আজকাল ওয়েবডেস্ক: আজ বিশ্বকাপের ফাইনাল। ৪৮ দলের দীর্ঘ লড়াই শেষে শিরোপার দৌড়ে টিকে আছে শুধু আর্জেন্টিনা ও স্পেন। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনালে মুখোমুখি হবে দুই দল। তবে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে আবারও আলোচনায় এসেছে বিশ্বকাপ ট্রফি নিয়ে দীর্ঘদিনের এক কৌতূহল। চ্যাম্পিয়ন দল কি আসল ট্রফিটি নিজেদের কাছে রাখতে পারে?
এর উত্তর হল, না। বিশ্বকাপজয়ী কোনও দলই আসল ট্রফি স্থায়ীভাবে নিজেদের কাছে রাখতে পারে না। ফাইনাল শেষে বিজয়ী দল মাঠে আসল ট্রফি হাতে উল্লাস করার সুযোগ পেলেও তা আবার ফিফার কাছে ফিরিয়ে দিতে হয়।
এর পরিবর্তে চ্যাম্পিয়ন দলকে দেওয়া হয় বিশ্বকাপ ট্রফির একটি রেপ্লিকা। বিজয়ী দেশের নাম খোদাই করা এই রেপ্লিকা ট্রফিটি সোনার প্রলেপযুক্ত ব্রোঞ্জ-অ্যালয় দিয়ে তৈরি, যা দলটি নিজেদের কাছে সংরক্ষণ করতে পারে।
ফিফার আসল বিশ্বকাপ ট্রফিটি সারা বছর সুইজারল্যান্ডের জুরিখে অবস্থিত ফিফা মিউজিয়ামে নিরাপদে সংরক্ষিত থাকে। বিশেষ প্রদর্শনী, ট্রফি ট্যুর কিংবা বিশ্বকাপ আয়োজনের সময় নির্ধারিত অনুষ্ঠানে এটি ফুটবলপ্রেমীদের সামনে তুলে ধরা হয়।
বিশ্বকাপের প্রথম ট্রফির নাম ছিল ‘জুলে রিমে ট্রফি’। ফরাসি ভাস্কর আবেল লাফ্লুর এর নকশা করেছিলেন। প্রাচীন গ্রিক বিজয়ের দেবী ‘নাইকি’র অবয়ব ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল এই ট্রফিতে। ৩৫ সেন্টিমিটার উচ্চতার ট্রফিটির ওজন ছিল ৩.৮ কেজি এবং এটি তৈরি করা হয়েছিল সোনার প্রলেপ দেওয়া রুপো দিয়ে।
তখনকার নিয়ম অনুযায়ী, কোনও দেশ তিনবার বিশ্বকাপ জিতলে ট্রফিটি স্থায়ীভাবে নিজেদের কাছে রাখার অধিকার পেত। ১৯৭০ সালে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জিতে ব্রাজিল সেই কৃতিত্ব অর্জন করে এবং জুল রিমে ট্রফির স্থায়ী মালিক হয়।
তবে এই ট্রফির ইতিহাসে রয়েছে চুরির ঘটনাও। ১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ডে প্রদর্শনীর সময় ট্রফিটি চুরি হয়ে যায়। পরে দক্ষিণ লন্ডনের একটি ঝোপের নিচ থেকে ‘পিকলস’ নামের একটি কুকুর সেটি খুঁজে বের করে।
এরপর ১৯৮৩ সালে ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের সদর দপ্তর থেকে আবারও ট্রফিটি চুরি হয়। দ্বিতীয়বার আর সেটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ধারণা করা হয়, চোরেরা ট্রফিটি গলিয়ে ফেলেছিল।
জুলে রিমে ট্রফি ব্রাজিলের স্থায়ী মালিকানায় চলে যাওয়ার পর নতুন ট্রফির প্রয়োজন হয়। ১৯৭৪ সাল থেকে চালু হয় বর্তমান বিশ্বকাপ ট্রফি। ইতালীয় ভাস্কর এর নকশা করেন এবং ইতালির প্রতিষ্ঠান জিডিই বার্টোনি এটি তৈরি করে।
১৮ ক্যারেট সোনা দিয়ে তৈরি এই ট্রফিতে দেখা যায় দুই মানব অবয়ব পৃথিবীকে ধরে রেখেছে। এর উচ্চতা ৩৬.৮ সেন্টিমিটার এবং ওজন ৬.২ কেজি।
২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যে যে দলই জয়ী হোক, তারা কিছুক্ষণের জন্য আসল ট্রফি হাতে ইতিহাসের অংশ হয়ে উঠবে। তবে শেষ পর্যন্ত ফুটবলের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত এই সোনালি প্রতীক ফিরে যাবে ফিফার জাদুঘরে। আর বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের স্মৃতি হিসেবে থেকে যাবে সেই ট্রফির রেপ্লিকা।
















