আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ যুবরাজ সিং। ক্যান্সারকে হারিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কামব্যাক করেছিলেন। ২০১১ বিশ্বকাপের সেরা ক্রিকেটার ছিলেন তিনিই। কিন্তু টুর্নামেন্টের পরেই ধরা পড়ে, মারণ রোগে আক্রান্ত তিনি। চিকিৎসা চলেছিল। একেবারে ন্যাড়া হয়ে গিয়েছিলেন যুবি। তখন চেনাই যেত না তাঁকে। সেই সব যন্ত্রণার দিনের কথাই অবশেষে প্রকাশ্যে এনেছেন যুবি।


২০১১ বিশ্বকাপ জেতার কয়েকমাস পরেই যুবরাজের ক্যান্সার ধরা পড়ে। চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, হাতে আর তিন থেকে ছয় মাস রয়েছে। সেই জায়গা থেকে ফিরে এসে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কামব্যাক করেন যুবি। 
প্রাক্তন ইংরেজ ক্রিকেটার কেভিন পিটারসেনের ইউটিউব চ্যানেলে নিজের অসুস্থতা নিয়ে মুখ খুলেছেন যুবরাজ। তিনি বলেছেন, ‘‌প্রায় ৪০টা টেস্ট আমি শুধু জল বয়েছি। সাত বছর অপেক্ষার পর ভেবেছিলাম, বিশ্বকাপ জেতার পর টেস্ট দলে আমার জায়গাটা পাকা হবে। অস্ট্রেলিয়া সফরে যাওয়া নিয়ে খুবই উত্তেজিত ছিলাম।’‌ কিন্তু সেই সফরে আর যাওয়া হয়নি যুবির। তার আগেই কার্যত চিকিৎসকরা জানিয়ে দিয়েছিলেন। হাতে আর হয়ত তিন থেকে ছয় মাস। তাই অস্ট্রেলিয়া নয়, চিকিৎসার জন্য আমেরিকা যেতে হয় যুবিকে।

 
দেশের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডারের সংযোজন, ‘‌আমাকে চিকিৎসকরা বলে দিয়েছিলেন, বড়জোর তিন থেকে ছয়মাস পর্যন্ত বাঁচব। আমার ফুসফুস আর হৃদয়ের ঠিক মাঝখানে টিউমারটা হয়েছিল। স্নায়ুর উপর চাপ বাড়ছিল। চিকিৎসকদের কথা শুনেই মনে হয়েছিল আর বোধহয় বাঁচব না। আমাকে চিকিৎসকরা বলেন যদি কেমো নিতে শুরু না করি তাহলে হার্ট অ্যাটাক হয়ে যেতে পারে।’‌ তবে আমেরিকায় গিয়ে চিকিৎসা করে সুস্থ হয়ে ওঠেন যুবি। বিখ্যাত ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ লরেন্স আইনহর্ন তাঁকে সাহস জুগিয়েছিলেন। বলেছিলেন, ‘‌তুমি এমন একজন মানুষ হিসাবে ফিরে আসবে যার শরীরে ক্যান্সার ছিলই না।’‌ 


প্রসঙ্গত, ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে মাত্র দেড় বছর পরেই ফের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরেন যুবরাজ। ওয়ানডে কেরিয়ারে নিজের সর্বোচ্চ স্কোর করেন ২০১৭ সালে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও খেলেন সে বছর। ২০১৯ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেন যুবি। তারপরেও একাধিক ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলেছেন। ২০২৪ সালে তাঁর নেতৃত্বেই লেজেন্ডদের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ জেতে ভারত। সেটাও পাকিস্তানকে হারিয়ে। 


প্রসঙ্গত, দেশের হয়ে ৪০ টেস্ট, ৩০৪টি একদিনের ম্যাচ ও ৫৮টি টি–২০ খেলেছেন যুবি। টেস্টে রান ১৯০০। রয়েছে তিনটি শতরান ও ১১টি অর্ধশতরান। একদিনের আন্তর্জাতিকে করেছেন ৮৭০১ রান। শতরান ১৪ ও অর্ধশতরান রয়েছে ৫২টি। টি–২০ আন্তর্জাতিকে রয়েছে ১১৭৭ রান। অর্ধশতরান আটটি। টেস্টে ১০ উইকেট রয়েছে যুবির। আর ওয়ানডেতে রয়েছে ১১১ উইকেট। টি–২০ তে নিয়েছেন ২৯ উইকেট। ওয়ানডেতে সেরা বোলিং ৫/‌৩১ আর টি–২০ তে ৩/‌১৭।