আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যে এসআইআরের শুনানি ঘিরে ফের মর্মান্তিক ঘটনা। হাওড়ার ডোমজুড় বিধানসভা এলাকার লিলুয়া থানা অন্তর্গত চকপাড়ায় শুনানির লাইনে দাঁড়িয়ে অসুস্থ হয়ে প্রাণ হারালেন এক বৃদ্ধ। মৃতের নাম মদন ঘোষ।

তিনি চকপাড়ার বাসিন্দা এবং ডোমজুড় বিধানসভার ২৩৫ নম্বর বুথের ভোটার ছিলেন। শুক্রবার সকালে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোটার তালিকায় নাম সংক্রান্ত জটিলতা মেটানোর জন্য মদন ঘোষ নামে ওই ব্যক্তিকে এসআইআর শুনানির জন্য ডাকা হয়েছিল।

শুক্রবার সকালে তিনি শুনানির লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার সময় হঠাৎই তিনি জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। মৃতের পরিবার অভিযোগ করেছে, দীর্ঘদিন ধরেই এসআইআর সংক্রান্ত শুনানি নিয়ে মানসিক চাপে ভুগছিলেন মদন ঘোষ নামে ওই ব্যক্তি।

মৃতের পুত্রবধূ প্রিয়াঙ্কা ঘোষ কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, ‘গত এক সপ্তাহ ধরে বাবা খুব আতঙ্কে ছিলেন। শুনানিতে কী জিজ্ঞাসা করা হবে, তা নিয়েই সারাক্ষণ দুশ্চিন্তায় থাকতেন। এই এসআইআর-এর কারণেই ওনার মৃত্যু হল।’

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র তরজা। তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে।

জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ তাপস মাইতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন পরিকল্পিতভাবে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে। এসআইআরের জন্য একের পর মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে রাজ্যে। ওই ব্যক্তির সঙ্গে সকালেও আমার কথা হয়েছিল। উনি ভীষণ ভয় পেয়েছিলেন। বারবার বলছিলেন, এই বয়সে নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হবে? বাংলাদেশে চলে যেতে হবে নাকি? ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও কেন তাঁকে শুনানির নামে হয়রানি করা হল?’

তৃণমূল নেতা কল্যাণ ঘোষ আরও কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়ে বলেন, ‘সারা রাজ্যে এসআইআর-এর নামে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। বিজেপি মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়ে বাংলা দখলের স্বপ্ন দেখছে। একদিকে ইডি-সিবিআই দিয়ে তৃণমূলকে দুর্বল করার চেষ্টা, অন্যদিকে সাধারণ মানুষকে নাগরিকত্ব হারানোর ভয় দেখানো হচ্ছে। ২০২৬ সালের নির্বাচনে মানুষ এর উপযুক্ত জবাব দেবে।’

এই মর্মান্তিক ঘটনার পর মৃতের বাড়ি ও চকপাড়া এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। জানা গিয়েছে, ঘটনার পর ইতিমধ্যেই খোঁজ নেওয়া হয়েছে অভিষেক ব্যানার্জির অফিসের তরফে।