শনিবার ২০ এপ্রিল ২০২৪

সম্পূর্ণ খবর

Murder: শিশু খুনের মোটিভ নিয়ে বিভ্রান্তি, ধন্দ কাটছে না পুলিশের #দক্ষিণবঙ্গ

Rajat Bose | ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ১৩ : ০২


মিল্টন সেন, হুগলি: কোন্নগরে শিশু খুনের ঘটনায় পুলিশি তদন্তে উঠে আসছে নানান তথ্য। কিন্তু খুনের মোটিভ নিয়ে ধন্দ কাটছে না তদন্তকারীদের। ‌‌একাধিক প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে পুলিশের মনে। প্রথমত সমকামী সম্পর্কে ছেলে বাধা হলে তাকে ছেড়ে বান্ধবীর সঙ্গে চলে যেতেই পারতেন শান্তা। কিন্তু তা করেননি। দ্বিতীয়ত, ধৃত শান্তা এবং ইফ্‌ফাত গ্রেপ্তারের পড়েও একে অপরের সঙ্গে কথা বলতে উতলা হয়ে উঠেছেন। দেখা করতে না দেওয়ায় পুলিশের কাছে ফোনে একবার কথা বলার আবদারও করেছেন। একে অপরের বিষয়ে কি খেয়েছে, কেমন আছে এসবও জানতে চাওয়া হচ্ছে। আবার নিজের সন্তানের এইভাবে নৃশংস হত্যার পরেও শান্তার একেবারে না ভেঙে পড়া, ইত্যাদি বিষয় ভাবাচ্ছে পুলিশকে। সন্তানকে খুনের পর মায়ের মানসিকভাবে এতটা স্বাভাবিক থাকাই আরও বেশি অবাক করছে দুঁদে পুলিশ আধিকারিকদের। প্রসঙ্গত, 
গত ১৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধেয় নৃশংসভাবে খুন করা হয় আট বছরের শিশু শ্রেয়াংশু শর্মাকে। তখন সে ঘরে টিভিতে কার্টুন দেখছিল। মাথা থেতলে খুন করা হয় শিশুকে। ঘটনার চারদিন পর গ্রেপ্তার করা হয় শিশুর মা শান্তা শর্মা ও ওয়াটগঞ্জ থেকে তার বান্ধবী ইফ্ফাত পারভিনকে। শ্রীরামপুর আদালত তাদের নয় দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেয়। তারপরেই অভিযু্ক্তদের পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। আর তাতেই উঠে আসছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। পঙ্কজ শর্মার সঙ্গে শান্তার বিয়ে হয় ২০১২ সালে। বিয়ের সময় থেকেই পঙ্কজের মাথায় টাক ছিল। যা পছন্দ ছিল না শান্তার। বিয়ের পর এ নিয়ে দু’‌জনের অশান্তিও হত। একে স্বামীর সঙ্গে মনের মিল নেই, অন্যদিকে সংসারে আর্থিক স্বচ্ছলতার অভাব। তার মধ্যেই বাড়তে থাকে পারভিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা। ওদিকে ২০১৮ সালে ইফ্‌ফাত পারভিনের বিয়ে হয়েছিল। মাসখানেকের মধ্যে সেই বিয়ে ভেঙে যায়। পরের বছরই কলকাতার একটি মন্দিরে মালা বদল করে শান্তা ও ইফ্‌ফাত।
 পঙ্কজ জানিয়েছেন তার স্ত্রী ও পারভিন বছর দুয়েক আগে দিল্লি বেড়াতে গিয়েছিল। তখন ছেলেকে সঙ্গে নেয়নি। তবে বিহারে যাওয়ার সময় পারভিনের বাড়িতে ছেলেকে রেখে গিয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছে শান্তা আর পারভিন দিনে একাধিকবার ফোনে গল্প করত। কিন্তু ঘটনার দু’‌দিন আগে থেকে তাদের ফোনে যোগাযোগ ছিল না। মোবাইল কল রেকর্ড দেখে পুলিশের সন্দেহ হয়। যারা দিনে কুড়ি বার ফোনে কথা বলে, দু’‌দিন তাদের মধ্যে কেন কথা বন্ধ?‌ পুলিশের মতে, তারা জানত ঘটনার পর পুলিশ ফোনের সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করবে। ঘটনার দিনও বেলা তিনটের সময় পারভিনের মোবাইল টাওয়ার লোকেশন ছিল ওয়াটগঞ্জ। আবার রাত সাড়ে আটটার সময় সেই একই লোকেশনে দেখা গেছে। মাঝে ফোন বন্ধ ছিল। ঘটনার দিন সন্ধে ছ’‌টা থেকে সাড়ে ছটা নাগাদ শিশুটিকে খুন করা হয়। তার মিনিট ১৫ আগে শান্তা ও পারভিনের মধ্যে ফোনে কথা হয়। সেই সূত্রই পেয়ে যায় পুলিশ। আদর্শনগরের ইংলিশ রোড ধরে মাস্ক পরা এক যুবতীর হেঁটে যাওয়ার ছবি ধরা পরে সিসি ক্যামেরায়। তদন্তে উঠে আসে, শান্তা একটি ফুড কোর্টে কাজ করত। পরিকল্পনামাফিক ঘটনার দিনও সে কাজে গিয়েছিল। তবে দোকানে পৌঁছেই ডলি নামে এক প্রতিবেশী মহিলাকে দিয়ে বাড়িতে ছেলেকে খবর পাঠায় চশমা দিয়ে যেতে। ছেলে মাকে চশমা দিয়ে বাড়ি ফিরে টিভি চালিয়ে কার্টুন দেখতে বসে। সে সময় আততায়ী ঘরে ঢুকে শিশুকে মাথা থেঁতলে খুন করে। এই নৃশংস ঘটনার পরেও শান্তা তার বান্ধবীর প্রতি এতটাই আসক্ত যে সন্তান খুনে অভিযুক্ত হলেও বার বার বান্ধবীর পাশে দাঁড়িয়েছে। একইসঙ্গে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছে। গ্রেপ্তারের পর থেকে পৃথক থানায় রেখে জেরা চলছে দু’‌জনের। শ্রীরামপুর মহিলা থানায় রয়েছে ইফ্‌ফাত আর উত্তরপাড়া থানায় রয়েছেন শান্তা। এদিকে অভিযুক্তদের ফাঁসির দাবি করেছেন শান্তার স্বামী পঙ্কজ শর্মা।



বিশেষ খবর

নানান খবর

রজ্যের ভোট

নানান খবর



রবিবার অনলাইন

সোশ্যাল মিডিয়া