‘মেট্রো... ইন দিনও’ ছবির প্রচার সারতে গত বৃহস্পতিবার কলকাতায় পা রেখেছিলেন আদিত্য রায় কাপুর এবং সারা আলি খান। সেই প্রচার সফরের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার রাতে সৌরভ গাঙ্গুলির বাড়িতে নৈশভোজ সেরেছিলেন দু’জনে। ‘মহারাজ’-এর বাড়ির আড্ডার পর এদিন বিকেলে শহরের এক জনপ্রিয় রেস্তরাঁর বারান্দায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন অনুরাগ বসুর ছবির এই জুটি। 

 

 

আড্ডার শুরুতেই আদিত্য জানালেন, অনুরাগ বসুর ছবিতে কাজ করার সময় কখনওই কেউ পুরো চিত্রনাট্য হাতে পান না। তবে তাতে একটা মস্ত সুবিধেও আছে। সেটা কী? “আরে, অনেকসময় হাতে চিত্রনাট্য থাকলে কোনও নির্দিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্যের শুটিংয়ের আগে টেনশন হয়। আর সেখানে যখন হাতেই চিত্রনাট্য নেই তাই নিজেই জানি না এরপর কোন দৃশ্যটার শুটিং হবে। তাই চাপ একেবারে থেকেই না। এটাও কিন্তু ভারি লাভ।” 

 

 

 

আজকাল ডট ইন-এর তরফে আদিত্য-সারা দু’জনের কাছেই প্রশ্ন রাখে হয়েছিল, ‘মেট্রো… ইন দিনও’ ছবিটি যেমন শহরের হুটোপাটির মধ্যে ভালবাসার খোঁজ করে, তেমন আপনি নিজের জীবনযুদ্ধের ভেতরে ভালবাসার সবচেয়ে সুন্দর কোন দিকটি আবিষ্কার করেছেন? প্রশ্ন শুনেই আদিত্যর হাতে মাইক্রোফোন ধরিয়ে দেন সারা। থতমত খেয়ে একগাল হেসে আদিত্য বলে ওঠেন, “আচ্ছা, এই ব্যাপার?” তাঁর বলার ভঙ্গিতে ততক্ষণে হাসির রোল উঠেছে চারপাশে। তারপরেই প্রশ্নকর্তার দিকে তাকিয়ে তাঁর পাল্টা প্রশ্ন,  “বড্ড গভীর প্রশ্ন করেছেন কিন্তু। যাই হোক,  প্রথমেই বলি  এই ছবিতে অনুরাগ বসু’দা এমন সব পরিস্থিতি তৈরি করেছেন, তার সঙ্গে সব ধরনের দর্শকই নিজেদের একাত্ম করতে পারবে। আর...আর...আমি আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি বর্তমানে সময়ে টেকনোলজি, ফোন যেভাবে গ্রাস করেছে আমাদের সবাইকে...সম্পর্কেও তার প্রভাব তো অবশ্যই পড়ে।  কঙ্কনা এবং পঙ্কজ ত্রিপাঠির জুটির গল্পটাও এই ফোনের একটা ব্যাপার আছে, জানতে পারবেন। হ্যাঁ, যেটা বলছিলাম, এই টেকনোলজির হু-হু করে ব্যবহার বেড়ে যাওয়া সম্পর্কের ডায়নামিক্স বদলে দেয়। সেটা কিন্তু আমি দেখেছি, বুঝেছি...এইটুকুই।” বলে রহস্যময় হাসি হেসে চুপ করে গেলেন আদিত্য। মাইক্রোফোন ততক্ষণে চলে এসেছে সারার হাতে। 

 

 

সইফ-কন্যার কথায়, “ আদিত্য যেটা বলল, আমি একমত। আজকাল ফোন হাতে আছে বলেই প্রায় সবসময় আমরা জানতে পারি, টের পাই আমার ভালবাসার মানুষটা কোথায় আছে। কিন্তু তার মানে কি আমরা সত্যিই দু’জনে পরস্পরের সঙ্গে আছি? আমাদের মধ্যে আদৌ একাত্মভাব,মনের মিলটা বেঁচে আছে তো? তাই আমার অভিজ্ঞতা থেকে জেনেছি, এই মুহূর্তে থাকা। মুহূর্তে ভালবাসায় থাকা। ভালবাসার মানুষের সঙ্গে এক মুহূর্তও সৎভাবে উদযাপন করা। তাই টেকনোলজি নয়, কাছে বসে কথা বলা প্রয়োজন, কথা শোনা প্রয়োজন। এই ব্যাপারটা আজও ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ।” 

 

 

আদিত্য তখন পুরোপুরি বৈঠকী মেজাজে। সেই আড্ডার ফাঁকেই তাঁর থেকে আরও জানা গেল, 'মেট্রো ইন দিনও'-র মাধ্যমেই এই প্রথম তিনি বড়পর্দায় প্লেব্যাক করলেন। আর সেই কাহিনিও কিন্তু বেশ মজার। “একবার ওই গানের দৃশ্যের শুটিংয়ের আগে আমাকে লিপসিঙ্ক-এর জন্য ডাকা হল। যাতে আমার একটু সুবিধে হয় শুটিংয়ে। তো আমিও গুনগুন করে গাইছিলাম। আমাকেও গাইতেও বলা হচ্ছিল, গানটার সঙ্গে একাত্ম হওয়ার জন্য। ওমা! হঠাৎ দেখি প্রীতমদা এসে বলল, " এই আদি, তোর গলায় দারুণ খুলেছে তো গানটা। শোন না, এই গানটা তবে তুইই রেকর্ড কর! শুনে তো আমি হাঁ। যাই হোক, শেষমেশ তাই-ই হল!” - বলতে বলতে অভিনেতার চোখেমুখে তখন খেলে যাচ্ছে তৃপ্তির হাসি।