ভারতীয় টাকা বৃহস্পতিবার মার্কিন ডলারের বিপরীতে রেকর্ড সর্বনিম্ন স্তরে নেমে বড় ধাক্কার মুখে পড়েছে। বাড়তে থাকা অপরিশোধিত তেলের দাম এবং ফেডেরাল রিজার্ভের কঠোর নীতিগত অবস্থান মিলিয়ে মুদ্রার ওপর তীব্র চাপ তৈরি হয়েছে।
2
8
বাজারে টাকার দাম নেমে দাঁড়ায় ডলার প্রতি ৯৫.২৩২৫, যা আগের সর্বনিম্ন ৯৫.২১ স্তরকেও ছাড়িয়ে গেছে। দিনের হিসেবে প্রায় ০.৪% পতন হয়েছে। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত টাকা ৫%-এর বেশি দুর্বল হয়েছে, যা গত বছরের পতনের ধারাকেই আরও দীর্ঘায়িত করেছে।
3
8
টাকার এই পতনের অন্যতম প্রধান কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১২৫.১৫ ডলারে পৌঁছেছে, যা ৬%-এরও বেশি বৃদ্ধি নির্দেশ করছে।
4
8
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানকে ঘিরে বাড়তে থাকা রাজনৈতিক উত্তেজনা এই দাম বৃদ্ধির বড় কারণ। বিশেষ করে হরমুজে সম্ভাব্য অবরোধের আশঙ্কা তেলের সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এছাড়াও OPEC+-এর উৎপাদন নীতিতে সম্ভাব্য পরিবর্তন এবং মার্কিন মজুত হ্রাস পাওয়াও দামের ওপর প্রভাব ফেলছে।
5
8
ভারত তার প্রয়োজনীয় তেলের বড় অংশই আমদানি করে। ফলে তেলের দাম বাড়লে আমদানি খরচ বেড়ে যায় এবং ডলারের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। এতে টাকার ওপর চাপ তৈরি হয়। একই সঙ্গে উচ্চ তেলের দাম দেশের মুদ্রাস্ফীতিও বাড়ায়, যা অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
6
8
বিশ্ববাজারে আরও একটি বড় প্রভাবক হল ফেডেরাল রিজার্ভের সাম্প্রতিক অবস্থান। সুদের হার কমানোর প্রত্যাশা কমে যাওয়ায় ডলার শক্তিশালী হয়েছে এবং মার্কিন বন্ডের রিটার্ন বেড়েছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা উদীয়মান বাজারের বদলে মার্কিন সম্পদের দিকে ঝুঁকছেন, যা ভারতের মতো দেশের মুদ্রাকে দুর্বল করছে।
7
8
টাকার এই দুর্বলতা ভারতের বৈদেশিক খাতের চ্যালেঞ্জগুলোকেও সামনে আনছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য উত্তেজনা, কমে যাওয়া বিদেশি বিনিয়োগ এবং জ্বালানি খাতে ধাক্কা—সব মিলিয়ে চাপ বাড়ছে। টাকা দুর্বল হলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আয় কমে যায়, ফলে আরও পুঁজি বেরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
8
8
বিশেষজ্ঞদের মতে, টাকার ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করবে তেলের দাম এবং বিশ্বের সুদের হারের গতিপ্রকৃতির ওপর। যদি তেলের দাম উচ্চস্তরে থাকে এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক পরিস্থিতি কঠোর থাকে, তবে নিকট ভবিষ্যতে টাকার ওপর চাপ অব্যাহত থাকতে পারে।