প্রেম, যৌনতা ও দাম্পত্য: অমিলের মাঝেই লুকিয়ে আছে মিল, কোন দুই রাশির?
নিজস্ব সংবাদদাতা
১১ জানুয়ারি ২০২৬ ১৫ : ১৮
শেয়ার করুন
1
6
কুম্ভ আর কর্কট- সাধারণভাবে এই দু’টি রাশিকে একসঙ্গে ভাবা হয় না। জ্যোতিষ অনুযায়ী কুম্ভ ও কর্কট একে অপরের থেকে ১৫০ ডিগ্রি দূরে, যাকে বলা হয় ‘কুইনকাঙ্কস’- মানে এমন এক যোগ, যেখানে স্বাভাবিক মিল খুব কম। কিন্তু একটু গভীরভাবে ভাবলে দেখা যায়, কুম্ভ জলবাহক আর কর্কট নিজেই জলরাশি, ফলে একটা যোগাযোগ আছে। এই দু’জন কি একসঙ্গে পথ চলতে পারে?
2
6
এই দুই রাশির মানুষ একেবারেই আলাদা ধাঁচের। কুম্ভ সাধারণত বকবক করতে ভালবাসে, যুক্তি দিয়ে ভাবতে ভালোবাসে। কর্কট একটু চুপচাপ, আবেগই তার চালিকাশক্তি। কুম্ভ জেদি রাশি, একবার সিদ্ধান্ত নিলে নড়তে চায় না, আর কর্কট একেবারেই জেদি রাশি নয়, সে সবসময় এগোতে চায়, নেতৃত্ব দিতে চায়। শুনতে কঠিন লাগলেও, সচেতন থাকলে এই পার্থক্যই আবার সম্পর্কের শক্তি হতে পারে।
3
6
বন্ধুত্বের জায়গায় কুম্ভ ও কর্কট বেশ ভালোই মানিয়ে নিতে পারে। কুম্ভ নতুন মানুষ, নতুন ভাবনা জানতে ভালোবাসে। আর কর্কট সম্পর্কের মধ্যে বিশ্বস্ততা আর নিরাপত্তাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়, যেটা কুম্ভ সাধারণত দিতে পারে। সমস্যা হয় সময় কাটানোর ধরনে, কর্কট ঘরে থাকতে ভালোবাসে, কুম্ভ ঘরের বাইরে শিখতে ও ঘুরতে চায়। যদি দু’জনে মিলে আরামদায়ক অথচ ভাবনার খোরাক আছে, এমন কিছু খুঁজে পায়, সম্পর্কটা সুন্দর হতে পারে।
4
6
মজার ব্যাপার হলো, জ্যোতিষে যাকে ‘অমিল’ বলা হয়, সেটাই অনেক সময় তীব্র শারীরিক আকর্ষণের জন্ম দেয়। কুম্ভ সাধারণত নতুন অভিজ্ঞতা, নতুন কল্পনা আর পরীক্ষানিরীক্ষায় আগ্রহী। আর সংবেদনশীল কর্কট ভালোবাসা আর সান্নিধ্য পেলে নতুন কিছু চেষ্টা করতে পিছপা হয় না, বিশেষ করে পরে যদি একটু আদর আর কাছে টানার সময় থাকে।
5
6
এই সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে হলে দু’জনকেই একে অপরের আলাদা জগতকে সম্মান করতে হবে। কর্কট যদি নিজের মতো করে ঘরে সময় কাটাতে পারে, আর কুম্ভ যদি নিজের কৌতূহল নিয়ে বাইরে বেরোতে পারে, তাহলে সম্পর্কটা সুস্থ থাকে। কিন্তু যদি কেউ মনে মনে ক্ষোভ পুষে রাখে বা নিজের ইচ্ছা চাপিয়ে দিতে চায়, তাহলে সেখানেই সমস্যা শুরু।
6
6
দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক বা বিবাহে কুম্ভ আর কর্কটের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ভারসাম্য রাখা। নিজেদের আলাদা আগ্রহ বজায় রেখেও একসঙ্গে সময় কাটানো জরুরি। আর ‘ভালো সময়’ মানে কী, সেটা দু’জনের কাছে এক নয়, তাই সেটা পরিষ্কার করে বুঝে নেওয়াটাই এই সম্পর্কের চাবিকাঠি।