আজকাল ওয়েবডেস্ক: সম্পত্তির লোভে 'মা'কে খুন করার অভিযোগ উঠল দত্তক নেওয়া সন্তান এবং তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে মুর্শিদাবাদের কান্দি থানার অন্তর্গত নতুনপাড়া এলাকায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত মহিলার নাম সুকন্যা মুখার্জি (৪৪)। নতুনপাড়া এলাকায় সুকন্যার একটি ব্যুটিকের দোকান রয়েছে। নিঃসন্তান সুকন্যাদেবীর স্বামী প্রণব গুপ্ত স্থানীয় একটি স্কুলের শিক্ষক।
মৃত ওই মহিলার পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সুকন্যা এবং প্রণববাবুর কোনও সন্তান না থাকায় কয়েক বছর আগে তাঁরা কৃষ্ণপদ দাস নামে এক যুবককে দত্তক সন্তান হিসেবে গ্রহণ করেন। বছর খানেক আগেই কৃষ্ণপদের বিয়ে হয়। তারপর থেকে কৃষ্ণপদ এবং তাঁর স্ত্রী সুকন্যা দেবীর বাড়িতেই থাকতেন।
শুক্রবার সকালে সুকন্যা মুখার্জির দেহ উদ্ধারের পর তাঁর বাড়ির লোকেরা অভিযোগ করেছেন- সম্পত্তির লোভে দত্তক সন্তান এবং তাঁর স্ত্রী এই খুন করেছে। তাঁদের আরও অভিযোগ, সুকন্যাদেবীর দেহ উদ্ধারের পর থেকে তাঁর দত্তক সন্তান এবং স্ত্রীর কোনও সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। এর পাশাপাশি সুকন্যাদেবীর বাড়ি থেকে বেশ কিছু দলিল এবং সোনার গয়না নিখোঁজ বলে তাঁদের দাবি। কান্দি থানার পুলিশ ইতিমধ্যে সুকন্যাদেবীর দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
মৃতার দিদি মৌমিতা চক্রবর্তী বলেন,"আমার দিদি এবং জামাইবাবু নিঃসন্তান। সেই কারণে তাঁরা কৃষ্ণপদ দাস নামে এক যুবককে দত্তক সন্তান হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। এক বছর আগে ওই যুবকের বিয়ে হয়। তারপর থেকে সে স্ত্রীকে নিয়ে আমার দিদির বাড়িতেই থাকত।"
তিনি বলেন,"দত্তক সন্তানের বিয়ে হওয়ার পর থেকে নবদম্পতির চাপে ধীরে ধীরে পরিবারের বাকি সদস্যদের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক রাখা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছিলেন আমার দিদি। আমরা দিদি-জামাইবাবুকে ফোন করলে ওই দত্তক সন্তান এবং তাঁর স্ত্রী ফোন ধরতে দিত না। এমনকি ওই দম্পতি আমার দিদিকে নিজের বাড়িতেই তাঁর ঘর থেকে বের করে দিয়েছিল।"
তিনি আরও অভিযোগ করেন,"আমার দিদি ও জামাইবাবুর সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার জন্য কৃষ্ণপদ এবং তাঁর স্ত্রী দু'জনের উপর প্রচন্ড অত্যাচার চালাত। আমার দিদি, সুকন্যা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লেও তাঁকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়নি। আমাদের অনুমান দিদির সম্পত্তি হাতানোর জন্যই তাঁর দত্তক সন্তান তাঁকে শ্বাসরোধ করে খুন করেছে।"
মৌমিতা বলেন,"শুক্রবার সকালে দিদির মৃত্যুর খবর পেয়ে আমরা দেখতে পাই নিজের বাড়িতে ঘরের মেঝেতে তাঁর দেহ পড়ে রয়েছে। দিদির গায়ের পোশাক অবিন্যস্ত অবস্থায় ছিল।"
&t=1486sমৃতের পরিবারের আরও অভিযোগ, সুকন্যাদেবীর স্বামী আর বছরখানেকের মধ্যেই নিজের কর্মক্ষেত্র থেকে অবসর নেবেন। কৃষ্ণপদ এবং তাঁর স্ত্রী পরিকল্পনা করেছিল সুকন্যাদেবীর স্বামীকে পাগল সাজিয়ে ওই দম্পতির সম্পূর্ণ সম্পতি এবং বাড়িঘর হাতিয়ে নেওয়ার। মৃতের পরিবারের অভিযোগ, সম্পূর্ণ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সুকন্যাদেবীকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে।
তাঁরা জানিয়েছেন, সুকন্যাদেবীর দেহ উদ্ধারের পর থেকে কৃষ্ণপদের কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। এর পাশাপাশি বাড়িতে থাকা বেশ কিছু সোনার গয়না এবং জমির দলিল কৃষ্ণপদ নিজের সঙ্গে নিয়ে পালিয়েছেন বলে তাঁদের অভিযোগ।
