সেই ছোট্টবেলা থেকে ধাপে ধাপে পড়াশোনা। স্কুল থেকে কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়। তারপর চাকরি, গবেষণা কিংবা অন্য কোনও কর্মক্ষেত্র। মোটামুটি এই গতে বাধা নিয়মেই চলে আসে সাধারণ মানুষ। একটা ডিগ্রি পেতেই যেন বেশিরভাগ পড়ুয়াকে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়! কিন্তু জানেন কি এই দেশেই এমন একজন ছিলেন যিনি পেয়েছিলেন ২০টি আলাদা আলাদা বিষয়ে ডিগ্রি? পড়াশোনা করেছিলেন ৪২টি ভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। শ্রীকান্ত জিচকার। তিনিই হলেন ভারতের সবচেয়ে শিক্ষিত ব্যক্তি।
বয়স মাত্র ২৫, তখনই শ্রীকান্তর ঝুলিতে এসে গিয়েছে ১৪টি ডিগ্রি এবং তালিকাভুক্ত হয়েছিলেন লিমকা বুক অফ রেকর্ডসে। আজও তিনি দেশের সবচেয়ে শিক্ষিত ব্যক্তির খেতাব ধরে রেখেছেন। শ্রীকান্ত বেশিরভাগ ডিগ্রির পরীক্ষাতে শুধু প্রথম স্থানই অর্জন করেননি, বেশ কয়েকটি স্বর্ণপদকও জিতেছিলেন।
আরও পড়ুনঃ রাতে বিছানায় এপাশ-ওপাশ করেই কেটে যায়? শোওয়ার আগে খান এই ৩ ফল, নিমেষে দু’চোখ জুড়ে আসবে ঘুম
১৯৫৪ সালে ১৪ সেপ্টেম্বর নাগপুরে এক মারাঠা পরিবারে জন্ম হয় শ্রীকান্তের। দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়াশোনার পর তিনি নাগপুরের এক মেডিক্যাল কলেজ থেকে প্রথমে এমবিবিএস এবং পরে এমডি করেন। চিকিৎসা বিজ্ঞানে সফলভাবে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর শ্রীকান্ত আইন নিয়ে পড়াশোনা করেন। এরপর একে একে বিজনেস ম্যানেজমেন্ট, সাংবাদিকতায় স্নাতক হন তিনি। এছাড়াও সংস্কৃতে ডক্টরেট অফ লিটারেচার (ডি-লিট)ও পান শ্রীকান্ত। এছাড়াও তিনি মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন সমাজবিজ্ঞান, অর্থনীতি, ইতিহাস, ইংরেজি, সাহিত্য, দর্শন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, মনস্তত্ত্ববিদ্যাতেও।

এত পর্যন্ত শুনেই সব হ য ব র ল হয়ে যাচ্ছে? তবে এখানেই শেষ নয়। ২৪ বছর বয়সে শ্রীকান্ত ইন্ডিয়ান পুলিশ সার্ভিস (আইপিএস) পরীক্ষায় বসে উত্তীর্ণ হন। টানা দু’বছর সেই পদে চাকরি করার পর তিনি ইন্ডিয়ান অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস-এ বসেন। সেসময় ইউপিএসসি পরীক্ষা চালু হয়নি। তাই আইএএস এবং আইপিএস চাকরির জন্য আলাদা পরীক্ষা হত।যদিও সেই চাকরিও চার মাস গড়াতে না গড়াতেই তাও ছেড়ে দেন তিনি।
জীবনের একটা সময়ে গিয়ে শ্রীকান্ত স্বপ্ন দেখেন রাজনীতিতে প্রবেশের। মাত্র ২৬ বছর বয়সে তিনি দেশের সর্বকনিষ্ট বিধায়ক নির্বাচিত হন। তিনি রাজ্যের মন্ত্রী, রাজ্যসভার সদস্য এবং মহারাষ্ট্র আইন পরিষদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
আরও পড়ুনঃ হেঁশেলেই লুকিয়ে ডায়াবেটিসের মহৌষধ! পেট, ত্বকও রাখে ভাল, কী জানলে রোজ খাবেন
নিজের শিক্ষা কিংবা রাজনীতি নয়, সমাজে শিক্ষার প্রচারেও শ্রীকান্ত অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন। শিশুদের মধ্যে শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে শ্রীকান্ত নাগপুরে একটি স্কুল খোলেন। ওই স্কুলে ভারতের অন্যতম বড় লাইব্রেরি রয়েছে। যেখানে বইয়ের সংখ্যা প্রায় ৫২ হাজার।
মাত্র ২০০৪ সালে একটি ট্রাক তাঁর গাড়িকে ধাক্কা দেয়। নাগপুর থেকে প্রায় ৬১ কিলোমিটার দূরে কোন্ধালির কাছে পথ দুর্ঘটনায় মাত্র ৪৯ বছর বয়সে মৃত্য হয় ভারতের সর্বকালীন সবচেয়ে শিক্ষিত মানুষটির। দুর্ঘটনার সময় শ্রীকান্তের সঙ্গে তাঁর এক আত্মীয়ও ছিলেন। গুরুতর আহত হন তিনিও। শ্রীকান্তের মৃত্যুর পর জনহিতকর কাজের একটি সংস্থা চালু করে তাঁর পরিবার।
















