অনেক সময়ই তুমুল কোমড়-পিঠ ব্যথায় ভোগেন অনেক মহিলা। পা নাড়াতেও কষ্ট হয় যন্ত্রণায়। কিন্তু নারীদের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে হাড়ের যত্ন নেওয়া প্রায়ই উপেক্ষিত থেকে যায়। যতক্ষণ না কোনও ঘটনা সেই সমস্যাকে সামনে নিয়ে আসে। তবে চিকিৎসকরা সতর্ক করেছেন যে, হাড় ক্ষয়ের প্রক্রিয়া অনেক আগে থেকেই শুরু হয়, যা অধিকাংশ নারী টেরই পান না। ৩০ বছর বয়সের মধ্যেই নারীরা অস্টিওপেনিয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারেন, যা অস্টিওপোরোসিসের প্রাথমিক ধাপ—এ অবস্থায় ভঙ্গুর হাড় সহজেই মেরুদণ্ড, নিতম্ব এবং কব্জিতে ফ্র্যাকচার হতে পারে।

অর্থোপেডিক এবং জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট সার্জন ডা. সুমিত বাত্রা ব্যাখ্যা করেন, “অস্টিওপোরোসিস ঘটে যখন হাড়ের ঘনত্ব এবং গুণমান কমে যায়, ফলে হাড় ভঙ্গুর হয়ে ভেঙে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ে। বর্তমানে ৩০-এর বেশি বয়সী নারীরা অস্টিওপেনিয়া (প্রাথমিক হাড় ক্ষয়) ও অস্টিওপোরোসিসের বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। নারীদের হাড় প্রাকৃতিকভাবে ঘনত্ব হারাতে শুরু করে যখন ২০ টপকানোর পর হাড় সর্বোচ্চ ঘনত্বে পৌঁছে যায়।”

হাড়ের স্বাস্থ্য কেমন থাকবে, তা এক-এক জনের ক্ষেত্রে এক-এক রকম। “রীরা ৩০-এর কাছাকাছি পৌঁছলে হাড় সর্বোচ্চ ঘনত্বে পৌঁছয়। ৩০-র পর থেকে হাড় তৈরির প্রক্রিয়া ধীর হয়ে আসে, আর নতুন হাড় গঠনের চেয়ে প্রাকৃতিক হাড় ক্ষয় বেশি হয়। এমনটাই জানাচ্ছেন অর্থোপেডিক ডা. নমন গোয়েল।
হাড় ক্ষয়ের এই গতি আরও প্রকট হয়ে ওঠে মেনোপজের সময়, যখন ইস্ট্রোজেনের মাত্রা হঠাৎ করেই কমে যায়। ডা. সুমিত বাত্রা উল্লেখ করেন, গড়ে একজন নারী মেনোপজের পর প্রথম পাঁচ বছরে প্রায় ১০ শতাংশ হাড়ের ঘনত্ব হারান। বিশেষ করে ৪৫ বছরের আগেই মেনোপজ হলে ঝুঁকি ২৫–৪৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়।

হরমোনের বাইরে, আজকের জীবনযাত্রা সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলছে। দীর্ঘ সময় ধরে বসে কাজ করা, রোদে না যাওয়া, জাঙ্ক ফুড খাওয়া এবং অলস জীবনযাপন নারীদের অকাল হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকিতে ফেলছে। সতর্ক করে এমনটাই বলছেন চিকিৎসক। অটোইমিউন রোগ, ডায়াবেটিস, স্টেরয়েড ব্যবহার এবং ঋতুচক্রকে প্রভাবিত করে এমন হরমোনজনিত সমস্যাগুলিও এর সঙ্গে যুক্ত।

ডা. নমন গোয়েল আরও বলেন, “একাধিকবার গর্ভধারণ, যথাযথ পুষ্টি ছাড়া দীর্ঘ সময় স্তন্যদান, ধূমপান, অ্যালকোহল সেবন এবং ক্যালসিয়াম বা প্রোটিনঘাটতিযুক্ত খাদ্যাভ্যাস সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। সবচেয়ে বড় বিপদ হল এর নীরবতা। অস্টিওপোরোসিস সাধারণত কোনও লক্ষণ ছাড়াই এগোতে থাকে, যতক্ষণ না কোনও ফ্র্যাকচার হয়।”

অস্টিওপোরোসিস কিংবা হাড় ক্ষয় কোনো আকস্মিক রোগ নয়, বরং এটি ধীরে ধীরে গড়ে ওঠা একটি সমস্যা। যা নীরবে শরীরের ক্ষতি করে। তাই সচেতনতা এবং প্রতিরোধই এখানে সবচেয়ে বড় অস্ত্র। নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত রোদে থাকা, সুষম খাদ্যাভ্যাসে ক্যালসিয়াম এবং প্রোটিনের যোগান নিশ্চিত করা এবং অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস থেকে দূরে থাকা—এসবই নারীদের হাড়কে দীর্ঘদিন মজবুত রাখতে সহায়তা করে। চিকিৎসকদের মতে, ৩০-এর পর থেকেই হাড়ের যত্নে বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি। কারণ, আজকের ছোট ছোট সচেতন পদক্ষেপই ভবিষ্যতে সুস্থ জীবনের নিশ্চয়তা দিতে পারে।