আজকাল ওয়েবডেস্ক: আর মাত্র কয়েকঘন্টা। সোমবারই বাংলার ভোটের ফলপ্রকাশ। মমতা সরকারের প্রত্যাবর্তন নাকি পরিবর্তন? পাল্লা ভারী কার? তুঙ্গে এই চর্চা। এসবের মধ্যেই তৃণমূল নেত্রীর প্রতি এলো অভিনন্দনবার্তা। বড় ভবিষ্যদ্বাণী করলেন সমাজবাদী সুপ্রিমো অখিলেশ যাদব। গণনার আগের দিনই জানিয়ে দিলেন এবার পশ্চিমবঙ্গের ভোটে তৃণমূল কংগ্রেস ক'টা আসন পেতে চলেছে।

বঙ্গের ভোটগণনায় এবার ১৬৫ জন পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছে কমিশন। এই সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রস্ন তুলেছে তৃণমূল। এই ইস্যুতেই রবিবার সরব হয়েছেন উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদবও। ফলতায় পুনর্নির্বাচন নিয়েও সোচ্চার হয়েছেন সমাজবাদী প্রধান। এক্স প্ল্যাটফর্মে অখিলেশ লিখেছেন, 'বিজেপি হলো মিথ্যার এক সোনালি প্রলেপ! তারা একের পর এক মিথ্যার স্তূপ গড়ে তোলে। বাংলার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্তটিই প্রমাণ করে যে, বিজেপি তাদের চরম লজ্জাজনক পরাজয় থেকে মুখ লুকানোর জন্য একটি অজুহাত খুঁজছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন এবং টিভি সম্প্রচারের ওপর ভিত্তি করেই নির্বাচন কমিশন এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। সাধারণ মানুষ এখন প্রশ্ন তুলছেন: এর অর্থ কি এই যে, সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা ভোটকেন্দ্রের একেবারে ভেতরেও প্রবেশাধিকার পেয়েছিলেন? নিয়ম অনুযায়ী যা সম্পূর্ণ অসম্ভব—বিশেষ করে যখন কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করে প্রতিটি বুথকে দুর্ভেদ্য দুর্গে পরিণত করা হয়েছিল। নির্বাচন কমিশন এমনকি ‘বুথ দখল’-এর মতো তথাকথিত আশঙ্কার কথাও প্রকাশ করেছে—এর অন্তর্নিহিত অর্থ হলো, সেখানে নিযুক্ত পর্যবেক্ষকদের ভূমিকাও সন্দেহের ঊর্ধ্বে নয়; তাই সবার আগে তাঁদেরই বরখাস্ত করা উচিত। সাধারণ মানুষ এ কথাও বলছেন যে, যদি সত্যিই কোনও অনিয়ম ঘটে থাকে, তবে এই পুনর্নির্বাচনের যাবতীয় খরচ সেইসব সরকারি আধিকারিকদের বেতন-ভাতা থেকেই আদায় করা উচিত—যাদের অবহেলা, দুর্নীতিপরায়ণ আচরণ কিংবা অন্যান্য অবাঞ্ছিত কার্যকলাপের কারণেই এমন পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে। যাই হোক, সাধারণ মানুষ ভালো করেই জানেন যে, যদি সত্যিই এমন কোনো ঘটনা ঘটে থাকত, তবে এতক্ষণে তার শত শত ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ্যে চলে আসত—এটি আসলে বিজেপির সাজানো মিথ্যারই আরেকটি নতুন স্তর মাত্র।'

এরপরই এক্স অ্যাকাউন্টে অখিলেশ লিখেছেন, 'বিজেপি যতই ষড়যন্ত্রের জাল বুনুক না কেন, রাজ্যের মানুষ ইতিমধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেসকে ২৩৪টি আসনে এগিয়ে দিয়েছেন। নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে কারসাজি করার জন্য বিজেপির প্রতিটি অপচেষ্টাই তৃণমূল কংগ্রেসের সজাগ ও সতর্ক কর্মীদের দ্বারা নস্যাৎ করে দেওয়া হবে। আমাদের সচেতন কর্মীদের প্রতি আমাদের আহ্বান হলো: যতক্ষণ না জয়ের প্রমাণ হাতে আসছে,
ততক্ষণ সতর্ক থাকুন - তার আগে কোনও বিশ্রাম নয়!'