মিল্টন সেন, হুগলি: "ক্ষমতায় এলে বুলডোজার চলবে!" সম্প্রতি এমন হুঁশিয়ারি শোনা গেছে বিজেপির একাধিক নেতৃত্বের মুখে। জনসভা থেকে স্বয়ং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বলেছেন, "ওরা জিতলে বুলডোজার চলবে। যেমন যোগী রাজ্যে চলে।" নির্বাচনী প্রচারে বারবার ঘুরে ফিরে নানা রাজনৈতিক দলের বক্তব্যে উঠে এসেছে বুলডোজারের নাম। কার্যত হলও তাই। ভোট গণনার আগেই গভীর রাতে রেল কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে পান্ডুয়ায় বুলডোজার চলল। ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হল একাধিক গরীব নিরীহ মানুষের বাড়ি। কয়েক ঘণ্টার তাণ্ডবে গৃহহীন হলেন শতাধিক মানুষ। নাজেহাল একাধিক পরিবার।
ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার গভীর রাতে হুগলির পান্ডুয়া রেলপাড় এলাকায়। এদিন রাতে হঠাৎই উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে রেল। রাতের অন্ধকারে শুরু হয় জেসেবির তাণ্ডব। ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় একাধিক ছোট বড় বাড়ি, দোকান-সহ সব কিছুই।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন ঘোষণার আগেই রেলের তরফে রেলপাড়ের বাসিন্দাদের উচ্ছেদ করার নোটিশ জারি করা হয়েছিল। তবে সেই সময় কোনও ভাঙচুর বা উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়নি। এরপর ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোটের পরের দিনই রেল কর্তৃপক্ষের তরফে আবার নতুন করে নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশে জানানো হয়, এক দিনের মধ্যে রেলপাড়ের বস্তি এলাকা খালি করে দিতে হবে। এই স্বল্প সময়ের মধ্যে বেশ কয়েকজন দ্রুততার সঙ্গে তাঁদের দোকান এবং ঘরবাড়ি খালি করে দেয়। কিন্তু অনেকেই তা পেরে ওঠেননি। খুঁজে পাননি বিকল্প আশ্রয়। তাই এদিন রাতে হঠাৎ করেই উচ্ছেদ অভিযান শুরু হলে বিপাকে পড়েন সেই সব মানুষজন। আচমকা আশ্রয়হীন হয়ে পড়েন তাঁরা। কি করবেন? কোথায় যাবেন? জানা নেই তাঁদের। বহু মানুষের চোখে জল। অনেকে রাস্তায় বসেই প্রতিবাদ জানাতে থাকেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, “ভোটের আগে তাঁদের উচ্ছেদ করা হয়নি। কারণ, তখন তাঁদের ভোটটা দরকার ছিল। এখন ভোট শেষ। তাঁদের প্রয়োজনও ফুরিয়েছে। তাই তড়িঘড়ি উচ্ছেদ চালানো হচ্ছে। তাঁদের দাবি, কয়েকদিন সময় দিলে, তাঁরা অন্তত বিকল্প একটা ব্যবস্থা করে নিতে পারতেন। বহু বছর ধরে ওই এলাকার বাসিন্দা। তাই গৃহহীন পরিবারগুলির ভবিষ্যতের পাশাপাশি তাঁদের ন্যায্য পুনর্বাসনের দাবী নিয়ে চলছে আন্দোলন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। যদিও রেল কর্তৃপক্ষের তরফে এখনও পর্যন্ত এই প্রসঙ্গে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এলাকায় উত্তেজনা থাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী।















