বুধবার ২৪ এপ্রিল ২০২৪

সম্পূর্ণ খবর

EXCLUSIVE: সিরিয়াল, ট্রোল এবং... দেদার কদর্য ট্রোল কীভাবে দেখছে সিরিয়াল পাড়া?

পরমা দাশগুপ্ত | ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ১৯ : ৪১


আঙুলের নাগালে সোশ্যাল মিডিয়া। আর তাতে ইচ্ছেমতো লেখার স্বাধীনতা। অতএব, চলো পানসি… যার হাত ধরে ইদানীং ট্রোল করাটাই ট্রেন্ডিং। সিনেমা পছন্দ হয়নি? দাও লিখে! সিরিয়ালের প্রোমো দেখে চোখ কপালে? ব্যস! কয়েকটা লাইন টাইপ। আর তার পরেই চড়চড়িয়ে বাড়তে থাকা লাইক শেয়ারের খেল।  ফেসবুক কিংবা ইনস্টাগ্রামে সিরিয়াল কিংবা সিনেমার প্রোমো, বাছাই করা দৃশ্য পোস্ট হয় প্রচারের স্বার্থেই। তার পরেই কমেন্টের বন্যা। প্রশংসার পোস্ট যেমন থাকে তাতে, তেমনই থাকে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ-তাচ্ছিল্য। আর তাতে নির্মাতারা ক্রমশ অভ্যস্তও হয়ে উঠছেন গত কয়েক বছরে।  

কিন্তু গোল বাধাচ্ছে অন্য একটা বিষয়। সমালোচনার নামে ইদানীং কুরুচিকর কমেন্টে ভরিয়ে দেওয়ার প্রবণতাই যেন বেশি। কোনও সিরিয়াল নিয়ে একবার ট্রোল শুরু হলেই ধেয়ে আসছে একই ধরনের একের পর এক পোস্ট। ট্রেন্ডিং তালিকায় জায়গা করে নিতেও সময় নিচ্ছে না বিশেষ। উঠে আসছে সংবাদমাধ্যমের ছোট-বড় পোর্টালের খবর হয়েও।  সম্প্রতি যে ধারাবাহিকগুলি ঘিরে সবচেয়ে বেশি ট্রোল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়, সেই তালিকায় অন্যতম ‘কার কাছে কই মনের কথা’ কিংবা ‘ইচ্ছেপুতুল’। তার

গল্প, চরিত্রদের দিকে ধেয়ে আসা কুরুচিকর মন্তব্যের বন্যা কি স্পর্শ করে লেখিকা-চিত্রনাট্যকার লীনা গঙ্গোপাধ্যায়কে?

কলকাতার অন্যতম প্রযোজনা সংস্থা ম্যাজিক মোমেন্টস মোশন পিকচার্সের কর্ণধার লীনা মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সনও বটে। ট্রোলের বিদ্রুপ সে পরিচয়টাকেও ছাড় দেয় না মাঝেমধ্যেই। সোশ্যাল মিডিয়ার এই অন্য রকম চেহারা নিয়ে লীনা বলেন, “আমি এই সব ট্রোল ফলো করি না। কানে আসে ঠিকই, কিন্তু সব কিছুই কি আর গুরুত্ব দিতে হয়? যে বা যাঁরা এসব করছেন, সেটা তাঁদের রুচি। তার সঙ্গে আমার রুচির মিল না থাকলে গুরুত্ব দেওয়া জরুরিও নয়। যাঁদের হাতে অনেক সময়, সাধারণত তাঁরাই এসব করেন। তবে সিরিয়ালগুলোও নিশ্চয়ই দেখেনও, না হলে এত ব্যাখ্যা দেন কী করে? কিন্তু ভেবে দেখুন, কমেন্টে কুরুচির পরিচয় দিলে অন্যদের কাছে নিজের ভাবমূর্তি কোথায় গিয়ে দাঁড়াচ্ছে! নিজে কাজ করলে অন্যের কাজকে সম্মান দেওয়াটাও জরুরি।” সেই সঙ্গেই লীনার সংযোজন, “সবাইকে ভেবে দেখতে অনুরোধ করছি, কোভিড-লকডাউনের দিনগুলোর কথা। বিনোদন মাধ্যম হিসেবে একমাত্র সিরিয়ালের কাজই কিন্তু চলছিল। এর সঙ্গে জুড়ে থাকা অসংখ্য মানুষের রুজিরুটির বন্দোবস্ত হচ্ছিল। যাঁরা ট্রোল করেন, সিরিয়াল বন্ধ হয়ে গেলে তাঁরা এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এতগুলো মানুষের রোজগারের ব্যবস্থা করতে পারবেন তো?”

শহরের আর এক নামী প্রযোজনা সংস্থা অ্যাক্রোপলিস এন্টারটেনমেন্ট। কদর্য ট্রোলের এই ধারা নিয়ে কী বলছেন তার কর্ণধার স্নিগ্ধা বসু? তাঁর সটান দাবি, “যাঁরা ট্রোল করেন, তাঁরা স্রেফ সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রোমো বা এক-আধটা দৃশ্য দেখেই মন্তব্য করে ফেলেন। পুরো পর্ব দেখলে হয়তো বুঝতেন যে দৃশ্য নিয়ে লিখছেন, সেটা গল্পে জরুরি ছিল কিনা। সেটা জেনে তবেই মন্তব্য করা ভাল নয় কি? সিরিয়ালের গল্প তো ছাপ্পান্ন ভোগের মতো। তেতো থেকে শুরু করে মিষ্টি, সবই থাকতে হবে তাতে। কোনটা কখন জরুরি, সেটা লেখক বা নির্মাতারা বোধহয় ভাল বোঝেন। তা ছাড়া, কোনও সিরিয়ালের কোনও একটা বিষয়বস্তু অপছন্দ হয়েছে, তা নিয়ে কেউ খারাপ মন্তব্য করতেই পারেন। কিন্তু সেই সিরিয়ালেরই একটা পর্ব খুব ভাল লাগলে সেটাও লিখুন। যাঁর গল্প নিয়ে আজ একটা কদর্য মন্তব্য করে ফেললেন, তাঁর আগের সিরিয়ালটাই হয়তো আপনার মনের মতো ছিল। সমালোচনা করুন, কিন্তু প্রশংসার বেলায় ভুলে গেলে চলবে?” এই প্রসঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্নিগ্ধা। তাঁর কথায়, “সোশ্যাল মিডিয়া তৈরি হয়েছিল মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগ বাড়িয়ে দুনিয়ার পরিধিটাকে ছোট করে আনতে। লেখার স্বাধীনতা আছে বলে, ভাইরাল হতে গিয়ে যা খুশি লিখে ফেলে সোশ্যাল মিডিয়ার ভাল দিকটাকেই লোকে ছোট করে ফেলছে!”



বিশেষ খবর

নানান খবর

WORLD BOOK and COPYRIGHT DAY #aajkaalonline #WorldBookandCopyrightDay

নানান খবর

সোশ্যাল মিডিয়া