আজকাল ওয়েবডেস্ক: দীর্ঘ ১৫ বছর পর বামফ্রন্টের দৈনিক মুখপত্র ‘গণশক্তি’র পাতায় ফিরল রাজ্য সরকারের বিজ্ঞাপন। শনিবার ব্রিগেডে আয়োজিত শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের খবরটি গণশক্তিতে প্রকাশিত হয়েছে একটি পূর্ণ পৃষ্ঠার বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে। এছাড়াও ভেতরের পাতায় দেওয়া হয়েছে বাইশে শ্রাবণের বিজ্ঞাপন। ২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর থেকেই গণশক্তিতে রাজ্য সরকারের সমস্ত বিজ্ঞাপন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। দীর্ঘ দেড় দশক পর রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রথম দিনেই এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তুমুল চর্চা শুরু হয়েছে।
আজ ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। এই বিশেষ দিনটিকে সামনে রেখেই রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ঘটনাটি রাজ্যের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির এক বড় ইঙ্গিত। সিপিআই(এম) নেতা মহম্মদ সেলিমের মতে, গণশক্তিতে সরকারি বিজ্ঞাপন আসা কোনও ব্যতিক্রম নয়, বরং এটাই হওয়া উচিত। এতদিন অনৈতিকভাবে যে বঞ্চনা করা হয়েছে, এটি তার অবসান। তবে বিজেপি কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষেত্রে অতীতে যে পক্ষপাতিত্ব দেখিয়েছে, তা যেন রাজ্যে না ঘটে সেই বিষয়েও তিনি সতর্কবার্তা দিয়েছেন।
গণশক্তি কর্তৃপক্ষ এবং সিপিআই(এম) নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এই বিজ্ঞাপন গ্রহণকে যৌক্তিকভাবেই দেখা হচ্ছে। তাঁদের দাবি, গণশক্তি কেবল একটি রাজনৈতিক দলের কথা বলে না, এটি খেটে খাওয়া মানুষের অধিকারের পক্ষে লড়াই করা একটি প্রথাগত দৈনিক সংবাদপত্র। সরকারি বিজ্ঞাপন কোনো দলের নিজস্ব অর্থ নয়, বরং সাধারণ মানুষের করের টাকায় দেওয়া হয়। সংবাদপত্রের নীতি অনুযায়ী, কেন্দ্র বা রাজ্য নির্বিশেষে যেকোনো সরকার বিজ্ঞাপন পাঠালে তা ছাপানোই স্বাভাবিক। এমনকি আইনি বাধ্যবাধকতার কারণেও নির্দিষ্ট বিজ্ঞাপন প্রত্যাখ্যান করলে সংবাদপত্রের তালিকা থেকে বাদ পড়ার সম্ভাবনা থাকে। সম্পাদক শমীক লাহিড়ী স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, "এটি একটি সরকারি বিজ্ঞাপন। এর সঙ্গে বিজেপি-র সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধিতার কোনও সম্পর্ক নেই। যার প্রতিফলন গনশক্তির খবরেই পাওয়া যাবে। এতদিন মমতার সরকার কোনও বিজ্ঞাপন দিতে চাইত না। এই নিয়ে কোর্টে মামলাও হয়। হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে এ বার আমরা এতদিন পর সেই বিজ্ঞাপন পেয়েছি।"
অন্যদিকে, বিজেপি নেতৃত্বের তরফেও এক নতুন প্রশাসনিক বার্তার কথা শোনা যাচ্ছে। সূত্রের খবর, ক্ষমতার পরিবর্তনের পর বিজেপির শীর্ষ স্তর থেকে প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে কোনো সংবাদমাধ্যমকেই যেন দলীয় রং দেখে বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্র থেকে বঞ্চিত না করা হয়। সংবাদমাধ্যমের জন্য একটি ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ তৈরি করাই তাঁদের লক্ষ্য। উল্লেখ্য, তৃণমূল জমানায় বিজ্ঞাপন না পেয়ে গণশক্তি চরম আর্থিক সংকটে পড়েছিল। এ নিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থও হয়েছিল আলিমুদ্দিন। সে সময় আদালত পর্যবেক্ষণ দিয়েছিল যে সব সংবাদপত্রকে সমান চোখে দেখা উচিত, যদিও তৃণমূল সরকার সেই নির্দেশ আমল দেয়নি। এবার শুভেন্দু অধিকারীর শপথগ্রহণের হাত ধরে গণশক্তির আর্থিক ও প্রশাসনিক অচলাবস্থা কাটার সম্ভাবনা দেখছেন বাম কর্মীরা। একইসঙ্গে বাম শিবিরের পক্ষ থেকে মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, গণশক্তি একটি দৈনিক সংবাদপত্র হলেও দলের মূল তাত্ত্বিক মুখপত্র ‘দেশহিতৈষী’ বা ‘পিপলস ডেমোক্রেসি’, যেখানে এই ধরণের বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হয় না। সব মিলিয়ে, দেড় দশক পর গণশক্তিতে সরকারি বিজ্ঞাপন রাজ্যের রাজনীতির এক নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।















