দিন দুই ধরে কলকাতায় বিদেশি গোয়েন্দা আর তাঁর সহকারী। বিবিসির সিরিজ ‘শেখর হোমস’-এ এঁদের জীবন্ত করেছেন কেকে মেনন, রণবীর শোরে। শুটে উপস্থিত উপালি মুখোপাধ্যায় 

কথা ছিল, দিন ১০-১২ কলকাতায় থাকবেন শার্লক হোমস, তাঁর সহকারী ওয়াটসন। আচমকা সেই সফর ছেঁটেকেটে ২ দিন! শনিবার আর রবিবার। তার মধ্যেই নাকি সারা শহর ঘুরবেন! খবর কানে আসতেই শুটিং স্পটে আজকাল টেলিভিশন।

দৃশ্য ১— রবিবারের ভোর রাত। ঘড়িতে ৪টে। বিদেশি গোয়েন্দা আর তাঁর সহকারী হাওড়া ব্রিজের উপরে কেকে মেনন, রণবীর শোরে। মেনন ক্রিম রঙের শার্ট আর ধূসর ট্রাউজারে। রণবীরের সাদা শার্ট, স্টিলরঙা প্যান্ট। মাথায় অল্প টাক। দু’জনেরই চোখে চশমা। টিম পৌঁছে গিয়েছিল রাত আড়াইটেয়!  

দৃশ্য ২— সেখানের শুট ফুরোতেই সোজা আহিরীটোলা ঘাট। তখনও ভোরের আলো ফোটেনি। চারিদিকে কুয়াশা। সেই অবস্থাতেই ঘাটে তাঁরা।

দৃশ্য ৩— নিমতলা শ্মশানঘাট। দাহকাজ চলছে। একদৃষ্টে সেই দিকে তাকিয়ে শার্লক-ওয়াটসন। তাঁদের হদিশে, একজনকে খুন করে পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে। তারই খোঁজ নিতে উপস্থিত দু’জনে। শ্মশানঘাট লোকে লোকারণ্য। কেকে, রণবীরের কোনও ভ্রূক্ষেপই নেই!

দৃশ্য ৪— ততক্ষণে সাজ সাজ রব কলেজ স্ট্রিট চত্বরে। গোয়েন্দা এবং সহকারীর পরের গন্তব্য সংস্কৃত কলেজিয়েট স্কুল, কেশব সেন স্ট্রিট। শুটিং স্পটে হাজির পরিচালক রোহন সিপ্পি, সিনেমাটোগ্রাফার শীর্ষ রায়, মুম্বই থেকে উড়ে আসা একঝাঁক কলাকুশলী। কলকাতার শুটিংয়ের দায়িত্বে ছিলেন কাস্টিং ডিরেক্টর অনিমেষ বাপুলি। আর তাঁর আনা নানা বয়সের জুনিয়র আর্টিস্ট। বেলা গড়িয়ে যায়! তাঁদের দেখা নেই। অবশেষে একই পোশাকে এবং মেকআপে এলাকায় পা রাখলেন দুই তারকা। কেশব সেন স্ট্রিটের মুখ থেকে হাঁটতে হাঁটতে গলিতে। ছাওয়ায় দাঁড়ালেন। আখের রস খেলেন। তারপর আবার হাঁটতে লাগলেন। তার মাঝে হাতে টাকা রিক্সা গেল, কিছু পথচারীও। এভাবেই বার তিনেক মহড়ার পর শট! কেকে, রণবীরের একফোঁটা বিরক্তি নেই।  

এভাবেই দু’দিন ধরে ধর্মতলা ট্রাম ডিপো, বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়াম, ভবানীপুর কবরখানা-সহ কলকাতার অর্ধ্বেক ঘুরে শুট হয়েছে। কলকাতায় দুই অভিনেতার মেনু কী ছিল? রণবীরের বায়না, তিনি বাঙালি খানাই খাবেন। কেকে অতটা ঝুঁকি নিতে পারেননি। তিনি ইডলি, ধোসা, স্যান্ডউইচ এবং এই ধরনের খাবারেই সন্তুষ্ট ছিল। তবে রবিবারের ব্যাপারটাই আলাদা। এদিন পাতে ফ্রায়েড রাইস, কষা মাংস। ইউনিটের দাবি, ‘‘আজ দুজনই এই খাবার চেটেপুটে খেয়ে নেবেন!’’