দীর্ঘ জীবন আর সুস্থ থাকার রহস্য জানতে অনেকেই নানা ধরনের ডায়েট, দামি ওষুধ বা বিশেষ নিয়ম মেনে চলেন। কিন্তু আমেরিকার সবচেয়ে প্রবীণ জীবিত ব্যক্তি ১১১ বছরের লুইস ক্যানো বলছেন, দীর্ঘায়ুর আসল মন্ত্র খুবই সহজ।

লুইস ক্যানোর জন্ম ১৯১৪ সালের ৯ ডিসেম্বর, কলম্বিয়ায়। ছোটবেলা থেকেই তিনি সাধারণ জীবনযাপন করতেন। তরুণ বয়সে কলম্বিয়ার সেনাবাহিনীতে কাজ করেছেন। পরে একটি বাস সংস্থা চালিয়েছেন। এরপর পরিবার নিয়ে আমেরিকায় চলে যান। এখন তিনি নিউ জার্সিতে নিজের সন্তানদের সঙ্গে থাকেন। বয়স ১১১ হলেও তিনি এখনও অনেকের কাছে অনুপ্রেরণা।

দীর্ঘ জীবন কীভাবে সম্ভব? এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাসের কথা বলেছেন।

প্রথম অভ্যাস হল, তিনি কখনও ধূমপান এবং মদ্যপানও করেননি। তাঁর মতে, শরীরকে সুস্থ রাখতে এই দুই জিনিস থেকে দূরে থাকা খুব জরুরি। ধূমপান ফুসফুস, হৃদযন্ত্র এবং শরীরের অনেক অঙ্গের ক্ষতি করে। অতিরিক্ত মদ্যপানও শরীরকে দুর্বল করে দেয়। তাই এই অভ্যাস না থাকাই ভাল।

দ্বিতীয় অভ্যাস হল ভাল ঘুম। লুইস ক্যানো মনে করেন, নিয়মিত এবং পর্যাপ্ত ঘুম শরীরের জন্য খুব প্রয়োজন। ঠিকমতো ঘুম না হলে শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে, মনও খারাপ থাকে। ভাল ঘুম শরীরকে বিশ্রাম দেয় এবং মনকে শান্ত রাখে।

তৃতীয় এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা হল ভালো ব্যবহার করা। তিনি বলেন, মানুষের সঙ্গে ভালভাবে কথা বলা, রাগ কম করা, শান্ত থাকা এবং ইতিবাচক মন নিয়ে জীবন কাটানো খুব দরকার। মানসিক শান্তি শরীরকেও ভাল রাখে। শুধু ওষুধ নয়, ভাল মনও দীর্ঘ জীবনের জন্য জরুরি।

তাঁর খাদ্যাভাসও ছিল দীর্ঘায়ুর রহস্য। তিনি সবজি বেশি খেতেন। বিশেষ করে বিনস, পেঁয়াজ, লঙ্কা, অ্যাভোকাডো-এসব খাবার তাঁর পছন্দের ছিল। তিনি দীর্ঘদিন পর্যন্ত বাগান করতেন। ১০৫ বছর বয়স পর্যন্তও তিনি নিজের বাগানের কাজ করেছেন। এছাড়া মাছ ধরা, বোলিং আর বিলিয়ার্ডস খেলাও তাঁর শখ ছিল। এসব কাজ তাঁকে সক্রিয় এবং আনন্দে রেখেছে।

লুইস ক্যানোর জীবন আমাদের শেখায়, দীর্ঘ ও সুস্থ জীবন পেতে খুব কঠিন কিছু করার দরকার নেই। ধূমপান-মদ্যপান এড়িয়ে চলা, ভাল ঘুম, সহজ খাবার, শরীরচর্চা এবং সকলের সঙ্গে ভাল ব্যবহার-এই সাধারণ অভ্যাসগুলোই জীবনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।