বুলগেরিয়ার বিখ্যাত অন্ধ ভবিষ্যদ্রষ্টা বাবা ভাঙ্গা দীর্ঘদিন ধরেই রহস্য, কৌতূহল ও বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু। ১৯১১ সালে জন্ম নেওয়া ভাঙ্গা ১৯৯৬ সালে মৃত্যুবরণ করেন, কিন্তু তাঁর কথিত ভবিষ্যদ্বাণী নিয়ে আলোচনা থামেনি।
2
12
অনেকেই বিশ্বাস করেন ভাঙ্গা ভবিষ্যৎ দেখতে পারতেন, যদিও বৈজ্ঞানিকভাবে কোনওকিছুই প্রমাণিত নয়। বিশেষ করে ২০২৬ সাল নিয়ে তাঁর ভবিষ্যদ্বাণী বিশ্বকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে।
3
12
বিভিন্ন সূত্র, বই ও জনপ্রিয় আলোচনায় দাবি করা হয় যে বাবা ভাঙ্গা ২০২৬ সালে একটি বড় বিশ্বব্যাপী সংঘাত বা বিবাদের কথা বলেছিলেন। এটি বিশ্বের রাজনৈতিক ভারসাম্য নড়িয়ে দেবে।
4
12
কিছু বিবরণে বলা হয় “ইউরোপ ভেঙে পড়বে”, আবার কোথাও উল্লেখ করা হয় “বড় শক্তিদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ” ঘটবে। এসব সূত্র মনে করে যে ভাঙ্গা বিশ্ব পরিবর্তন ও আন্তর্জাতিক অস্থিরতার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
5
12
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল এই ধরনের ভবিষ্যদ্বাণী যাচাইযোগ্য নয়। তাঁর কোনও কথিত ভবিষ্যদ্বাণীর লিখিত সরকারি রেকর্ডও নেই। ফলে এগুলো মূলত মৌখিক বর্ণনা, বইয়ের পুনর্নির্মাণ এবং জনপ্রিয় বিশ্বাসের উপর দাঁড়িয়ে থাকে।
6
12
তা সত্ত্বেও তাঁর ২০২৬ ভবিষ্যদ্বাণী নিয়ে বিশ্বে আলোড়ন পড়েছে। বিশেষ করে যখন রাজনীতি, যুদ্ধ, জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সংকট ইত্যাদিতে অস্থিতিশীলতা দেখা যায়।
7
12
বাবা ভাঙ্গাকে ঘিরে আরও অনেক দাবি রয়েছে, যেমন ৯/১১ হামলা নিয়ে আগাম সতর্কতা দিয়েছিলেন বলে অনেকে দাবি করেন। চেরনোবিল বিপর্যয়, সুনামি, আইসিসের উত্থান এবং ব্রেক্সিট সম্পর্কেও নাকি আন্দাজ করেছিলেন।
8
12
ভবিষ্যতে বিজ্ঞান-প্রযুক্তির উন্নয়ন, মহাকাশ গবেষণা এবং মানব সভ্যতার রূপান্তর সম্পর্কেও তাঁর নামে অনেক ‘প্রেডিকশন’ শোনা যায়। যদিও এসব দাবির বিরুদ্ধে বড় সমালোচনা রয়েছে। গবেষকরা বলেন—এসবই পরে মিলিয়ে দেওয়া দাবি, স্পষ্ট প্রমাণ নেই।
9
12
বাবা ভাঙ্গার জনপ্রিয়তার পেছনে আংশিক কারণ তাঁর জীবনের গল্প। শৈশবে চোখের দৃষ্টি হারানোর পর তিনি নাকি “দ্বিতীয় ইন্দ্রিয়” অর্জন করেন—এমনটিই তাঁর অনুসারীদের ধারণা। মৃত্যুর পর তাঁর নামে অসংখ্য বই, ডকুমেন্টারি ও অনলাইন আলোচনার ঝড় উঠে।
10
12
তবে বিজ্ঞানী, ইতিহাসবিদ ও গবেষকরা সতর্ক করে বলেন,ভবিষ্যদ্বাণীর কোনও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। তারিখ বা ঘটনাবলী প্রায়ই অস্পষ্ট বা ব্যাখ্যাসাপেক্ষ। পরবর্তীকালে মিলিয়ে নেওয়ার নীতি ব্যবহার করা হয়। অর্থাৎ ঘটনা ঘটার পরই ভবিষ্যদ্বাণীকে সাজিয়ে মিলিয়ে দেওয়া হয়।
11
12
বাবা ভাঙ্গার ২০২৬-এর কথিত ‘চিলিং’ ভবিষ্যদ্বাণী আজও জনপ্রিয় কৌতূহল ও বিতর্কের বিষয়। যদিও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ বা যাচাইয়ের সীমাবদ্ধতা রয়েছে, জনপ্রিয় সংস্কৃতি, ষড়যন্ত্র তত্ত্ব, ও মানব মনের রহস্যপ্রিয়তার কারণে তাঁর নাম এখনও শক্তিশালী প্রভাব রাখে।
12
12
ভবিষ্যত কি সত্যিই বাবা ভাঙ্গা দেখেছিলেন? নাকি সময়ের সাথে মিথ, কল্পনা ও মানুষের ভয় মিলে তাঁর চারপাশে একটি রহস্যমণ্ডিত চরিত্র গড়ে তুলেছে? উত্তর এখনও অস্পষ্ট—কিন্তু আলোচনার কেন্দ্রে বাবা ভাঙ্গা রয়েছেন, এবং মনে হয় অনেক দিনই থাকবেন।