আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের খুনের ঘটনায় প্রথম গ্রেপ্তার সিবিআইয়ের। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, উত্তরপ্রদেশ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে রাজকুমার নামে এক ব্যক্তিকে।
সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, উত্তরপ্রদেশের মুজফফরনগর এলাকার ছাপ্পা টোল প্লাজা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় রাজকুমারকে। সিবিআই সূত্রে খবর, অভিযুক্ত রাজকুমার হরিদ্বার হয়ে দিল্লি পালানোর চেষ্টা করছিলেন।
কিন্তু সিবিআইয়ের চিরুনি তল্লাশি এড়াতে না পেরে ধরা পড়েন তিনি। এরপর দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর সিবিআই রাজকুমারকে গ্রেপ্তার করে।
চন্দ্রনাথ রথ হত্যা মামলায় সম্প্রতি বড় সাফল্য পায় পুলিশও। উত্তরপ্রদেশ থেকে গ্রেপ্তার করা হয় তিন ভাড়াটে শার্প শ্যুটারকে। খুনের পর থেকেই ফেরার ছিল এই আততায়ীরা।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ঘাতকদের পালানোর পথে ব্যবহার করা গাড়ির ‘ফাসট্যাগ’ ট্র্যাক করেই তাদের হদিশ পায় পুলিশ। মূলত টোল প্লাজাগুলোতে গাড়ির যাতায়াতের সময় ও লোকেশন থেকেই পরিষ্কার হয়ে যায় অপরাধীদের গতিপথ।
সেই সূত্র ধরেই হানা দিয়ে উত্তরপ্রদেশ থেকে এই তিনজনকে জালে তোলা হয়। এই গ্রেপ্তারির ফলে চন্দ্রনাথ খুনের নেপথ্যে থাকা আসল মোটিভ এবং আর কে বা কারা জড়িত, তা দ্রুত সামনে আসবে বলে মনে করছে পুলিশ।
সূত্র মারফত জানা গেছে, চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে থাকা বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) রবিবার উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের দুটি জায়গা থেকে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করেছে।
বিহার-উত্তরপ্রদেশ সীমান্তের বক্সার থেকে ময়াঙ্ক শর্মা, ভিকি সিং এবং রাজবীর সিং-সহ আরও দু’জনকে আটক করা হয়। তারপর তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ভবানী ভবনে নিয়ে আসা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, চন্দ্রনাথকে হত্যার আগে ময়াঙ্ক শর্মাই গোটা এলাকা রেইকি (তদারকি) করেছিল। গত ৬ মে রাতে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে নিজের বাড়ির মাত্র ২০০ মিটার দূরে রথকে খুন করা হয়।
তিনি নিজাম প্যালেস থেকে ফিরছিলেন। যেখানে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন তাঁর অফিস ছিল। ঘটনাস্থলেই রথের মৃত্যু হয়, আর তাঁর এসইউভি-র চালক বুদ্ধদেব বেরাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
খুনের রাতে হামলাকারীরা প্রায় সাত কিলোমিটার ধরে চন্দ্রনাথের গাড়িটি তাড়া করেছিল। যে নিখুঁত পরিকল্পনা এবং ক্ষিপ্রতার সাথে এই হামলা চালানো হয়েছে, তাতে পুলিশের সন্দেহ ছিল যে এর পেছনে ভিনরাজ্যের পেশাদার শার্পশুটারদের হাত রয়েছে। সেই সূত্র ধরেই সিট-এর সদস্যরা উত্তরপ্রদেশ, বিহার ও ওড়িশায় পাড়ি দিয়েছিলেন।














