আজকাল ওয়েবডেস্ক: খুনের এক বছর পর গ্রেপ্তার অভিযুক্ত। ধৃতের নাম হুগলির মগড়া থানার অন্তর্গত বাঁশবেড়িয়া এলাকার বৈদ্যনাথ সাহা ওরফে বৈদ্য। তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে মগড়া থানার পুলিশ। ধৃতের বিরুদ্ধে খুন, তোলাবাজি, ভয় দেখিয়ে জমি দখল-সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। গত কয়েক বছরে এই বৈদ্যর প্রতিপত্তি মগড়া অঞ্চলে রীতিমত চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। একাধিক অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কখনও তারঁ টিকি ছুঁতে পারেনি পুলিশ।

গত বছর ২১ মে হটাৎই বাঁশবেড়িয়ার যুবক লক্ষ্মণ চৌধুরী নিখোঁজ হয়। জানা যায় বৈদ্যর জন্য তিনি কাজ করতেন। লক্ষণের পরিবারের তরফে অভিযোগ ওঠে, স্থানীয় একটি ক্লাবে লক্ষণকে খুন করে গঙ্গায় দেহ ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারপর থেকে অনেক খোঁজ করেও মৃতদেহ উদ্ধার হয়নি। 

ঘটনার পরই যুবকের পরিবার বৈদ্য-সহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। ঘটনায় বৈদ্য ছাড়া তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরবর্তী সময় দেখা যায় বৈদ্যর বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করেনি পুলিশ। এলাকায় বহাল তবিয়তে তাকে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। লক্ষণের পরিবারের তরফে এনিয়ে অনেকবার বিক্ষোভ প্রতিবাদ সংগঠিত হয়েছিল। কোনও ফল হয়নি। অবশেষে সেই মামলায় সক্রিয় হল পুলিশ। 

সোমবার মগড়া থানার পুলিশ অভিযুক্ত বৈদ্যকে ঈশ্বর গুপ্ত সেতু থেকে গ্রেপ্তার করে। এদিনই তাঁকে চুঁচুড়া আদালতে পেশ করা হয়। তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য পুলিশের তরফে ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজত চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়েছে। হুগলি গ্রামীণ পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে 'জিরো টলারেন্স' নীতি নেওয়া হয়েছে।

এদিন আদালতে পেশ করা হলে অভিযুক্ত বৈদ্যনাথ সাহাকে ১০ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন জেলা আদালতের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট অসীমানন্দ মণ্ডল। মামলায় সিজেএম লক্ষ্য করেন, মামলার মূল অভিযুক্তকে তদন্তকারী পুলিশ আধিকারিক সাক্ষী হিসেবে দেখিয়েছেন। সঙ্গে সঙ্গেই তিনি পুনরায় ওই মামলার তদন্ত শুরু করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি মামলার তদন্তকারী অফিসারকে বদল করে ইন্সপেক্টর পদধিকারী কোনও পুলিশ আধিকারিককে তদন্তভার দিয়ে দ্রুত তদন্ত শুরু করার নির্দেশ দেন।