আজকাল ওয়েবডেস্ক: বাড়ির নেশাগ্রস্ত ছেলেকে সুস্থ করতে অভিভাবকরা রিহ্যাব সেন্টারে (detoxification centre) ভর্তি করেছিলেন। ছেলে তো ভালো হয়ইনি। উল্টে তাঁদের সকাল-বিকেল বেধড়ক মারধর করা হচ্ছিল। ঠিকমতো খেতেও দেওয়া হচ্ছিল না। অবশেষে রাতের অন্ধকারে প্রতিষ্ঠানের সদর দরজা ভেঙে ২২ জন আবাসিক সেখান থেকে পালিয়ে গেলেন। শনিবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়ায়। আবাসিকদের অভিযোগ, নেশামুক্তি কেন্দ্রের কর্মীরা প্রায়ই তাঁদের মারধর করেন। প্রাণে বাঁচতে তাঁরা সেখান থেকে পালিয়েছেন। যদিও কর্তৃপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হাবড়ার ফুলতলা এলাকায় কয়েক বছর আগে ওই নেশামুক্তি কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। পার্শ্ববর্তী এলাকার নেশাগ্রস্থ যুবকদের সেখানে রেখে চিকিৎসা করা হয়। ওই নেশামুক্তি কেন্দ্রে ৪৫ জন আবাসিক ছিলেন। পরিবারের লোকেরা তাঁদের চিকিৎসার জন্য প্রতি মাসে টাকা দেন। অভিযোগ, বাড়ির লোকেরা টাকা দিলেও আবাসিকদের ঠিকমতো খেতে দেওয়া হয় না। প্রয়োজনীয় ওষুধও দেওয়া হয় না। রাতের দিকে লাউড স্পিকারে জোরে গান বাজিয়ে প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা আবাসিকদের মারধর করেন। বাড়ির লোকেদের সঙ্গে আবাসিকদের কখনও দেখা করতে দেওয়া হয় না। অবশেষে অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে শনিবার রাতে প্রতিষ্ঠানের দরজা ভেঙে ২২ জন আবাসিক পালিয়ে গিয়েছেন। তাঁদের বেশিরভাগ অবশ্য বাড়ি ফিরে গিয়েছেন। কয়েকজনের এখনও খোঁজ পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এবার প্রথম নয়, আগেও ওই নেশামুক্তি কেন্দ্রের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ ছিল। চিকিৎসার নামে নেশাগ্রস্ত যুবকদের পরিবারকের কাছ থেকে বিপুল টাকা আদায় করা হয়। বাসিন্দাদের দাবি, প্রশাসন অবিলম্বে তদন্ত করে ওই প্রতিষ্ঠানে বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিক।
ওই নেশামুক্তি কেন্দ্রের কর্ণধার শান্তনু নন্দী বলেন, 'আমাদের প্রতিষ্ঠানে কখনও কোনও আবাসিককে মারধর করা হয় না। প্রত্যেকটি ঘরে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো আছে। যে কেউ চাইলে তা দেখে নিতে পারেন। আমাদের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মিথ্যে অভিযোগ করা হয়েছে।'
নেশামুক্তি কেন্দ্র থেকে আবাসিকদের পালানোর খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তদন্তকারী আধিকারিকরা কথা বলেন। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
