অজন্তা চৌধুরী

 

মাধ্যমিকের ফল আর কয়েকদিনের মধ্যেই প্রকাশিত হবে। যাদের ফল ভাল হবে, তাদের আগাম অভিনন্দন এবং শুভেচ্ছা।

তবে যাদের ফল আশানুরূপ হবে না, তাদের হতাশায় ভেঙে পড়লে চলবে না। খারাপ ফল মানেই জীবনের সব রাস্তা বন্ধ—এই ধারণা একেবারেই ভুল। বর্তমানে তাদের জন্য বেশ কিছু বিকল্প রয়েছে। তাদের শুধু ভাবনার পরিসরটা একটু বড় করতে হবে।

 

প্রথমেই সেই পড়ুয়াদের নিয়ে কথা বলা যাক, যাদের আগ্রহ বিজ্ঞানের বিষয়গুলিতে। তাদের ক্ষেত্রে বিজ্ঞান নিয়ে উচ্চশিক্ষার বিকল্প হতে পারে ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং (পলিটেকনিক)। পলিটেকনিকের এই কোর্সটি তিন বছরের। এর মাধ্যমে ঘুরপথে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তারা পরবর্তীকালে সরাসরি বিটেক কোর্সে ভর্তি হতে পারে।

 

দ্বিতীয় বিকল্প হতে পারে বায়োসায়েন্স। মাধ্যমিকে প্রাপ্ত নম্বর কম হলেও উচ্চমাধ্যমিকে এই বিষয় নিয়ে উচ্চশিক্ষা করা যায়। পরবর্তীকালে প্রয়োজনীয় প্রবেশিকায় উত্তীর্ণ হয়ে পড়া যায় নার্সিং, ফিজিওথেরাপি, রেডিয়োলজি, মেডিকেল ল্যাব টেকনোলজি, প্যারামেডিকেল-এর মতো বিষয়। সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলিতে স্নাতক, স্নাতকোত্তর ছাড়াও ডিপ্লোমা করা যায়।

 

মাধ্যমিকের পর কলা বা হিউম্যানিটিজ বিভাগে ভর্তি মানেই তাদের জীবনে আর কিছু হওয়ার নেই- অনেকেরই এমন ধারণা। তবে তা একেবারেই সঠিক নয়। প্রাপ্ত কম নম্বর হলেও এক্ষেত্রে এই শাখা সম্ভাবনাময়। এ ছাড়া, বর্তমান দুনিয়ায় কলা বিভাগের পড়ুয়াদের জন্যেও রয়েছে একাধিক সুযোগ। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—নিজের আগ্রহ সঠিক ভাবে বোঝা এবং ভবিষ্যতে কে কী করতে চায়, সে বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা।

 

কোন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা করলে ভবিষ্যতে কর্মসংস্থানের সুযোগ কেমন? তার হদিশ রইল—

 

১। ইতিহাস: ইতিহাস ভাল লাগলে এই বিষয়টি উচ্চশিক্ষা করা যেতে পারে। যা পরবর্তীকালে শিক্ষকতা, গবেষণা, প্রত্নতত্ত্ব ও সিভিল সার্ভিসেসের কাজে যোগ দেওয়ার সুযোগ তৈরি করে।

২। ভূগোল: ভূগোলের মতো প্রচলিত বিষয়ে শিক্ষকতা, গবেষণার কাজের সুযোগ থাকে। তেমনি ভবিষ্যতে পরিবেশ নিয়ে চর্চা, নগর পরিকল্পনার মতো পেশাও বেছে নেওয়া যায়।

৩। রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাজনীতির খুঁটিনাটি থেকে প্রশাসনিক ব্যবস্থা- সবেরই হদিশ মেলে রাষ্ট্রবিজ্ঞান পড়ে। বেছে নেওয়া যায় আইন, সিভিল সার্ভিস, সাংবাদিকতা শিক্ষকতার পেশা।

৪। সমাজতত্ত্ব: সমাজসেবা, গবেষণা ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থায় কাজের জন্য উচ্চশিক্ষা করতে হয় সমাজতত্ত্ব বিষয়ে।

৬। মনোবিজ্ঞান: মানুষের মনের কাজকর্ম বোঝা—এই বিষয়টা এখন খুব জনপ্রিয়। পরে কাউন্সেলিং, মানসিক স্বাস্থ্য ও মানবসম্পদ বিভাগে কাজের সুযোগ আছে।

৭। ভাষা (বাংলা/ইংরেজি): ভাষা নিয়ে পড়লে শিক্ষকতা, লেখালেখি, অনুবাদ ও সাংবাদিকতায় কেরিয়ারে বেছে নেওয়া যায়।

এছাড়া দর্শন, শিক্ষাবিজ্ঞান, গৃহ ব্যবস্থাপনা ও পারিবারিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা, পুষ্টিবিজ্ঞান ইত্যাদি বিষয়েরও বর্তমানে চাহিদা রয়েছে।

 

তবে বৃত্তিমূলক বিষয় নিয়ে ভর্তি হওয়া যায়। যেমন—আইটি (কম্পিউটার, প্রোগ্রামিংয়ের বেসিক), ইলেকট্রিশিয়ান, বিউটি অ্যান্ড ওয়েলনেস, হোটেল ম্যানেজমেন্ট (প্রাথমিক স্তর), অ্যানিমেশন বা গ্রাফিক ডিজাইন। এ ধরনের কোর্সে দ্রুত চাকরির বা নিজস্ব ব্যবসা শুরু করার সুযোগ মেলে।

 

তবে পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের দক্ষতাও বাড়ানো খুব জরুরি, যেমন—গান, নাচ, বিদেশি ভাষা শেখা ইত্যাদি। এই সমস্ত বিষয়ে ভবিষ্যতে জীবিকা অর্জনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

 

সবশেষে মনে রাখতে হবে, মাধ্যমিকের নম্বর কখনওই প্রকৃত যোগ্যতা নির্ধারণ করে না। অনেক সফল মানুষ স্কুলজীবনে খুব বেশি নম্বর না পেলেও কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে পরবর্তীকালে জীবনে বড় সাফল্য অর্জন করেন- এমন বহু দৃষ্টান্ত রয়েছে।

 

(লেখিকা যোধপুর পার্ক গার্লস উচ্চ বিদ্যালয়ের সহ-প্রধানশিক্ষিকা)