কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের মহার্ঘ ভাতা বৃদ্ধি নিয়ে ফের জোর চর্চা শুরু হয়েছে। চলতি বছরের জুলাই মাসে নতুন ডিএ ঘোষণার প্রত্যাশায় রয়েছেন প্রায় ৫০ লক্ষ কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী এবং ৬৫ লক্ষেরও বেশি পেনশনভোগী।
2
11
যদিও এখনও পর্যন্ত কেন্দ্রের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি, তবে বিশেষজ্ঞদের মতে সর্বভারতীয় ভোক্তা মূল্য সূচকের সাম্প্রতিক প্রবণতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে এবার ৩% থেকে ৪% পর্যন্ত ডিএ বৃদ্ধি হতে পারে।
3
11
বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের ডিএ এবং পেনশনভোগীদের ডিআর মূল বেতনের ৬০ শতাংশ। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে কেন্দ্র সরকার ৫৮ শতাংশ থেকে ৬০ শতাংশে ডিএ বৃদ্ধি করেছিল, যা ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে। এখন জুলাইয়ের দ্বিতীয় কিস্তির ডিএ বৃদ্ধির অপেক্ষায় রয়েছেন কর্মচারীরা।
4
11
ডিএ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে শ্রম মন্ত্রকের অধীন লেবার ব্যুরো প্রকাশিত অল ইন্ডিয়া কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স ফর ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওয়ার্কার্স । মার্চ ২০২৬-এ এই সূচক ছিল ১৪৯.১, এপ্রিলে বেড়ে দাঁড়ায় ১৪৯.৯ এবং মে মাসে তা আরও বেড়ে হয় ১৫০.৮।
5
11
বিশেষজ্ঞদের অনুমান, জুন মাসে এই সূচক প্রায় ১৫১.৭-এ পৌঁছাতে পারে। যদি সেই অনুমান বাস্তবের কাছাকাছি হয়, তাহলে ডিএ ৩ থেকে ৪ শতাংশ বাড়ার সম্ভাবনা যথেষ্ট জোরালো হবে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে জুন মাসের সরকারি তথ্য এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অনুমোদনের উপর।
6
11
অন্যদিকে, সাম্প্রতিক সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী জুন ২০২৬-এ খুচরো মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৪.৩৮ শতাংশে পৌঁছেছে এবং খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৫.৩২ শতাংশ। মূল্যবৃদ্ধির এই পরিস্থিতিতে কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের অতিরিক্ত আর্থিক স্বস্তি দিতে ডিএ বৃদ্ধির সম্ভাবনা আরও জোরদার হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
7
11
যদি জুলাই মাসে ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা না-ও আসে, তাহলেও বছরের দ্বিতীয়ার্ধে, বিশেষ করে অক্টোবর বা নভেম্বর মাসে কেন্দ্র এই ঘোষণা করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। গত কয়েক বছর ধরেই দুর্গাপুজো বা দীপাবলির আগে কেন্দ্র সরকার ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা করেছে। ফলে এবছরও দীপাবলির আগে কর্মচারীরা বড় সুখবর পেতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে।
8
11
এটি শুধুমাত্র মাসিক বেতন বাড়ায় না, বরং ভবিষ্যৎ তহবিল, গ্র্যাচুইটি, পেনশন, বিভিন্ন ভাতা এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধার উপরও এর প্রভাব পড়ে। কারণ এই সমস্ত সুবিধার হিসাব মূল বেতন এবং সংশ্লিষ্ট ভাতার ভিত্তিতেই নির্ধারিত হয়। তাই ডিএ বৃদ্ধি কর্মচারী এবং অবসরপ্রাপ্তদের সামগ্রিক আর্থিক অবস্থাকে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী করে।
9
11
এদিকে, অষ্টম বেতন কমিশন নিয়েও কর্মচারীদের আগ্রহ বাড়ছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কমিশন গঠনের প্রায় ১৮ মাসের মধ্যে সুপারিশ জমা পড়তে পারে। সেই হিসেবে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিলের মধ্যে সুপারিশ প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে।
10
11
তবে অতীতের অভিজ্ঞতা বলছে, সুপারিশ কার্যকর হতে আরও দুই থেকে তিন বছর সময় লাগতে পারে। অর্থাৎ অষ্টম বেতন কমিশনের পূর্ণ বাস্তবায়ন ২০২৯ বা ২০৩০ সালের আগে হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
11
11
সব মিলিয়ে, এখন কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের নজর জুন মাসের সূচক এবং কেন্দ্রীয় সরকারের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে। যদি প্রত্যাশা অনুযায়ী ডিএ ৩% বা ৪% বৃদ্ধি পায়, তাহলে লক্ষ লক্ষ পরিবার সরাসরি আর্থিকভাবে উপকৃত হবে।