রমেন চন্দ্র ভাওয়াল

একজন পড়ুয়ার জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা মাধ্যমিক। জীবন গড়ার অন্যতম প্রথম এবং প্রধান ধাপ এই পরীক্ষা। তবে এর পরবর্তী ধাপটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ-ভবিষ্যতের জন্য সঠিক বিষয় নির্বাচন। তবে এক্ষেত্রে আমরা দীর্ঘকাল ধরে দেখে আসছি, মা-বাবার ইচ্ছা বা অনিচ্ছার উপরেই ছাত্র-ছাত্রীদের বিষয় নির্বাচন করতে হয়। কখনও কখনও বন্ধুদের সান্নিধ্য এর উপর ভিত্তি করেও কেউ কেউ একাদশের বিষয়ে নির্বাচন করে থাকে। আমি ব্যক্তিগত ভাবে মনে করি যে,  বিষয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে ছাত্রছাত্রীদের পূর্ণ স্বাধীনতা থাকা বাঞ্ছনীয়। এক্ষেত্রে অভিভাবক বা শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মতামত জরুরি।  কিন্তু এমন কোনও বিষয় কখনওই নির্বাচন করা উচিত নয় যে বিষয়ে প্রতি পড়ুয়াদের কোনও আগ্রহ বা ভালবাসা নেই।


সমাজে কিছু ভ্রান্ত ধারণা আছে যার ফলে পরবর্তীকালে পড়ুয়াদের অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। যেমন- অনেক মা-বাবাই ভাবেন, সন্তান প্রথম বিভাগে পাশ করেছে, অতএব ছেলে বা মেয়েকে বিজ্ঞান নিয়ে পড়তে হবে। হতে হবে ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার। এই ধরনের ভ্রান্ত ধারণা থেকে বেরিয়ে আসার সময় হয়েছে। একাদশে বিষয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে পড়ুয়াদের যে দিকগুলি মাথায় রাখা উচিত, সেগুলি হল-


১। যে বিষয়ের প্রতি পড়ুয়াদের আগ্রহ এবং ভালোবাসা আছে, সেই বিষয় নির্বাচন করতে হবে।

 
২।পড়ুয়াদের নিজের মেধা নিজেকেই মূল্যায়ন করতে হবে। সেই অনুসারে উচ্চ মাধ্যমিকের জন্য বিষয় বাছাই করতে হবে। 


৩। বিষয় নির্বাচনের আগে যারা আগে সে সমস্ত বিষয় পড়েছে, তাদের থেকে মতামত গ্রহণ করতে হবে। 


৪। অন্য কোন ব্যক্তি বা পরিবারের চাপে কখনও বিষয় নির্বাচন করা উচিত নয়।  


৫। বাড়ির কাছাকাছি কোন কোন বিদ্যালয়ে কী কী বিষয় একাদশ শ্রেণীতে পড়ানো হয়, তার খোঁজ নিতে হবে। 


বর্তমান যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ বেশ কিছু বিষয় চালু করেছে। বিষয়গুলি পড়ুয়াদের জন্য যুগোপযোগী এবং কর্মক্ষেত্রে সুযোগ বৃদ্ধি করবে।।যুগোপযোগী কিছু বিষয়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল -অ্যাপ্লায়েড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সি (আপাই), মডার্ন কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন (কোমা), কম্পিউটার সাইন্স (কোমস), সাইবার সিকিউরিটি (সিবিএসটি), আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সি অ্যান্ড ডেটা সাইন্স (এইডস), নিউট্রিশন (এনইউটিএন), ইকোনমিক্স (ইকন) এবং স্ট্যাটিস্টিকস (স্ট্যাট)। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সমস্ত বিষয়ের পাঠ্যসূচি সাজানো হয়েছে। 


বর্তমানে বাণিজ্য বিভাগ থেকে বহু পড়ুয়াই এখন বিসিএ, বিবিএ বা ম্যানেজমেন্ট করে জীবনে  প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। তার সঙ্গে সঙ্গে কলা বিভাগ থেকেও এখন বিভিন্ন ধরনের ম্যানেজমেন্ট কোর্সে যাওয়া যায়। বিজ্ঞান না পড়েও বহু পড়ুয়া কলা বা বাণিজ্য বিভাগ থেকে পড়াশোনা করেও সফল। কোনও না কোনও সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় চাকরিরত। তবে যে কোনও বিষয় নিয়ে পড়ার ক্ষেত্রে মেধা এবং ইচ্ছেশক্তির মধ্যে যোগসূত্র থাকতে হবে।


সর্বোপরি, পড়ুয়াদের কাছে আমার আবেদন, মোবাইল নামক যন্ত্রটি শিক্ষার সহায়ক। কিন্তু এই যন্ত্রের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি প্রথাগত শিক্ষা ব্যবস্থাকে যেন কোনওভাবে বিঘ্নিত না করে সেদিকে পড়ুয়াদের সজাগ দৃষ্টি থাকা প্রয়োজন।

 

(লেখক পান্নালাল ইনস্টিটিউশনের প্রধানশিক্ষক)