ খুশি এলাকার সাধারণ মানুষ।
পুরনিগম সূত্রে জানা গিয়েছে, শরৎ চ্যাটার্জী রোডের ওই বহুতলটির ক্ষেত্রে মাত্র ‘জি প্লাস ১’ অর্থাৎ দোতলা বাড়ি তৈরির অনুমতি ছিল। কিন্তু সমস্ত নিয়মকে থোড়াই কেয়ার করে সেখানে রমরমিয়ে উঠছিল পাঁচতলা বহুতল। শুধু তাই নয়, রাস্তার মুখে নিয়মমাফিক তিন ফুট জায়গাও ছাড়েননি প্রোমোটার। যার জেরে এলাকায় প্রতিনিয়ত যানজটের সৃষ্টি হচ্ছিল।
দীর্ঘদিন ধরেই এই বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কিন্তু এতদিন কোনও অজ্ঞাত কারণে পুরপ্রশাসন কোনও পদক্ষেপ করেনি বলেই অভিযোগ। অবশেষে নতুন সরকারের কড়া নির্দেশে এদিন সকালেই পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন পুরকর্মীরা। যদিও পুরকর্মীদের দাবি, '‘ভোটের জন্য থমকে ছিল কাজ।"
বহুতলটি ভাঙার দায়িত্বে থাকা পুরনিগমের কর্মী উদয়শঙ্কর পাল জানান, "আমাদের কাছে উপরমহল থেকে ভাঙার স্পষ্ট নির্দেশ এসেছে। বাড়িটির মালিককে ফোন করে ডাকা হলেও তিনি আসেননি। তাই একজন বাসিন্দার উপস্থিতিতেই কাজ শুরু করা হয়েছে। হাওড়ায় অবৈধ নির্মাণ ভাঙার কাজ অনেকদিন ধরেই চলছে। নির্বাচনের কারণে কিছুদিন কাজ স্থগিত রাখতে হয়েছিল। ভোট মিটতেই ফের অভিযান শুরু হয়েছে।"
স্থানীয় বাসিন্দা সোমা কর্মকার জানান, তাঁদের ফ্ল্যাটের প্রায় গা ঘেঁষেই নিয়ম না মেনে তৈরি হচ্ছিল এই বহুতলটি। প্রোমোটারকে বারবার বলা সত্ত্বেও কাজ না থামায়, তাঁরা বাধ্য হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেন। প্রায় তিন মাস আগে হাওড়া পুরনিগমেও লিখিত অভিযোগ জানানো হয়। কিন্তু এতদিন কোনও হেলদোল ছিল না প্রশাসনের। আচমকাই রবিবার পুরসভার তরফে বহুতলটি ভাঙার নোটিশ আসে এবং সোমবার সকাল থেকেই শুরু হয় ভাঙার কাজ।
অন্য এক বাসিন্দা সৈকত চক্রবর্তীর কথায়, "বর্তমানে পুরবোর্ড না থাকায় অনুমোদন দেওয়ার কেউ নেই। তারই ফায়দা তুলে এক থেকে দেড় বছর ধরে এই বেআইনি কাজ চলছিল। নতুন সরকার আসার পরেই এই পদক্ষেপ করা হল। এতে আমরা স্বস্তিতে।"
শহরে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা বেআইনি বহুতল রুখতে যে সরকার এবার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিতে চলেছে, হাওড়ার এই ঘটনা তারই প্রমাণ। স্থানীয়দের দাবি, শুধু একটি বাড়ি নয়, হাওড়ার বিভিন্ন প্রান্তে লুকিয়ে থাকা এই ধরণের সমস্ত অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে এভাবেই যেন ধারাবাহিক অভিযান চালায় পুরনিগম।














