বর্তমানে মেরুদণ্ডের ডিস্কের সমস্যায় ভোগেন অল্পবয়সিরাও। দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করা, ভুল ভঙ্গিতে বসা বা বয়স বাড়ার কারণে এই সমস্যা দেখা দেয়। ফলে পিঠে ব্যথা, কোমরে টান, এমনকি হাঁটাচলায় অসুবিধা হতে পারে। এতদিন এই সমস্যার চিকিৎসা বলতে ছিল ব্যথার ওষুধ, ফিজিওথেরাপি বা গুরুতর ক্ষেত্রে অপারেশন। কিন্তু এবার বিজ্ঞানীরা এমন একটি নতুন পদ্ধতি তৈরি করেছেন, যা শুধু ব্যথা কমাবে না, ক্ষতিগ্রস্ত ডিস্ককে ঠিক করতেও সাহায্য করবে।
গবেষকরা একটি বিশেষ জেল তৈরি করেছেন, যার নাম ‘হাইড্রাফিল’। এটি একটি ইনজেকশনের মাধ্যমে শরীরে দেওয়া হয়। এই জেলটি প্রথমে গরম করে তরল অবস্থায় আনা হয়, যাতে সহজে শরীরের ভেতরে প্রবেশ করানো যায়। তারপর এটি মেরুদণ্ডের যে ডিস্কটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেই জায়গায় সরাসরি ইনজেক্ট করা হয়। শরীরের ভেতরে ঢোকার পর জেলটি ঠান্ডা হয়ে ধীরে ধীরে শক্ত হয়ে যায় এবং একটি নরম কুশনের মতো কাজ করতে শুরু করে।
আমাদের মেরুদণ্ডের ডিস্ক আসলে দুইটি হাড়ের মাঝখানে কুশনের মতো কাজ করে, যাতে চাপ কম পড়ে এবং আমরা সহজে নড়াচড়া করতে পারি। কিন্তু যখন এই ডিস্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তখনই ব্যথা শুরু হয়। হাইড্রাফিল ঠিক সেই জায়গাতেই গিয়ে কাজ করে এবং ক্ষতিগ্রস্ত অংশটিকে কিছুটা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে।
একটি গবেষণায় ৬০ জন রোগীর উপর এই পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়েছিল। এক বছর পরে দেখা যায়, বেশিরভাগ রোগীরই ব্যথা অনেক কমেছে এবং তারা আগের তুলনায় অনেক ভালোভাবে হাঁটাচলা করতে পারছেন। অর্থাৎ, এই জেল শুধু ব্যথা কমাচ্ছে না, শরীরের কাজ করার ক্ষমতাও বাড়াচ্ছে।
এই চিকিৎসার আরেকটি সুবিধা হল, এটি খুব সহজ এবং দ্রুত করা যায়। পুরো প্রক্রিয়াটি প্রায় ৩০ মিনিটের মধ্যে শেষ হয়ে যায় এবং সাধারণত পুরো শরীর অবশ করার দরকার হয় না। লোকাল অ্যানেস্থেশিয়াতেই কাজ হয়ে যায়। তাই রোগীকে বেশি দিন হাসপাতালে থাকতে হয় না এবং দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠা সম্ভব।
তবে এখনও এই চিকিৎসা পদ্ধতি সব জায়গায় পাওয়া যাচ্ছে না। বিজ্ঞানীরা আরও গবেষণা করছেন, যাতে এটি সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং দীর্ঘমেয়াদে কতটা কার্যকর তা নিশ্চিত করা যায়। ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি যদি সফলভাবে ব্যবহার করা যায়, তাহলে মেরুদণ্ডের ব্যথার চিকিৎসায় এটি এক বড় পরিবর্তন আনতে পারে।















