সেলেব্রিটিদের কারণে পরকীয়া কি স্বাভাবিক হয়ে যাচ্ছে? সম্পর্কে বিশ্বাসভঙ্গ নিয়ে নতুন বিতর্ক
নিজস্ব সংবাদদাতা
১৯ জুলাই ২০২৬ ১৭ : ০৪
শেয়ার করুন
1
9
বিশ্বাস আর সম্মান—এই দু'টিকেই যে কোনও সম্পর্কের মূল ভিত্তি বলে মনে করা হয়। কিন্তু সেই বিশ্বাসে ফাটল ধরলে সম্পর্ক টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। ভারতে পরকীয়া বা সঙ্গীকে প্রতারণা করা এখনও বহু সম্পর্ক ভাঙার অন্যতম বড় কারণ।
2
9
তবুও সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকজন সেলিব্রিটির মন্তব্য নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—পরকীয়াকে কি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক করে তোলা হচ্ছে?
3
9
সম্প্রতি অভিনেতা রাম কাপুর একটি সাক্ষাৎকারে বলেন, সম্পর্কের কঠিন সময়ে কেউ "ভুল করে" সঙ্গীকে প্রতারণা করতেই পারেন। এর আগে টুইঙ্কল খান্নার অনুষ্ঠানে কাজলের মন্তব্য, "রাত গয়ি, বাত গয়ি", অর্থাৎ অতীত ভুলে এগিয়ে যাওয়ার বার্তাও সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র বিতর্কের জন্ম দেয়।
4
9
অনেকের মতে, জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বদের এমন মন্তব্য মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রভাবিত করতে পারে।
তবে মনোবিদদের মতে, পরকীয়া শুধু শারীরিক সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সম্পর্কে আগে থেকে নির্ধারিত সীমারেখা ভেঙে বিশ্বাস নষ্ট করাই ইনফিডেলিটি।
5
9
গোপন রোম্যান্টিক কথোপকথন, আবেগঘন সম্পর্ক, সেক্সটিং, সঙ্গীর অজান্তে ডেটিং অ্যাপ ব্যবহার বা অনলাইনে অন্তরঙ্গ যোগাযোগ—এসবও বিশ্বাসভঙ্গের আওতায় পড়ে।
6
9
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, সেলিব্রিটিদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অতিরিক্ত আলোচনা মানুষের মধ্যে ধীরে ধীরে সংবেদনশীলতা কমিয়ে দিতে পারে। কোনও জনপ্রিয় ব্যক্তি যদি পরকীয়াকে "একটা ভুল" বলে ব্যাখ্যা করেন, তাহলে অনেকের কাছেই বিষয়টি ততটা গুরুতর বলে মনে নাও হতে পারে।
7
9
আবার সংবাদমাধ্যমে যখন পরকীয়ার ঘটনাকে শুধুই চটকদার গসিপ হিসেবে তুলে ধরা হয়, তখন ভেঙে যাওয়া সম্পর্ক, মানসিক আঘাত এবং বিশ্বাস হারানোর যন্ত্রণা অনেক সময় আড়ালেই থেকে যায়।
8
9
ইতিহাস বলছে, একগামিতা বা বহুগামিতা—দুই ধরনের সম্পর্কই বিভিন্ন সময়ে সমাজে দেখা গিয়েছে। গত এক দশকে সোশ্যাল মিডিয়া, মেসেজিং অ্যাপ এবং ২৪ ঘণ্টার সংবাদচক্রের কারণে পরকীয়া নিয়ে আলোচনা অনেক বেশি প্রকাশ্যে এসেছে। ফলে মানুষ এখন শুধু পরকীয়া নিয়েই নয়, কোন আচরণকে বিশ্বাসভঙ্গ বলা উচিত, তা নিয়েও নতুন করে ভাবতে শুরু করেছেন।
9
9
পরকীয়া নিয়ে মতভেদ থাকতেই পারে। কেউ ক্ষমা করেন, কেউ সম্পর্ক শেষ করার সিদ্ধান্ত নেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনও সেলিব্রিটির ব্যক্তিগত জীবন বা মন্তব্যকে আদর্শ হিসেবে না দেখে, প্রতিটি সম্পর্কের নিজস্ব সীমারেখা ও পারস্পরিক সম্মতিকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। কারণ শেষ পর্যন্ত সুস্থ সম্পর্কের ভিত্তি একটাই—বিশ্বাস।