আজকাল ওয়েবডেস্ক: কনস্টেবলকে চড় মারার অভিযোগ উঠল রাজ্যের মন্ত্রীর ভাইয়ের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে অন্ধ্রপ্রদেশের কুর্নুল জেলার কোলিমিগুন্ডলার শ্রী লক্ষ্মী নারসিংহ স্বামী মন্দিরে। এক পুলিশ কনস্টেবলকে প্রকাশ্যে চড় মারার অভিযোগ উঠেছে রাজ্যের মন্ত্রী বিসি জনার্দন রেড্ডির ভাই মদন ভূপাল রেড্ডির বিরুদ্ধে। ঘটনার একটি ভিডিও ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে, যা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। যদিও সেই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি আজকাল ডট ইন। ঘটনাটি ঘটেছে গত বুধবার। ওইদিন উদ্বোধ ছিল মন্দিরের। জানা গিয়েছে, বুধবার মন্দির উদ্বোধনের দিন প্রচুর মানুষের ভিড় ছিল। ভিড় নিয়ন্ত্রণে মোতায়েন ছিলেন কনস্টেবল যশবন্ত। সেই সময় মদন রেড্ডি মন্দিরে ভিড় এড়িয়ে ক্ষমতা দেখইয়ে তৎক্ষণাৎ প্রবেশ করতে চাইছিলেন।

 

?ref_src=twsrc%5Etfw">July 31, 2025

কিন্তু কনস্টেবল যশবন্ত তাঁকে ভিতরে ঢোকার অনুমতি দেননি। সেই পরিস্থিতিতে কনস্টেবল অনুমতি না দিলে বচসা শুরু হয়। অভিযোগ, এরপরই মদন রেড্ডি নামে ওই ব্যক্তি পুলিশ কর্মীকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে কনস্টেবলকে প্রকাশ্যে চড় মারেন তিনি। ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, কনস্টেবল যশবন্তও ওই ঘটনার প্রতিক্রিয়া জানান, সঙ্গে সঙ্গে অন্যান্য পুলিশ কর্মীরা হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এই ঘটনা নিয়ে বিরোধী দল ওয়াইএসআর কংগ্রেস (YSRCP) তীব্র সমালোচনায় সরব হয়েছে। তারা এক্স হ্যান্ডেলে ভিডিওটি শেয়ার করে লেখে, ‘একজন মন্ত্রীর ভাই কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীকে চড় মারছেন। এই ঘটনায় প্রকাশ পেয়েছে ক্ষমতাশীল মানুষদের দম্ভ ও বেপরোয়া মানসিকতা।

আরও পড়ুন: ‘তুকতাক কোচ’ থেকে সুনীলদের ‘হেডস্যার’, কতটা পথ পেরোলে খালিদ জামিল হওয়া যায়?

পুলিশ প্রশাসন বর্তমানে রাজনৈতিক চাপে নিছকই হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে’। তারা আরও লেখে, ‘এই লজ্জাজনক ঘটনা দেখিয়ে দিচ্ছে, যাঁরা ক্ষমতার ঘনিষ্ঠ, তাঁরা কীভাবে আইন রক্ষাকর্তাদের পর্যন্ত রেহাই দিচ্ছেন না’। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনও মন্তব্য করেনি সরকার। এই ঘটনা অন্ধ্রপ্রদেশে আইনের শাসন নিয়ে গভীর প্রশ্ন তুলেছে। এদিকে, ঘটনার পর অন্ধ্রপ্রদেশের মন্ত্রী বিসি জানার্ধন রেড্ডি নিজে ভাইরাল ভিডিওটি দেখে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং তাঁর ভাইয়ের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। তারপরেও এই ঘটনার পরে কয়েকদিন কেটে গেলেও মদন ভূপাল রেড্ডির বিরুদ্ধে তৎক্ষণাৎ কোনও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, যার ফলে সমালোচনা আরও তীব্র হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যে শাসক জোটের ওপর পাল্টা চাপ দিয়েছে বিরোধী দলগুলি। প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়েও।