দামি সব ক্রিম আর ক্লিনজার ব্যবহার করেও কি একগুঁয়ে ব্রণ থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না? আপনি একা নন, অনেকেই একই সমস্যায় ভুগছেন। কিন্তু কখনও ভেবেছেন কি আপনার খাদ্যাভ্যাসই এর পিছনে বড় কারণ হতে পারে?
আমরা যা খাই, তার সব কিছু শরীরের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হলেও ত্বকের জন্য সমানভাবে ভাল নয়। কিছু খাবার হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে এবং প্রদাহ বাড়ায়, যা সরাসরি ত্বকের উপর প্রভাব ফেলে। এআইআইএমএস–প্রশিক্ষিত চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ও হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট সার্জন ডা. আঁচল পন্থ তিনটি খাবারের কথা উল্লেখ করেছেন, যা ব্রণ–প্রবণ ত্বকের মানুষদের এড়িয়ে চলা উচিত।
ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করা এক ভিডিওতে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আঁচল পন্থ বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেছেন, কীভাবে কিছু খাবার ত্বকের উপর প্রভাব ফেলে—হরমোনের ওঠানামা থেকে শুরু করে প্রদাহ পর্যন্ত। তিনি শুধু কোন খাবারগুলো এড়িয়ে চলা উচিত তা-ই নয়, তার পরিবর্তে কোন স্বাস্থ্যকর বিকল্প খাবার বেছে নেওয়া যেতে পারে, তা-ও তুলে ধরেছেন।
দুধ হাড় এবং পেশির জন্য প্রয়োজনীয় নানা পুষ্টিতে ভরপুর হলেও ব্রণ-প্রবণ ত্বকের জন্য এটি আদর্শ নয়। বিশেষ করে স্কিমড মিল্ক বা টোনড দুধ লিভার থেকে উৎপন্ন ইনসুলিন–লাইক গ্রোথ ফ্যাক্টর ১-এর মাত্রা বাড়াতে পারে, যা ব্রণ বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। ডা. আঁচল পন্থ বলেন, “এটি ত্বকে তেলের উৎপাদন এবং প্রদাহকে বাড়িয়ে দেয়, ফলে ব্রণ আরও খারাপ হয়।”
বেশি চিনি এবং রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট
চিনি এবং রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট ইনসুলিনের মাত্রা হঠাৎ বাড়িয়ে দেয়, ফলে হরমোনের ওঠানামা হয়। এর ফলেই ছিদ্র বন্ধ হয়ে যায় এবং ব্রণ বারবার ওঠার প্রবণতা বেড়ে যায়।
প্রক্রিয়াজাত ও জাঙ্ক ফুড
প্রসেসড খাবারে সাধারণত অস্বাস্থ্যকর চর্বি ও কেমিক্যাল থাকে, যা ত্বকের ক্ষতি করে। ডা. পন্থ ব্যাখ্যা করেন, এসব উপাদান প্রদাহ বাড়িয়ে দেয়, যার ফলে ব্রণ আরও বেড়ে যেতে পারে।
যেসব খাবার এড়িয়ে চলা উচিত
দুধ
চিনি
ফলের রস
পিৎজা ও বার্গার
ফ্রেঞ্চ ফ্রাই
হাই প্রোটিন
স্বাস্থ্যকর বিকল্প
বাদাম দুধ
সুষম খাদ্যাভ্যাস
প্রোটিনসমৃদ্ধ নিরামিষ খাবার
পালং শাক
ফ্ল্যাকসিড ও চিয়া সিড
গ্রিক দই
শেষে তিনি মনে করিয়ে দেন, খাবারই একমাত্র কারণে ব্রণ হয় না, তবে সচেতনভাবে খাবার বেছে নিলে ব্রণ কমানো এবং চিকিৎসার ফলাফল ভালো করা সম্ভব।
ব্রণ শুধু বাহ্যিক ত্বকচর্চার কারণে নিয়ন্ত্রণে আসে না, বরং ভিতর থেকে—বিশেষ করে খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে, তা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। সঠিক খাবার বেছে নেওয়া এবং অস্বাস্থ্যকর খাবার এড়িয়ে চলা প্রদাহ কমাতে, হরমোনের ভারসাম্য রক্ষা করতে এবং ত্বককে সুস্থ রাখতে সহায়ক। খাদ্য যদিও একমাত্র কারণ নয়, তবে জীবনযাত্রায় ছোট ছোট পরিবর্তনই ত্বকের বড় পার্থক্য গড়ে তুলতে পারে। তাই ত্বকের যত্ন মানেই শুধু ক্রিম বা ক্লিনজার নয়—বরং সঠিক খাবারই হতে পারে সুস্থ, উজ্জ্বল ত্বকের আসল চাবিকাঠি।
















