ইংল্যান্ড - ৬ (সাকা-হ্যাটট্রিক, রাইস, কনসা, বেলিংহ্যাম) 

ফ্রান্স - ৪ (এমবাপে-২, বারকোলা, ডেম্বেলে) 

আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিশ্বকাপের ম্যাচে ১০ গোল! টুর্নামেন্টের ইতিহাসে নাটকীয় ম্যাচগুলোর মধ্যে অন্যতম। শনিবার ভারতীয় সময় মধ্যরাতে মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে ৬-৪ গোলে ফ্রান্সকে হারিয়ে তৃতীয় স্থান অধিকার করল ইংল্যান্ড। বুকায়ো সাকার হ্যাটট্রিকে বাজিমাত থ্রি লায়ন্সদের। জোড়া গোল করে ইতিহাসে নাম তুললেন কিলিয়ান এমবাপে। ছাপিয়ে গেলেন লিওনেল মেসিকে। চলতি বিশ্বকাপে ১০ গোল। মেসির ৮। গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এগিয়ে গেলেন ফরাসি তারকা। একইসঙ্গে বিশ্বকাপের মঞ্চে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলের তালিকায়ও শীর্ষস্থানে ফরাসি তারকা। তিন বিশ্বকাপ মিলে ২২ গোল এমবাপের। এখানেও ছাপিয়ে যান মেসিকে। ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে করেছিলেন ৪ গোল। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ৮ গোল করে গোল্ডেন বুট জেতেন। এবার ১০ গোলে সেদিকেই এগোচ্ছেন। যদিও এমবাপেকে ছোঁয়ার বা ছাপিয়ে যাওয়ার সুযোগ এখনও রয়েছে মেসির সামনে। 

১৯৮২ সালের পর বিশ্বকাপের ম্যাচে ১০ গোল এই প্রথম। প্রথমে স্কোরলাইন শুনলে টাইব্রেকারে জয় মনে হবে। কে ভাববে সেমিফাইনালে গোলমুখ খুলতে হিমশিম খাওয়া এমবাপে, হ্যারি কেনরা নির্ধারিত নব্বই মিনিটে গোলের বন্যা বইয়ে দেবে। ম্যাচের পরতে পরতে নাটক। ইংল্যান্ড চার গোলে এগিয়ে যাওয়ার পরও দুরন্ত প্রত্যাবর্তনে ম্যাচে ফেরে ফ্রান্স। ডেকলান রাইসের দূরপাল্লার শটে ম্যাচের ৩ মিনিটের মাথায় এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। ১৮ মিনিটে রাইসের কর্নার থেকে ২-০ করেন এজরি কনসা। এরপর জোড়া গোল বুকায়ো সাকার। ম্যাচের ৩৭ এবং ৪৫+১ মিনিটে ব্যবধান বাড়ান। বিরতিতে ৪-০ গোলে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। এই জায়গা থেকেও যে কামব্যাক করা সম্ভব কে জানত! যত কাণ্ড দ্বিতীয়ার্ধে। রুদ্ধশ্বাস ৪৫ মিনিট। 

ফ্রান্সে ১৪ বছরের কোচিং জীবনের শেষ ম্যাচ। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে কয়েকটা পরিবর্তন করেন দিদিয়ের দেশঁ। তাতেই ঘুরে যায় ম্যাচ। উসমান ডেম্বেলে এবং ব্র্যাডলি বারকোলা নামার পর ফ্রান্সের আক্রমণের ঝড় শুরু। বিরতির কিছুক্ষণ পরেই নিজের নবম গোল করেন এমবাপে। ২০২৬ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার দৌড়ে ছাপিয়ে যান মেসিকে। তার দশ মিনিটের মধ্যে ৪-২ করেন বারকোলা। ম্যাচের ৬৬ মিনিটে আবার গোল এমবাপের। বিশ্বকাপের ইতিহাসে ২২তম গোল করে সেরার সিংহাসন দখল করেন। ম্যাচের স্কোর ৪-৩। অবিশ্বাস্য। এমন প্রত্যাবর্তন অতীতে বিশ্বকাপের মঞ্চে হয়েছে কিনা জানা নেই। তবে সমতা ফেরানোর আগেই আবার ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেন সাকা। ম্যাচের ৮৭ মিনিটে পেনাল্টি থেকে হ্যাটট্রিক করার পাশাপাশি দলকে ৫-৩ গোলে এগিয়ে দেন। এরপরও থামেনি ফ্রান্স। স্টপেজ টাইমে গোল করে আবার আশা জাগান ডেম্বেলে। স্কোরলাইন ৫-৪। কিন্তু নাটক আরও বাকি ছিল। ম্যাচের ৯০+৮ মিনিটে তিনজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে দারুণ গোল করেন জুড বেলিংহ্যাম। ১৯৬৬ সালে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর বিশ্বকাপে এটাই ইংল্যান্ডের সেরা পারফরমেন্স। তৃতীয় স্থানে শেষ করেন হ্যারি কেনরা। অন্যদিকে শূন্য হাতেই বিদায় দিদিয়ের দেশঁর।