আজকাল ওয়েবডেস্ক: সম্প্রতি এক দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে নজিরবিহীন উদ্ধার অভিযান চালাল ভারতীয় ভারতের বায়ুসেনা। তারা ফের একবার প্রমাণ করল, দেশের জন্য তারা সর্বদা প্রস্তুত। লেহ-এর দুর্গম উচ্চ পার্বত্য অঞ্চল থেকে এক গুরুতর আহত অসামরিক রোগীকে রাতের অন্ধকারে সফলভাবে আকাশপথে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হল চণ্ডীগড়ের চান্ডিমন্দিরে অবস্থিত কম্যান্ড হাসপাতালে। এই জটিল এবং ঝুঁকিপূর্ণ মিশনের জন্য ব্যবহার করা হয় অত্যাধুনিক সি-১৩০জে সুপার হারকিউলিস বিমান। রাতের গভীর অন্ধকার, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং পাহাড়ি ভূপ্রকৃতির চ্যালেঞ্জ উপেক্ষা করে, বায়ুসেনার প্রশিক্ষিত পাইলট ও ক্রু সফলভাবে রোগীকে পৌঁছে দেন সময়মতো। অভিযানে ব্যবহৃত বিমানটিতে ছিল নাইট ভিশন গগলস (NVG), ইনফ্রারেড সেন্সর, এবং টেরেইন মাস্কিং নেভিগেশন সিস্টেম, যার সাহায্যে সীমিত দৃশ্যমানতায়ও বিমানের অবতরণ নিরাপদে সম্পন্ন হয়।

এই উচ্চপ্রযুক্তি ও দক্ষতার সংমিশ্রণই সম্ভব করেছে রোগীকে রাতারাতি চিকিৎসার আওতায় আনা। সূত্রের খবর, আহত রোগীর মাথায় গুরুতর আঘাত ছিল এবং অবিলম্বে নিউরোসার্জিক্যাল চিকিৎসার প্রয়োজন ছিল। চিকিৎসার জন্য রোগীকে চণ্ডীগড়ে স্থানান্তরিত করা সম্ভব হয়। তড়িঘড়ি, হাসপাতালে ভর্তি করায় দ্রুত চিকিৎসাও পেয়েছেন ওই রোগী। বায়ুসেনার তরফে জানানো হয়েছে, এই উদ্ধার অভিযান শুধু একটি সফল রেসকিউ মিশন নয়, বরং তা ভারতের বায়ুসেনার মানবিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি এবং নাগরিক সুরক্ষার অঙ্গীকারকেই তুলে ধরে। সেনাবাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন ও চিকিৎসা পরিষেবার মধ্যে এই নিখুঁত সমন্বয় ভারতের জরুরি পরিষেবা ব্যবস্থার একটি অনন্য উদাহরণ হয়ে রইল।

আরও পড়ুন: কোন্নগরে তৃণমূল নেতা খুনে দু’দিন পার, এখনও অধরা অভিযুক্তরা

এই ধরনের অভিযান সাধারণ মানুষের মধ্যে সেনাবাহিনীর প্রতি আস্থা আরও দৃঢ় করে। এই মিশন স্পষ্ট করে দেয়, শুধু সীমান্ত রক্ষায় নয়, ভারতীয় বায়ুসেনা দেশের প্রত্যেক নাগরিকের জীবনরক্ষায়ও প্রস্তুত, দক্ষ এবং সর্বদা সজাগ। উল্লেখ্য, জাতীয় নিরাপত্তা এবং প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলএসি) বরাবর যোগাযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে, পূর্ব লাদাখের মুধ-নিয়োমায় ভারতের সর্বোচ্চ বিমানঘাঁটি তৈরি করেছে নয়াদিল্লি। এই বায়ুসেনা ঘাঁটি চলতি বছর অক্টোবরের মধ্যে সম্পূর্ণরূপে কার্যকর হতে চলেছে। প্রায় ১৩,৭০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত, নিয়োমা হল এলএসি-র নিকটতম অ্যাডভান্সড ল্যান্ডিং গ্রাউন্ড (এএলজি)। এলএসি-র কাছে এই ঘাঁটিতে নিয়মিত ওঠানামা করবে সুখোই, রাফাল বা তেজসের মতো যুদ্ধবিমান। যুদ্ধের সময়ে এর কৌশলগত অবস্থান বাহিনীকে বাড়তি সুবিধা দেবে।

পাশাপাশি, লাদাখের মতো পাহাড়ি এলাকায় সংঘর্ষ বাধলে দ্রুত ফৌজকে রণাঙ্গনে নিয়ে যাওয়া বা সৈনিকদের জন্য হাতিয়ার ও গোলা-বারুদের জোগান ঠিক রাখতেও এই ঘাঁটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে। নবনির্মিত এএলজি-তে রয়েছে তিন  কিলোমিটার রানওয়ে। আপৎকালীন পরিস্থিতিতে যাবতীয় অপারেশন চালিয়ে যাওয়ার কথা মাথায় রেখে ওই রানওয়ে তৈরি করা হয়েছে। ২০২১ সালে অনুমোদিত এই প্রকল্পের বাজেট ছিল প্রায় ২১৪ কোটি টাকা। লাদাখের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার দুর্গম এলাকাগুলিতে নজরদারি চালানো খুবই চ্যালেঞ্জিং। স্থলসেনার সেখানে পৌঁছতে কালঘাম ছুটে যায়। এত দিন পর্যন্ত ওই এলাকায় কোনও বায়ু সেনাঘাঁটি না থাকায় সে ভাবে নজর রাখতে পারছিল না বায়ুসেনা। এ বার স্থলবাহিনীর পাশাপাশি চীন সীমান্তের উপর কড়া নজরদারি করতে পারবে বায়ুসেনা।