আজকাল ওয়েবডেস্ক: বাঁ হাতি কাটার মাস্টার তিনি। এবারের নিলামে ৯ কোট ২০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে কলকাতা নাইট রাইডার্স দলে নিয়েছিল বাংলাদেশের তারকা পেসারকে। শনিবার নতুন বছরের গোড়ায় সেই কলকাতা নাইট রাইডার্স জানিয়ে দিল, তারা বাংলাদেশের তারকা পেসারকে ছেড়ে দিচ্ছে।
মুস্তাফিজুরকে ছেড়ে দেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রতিক্রিয়ার ঢেউ ওঠে দুই দেশে। বাংলাদেশের ক্রিকেটভক্তরা হতাশ। অন্যদিকে এদেশেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
বিজেপির নেতা সঙ্গীত সোম ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডকে প্রশংসা করে বলেছেন, ''এ আসলে গোটা দেশের হিন্দুদের জয়।''
কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার সদস্য শশী থারুর প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন, ''আমরা আসলে কাকে শাস্তি দিচ্ছি? একটি দেশকে, একজন ব্যক্তিকে নাকি তাঁর ধর্মকে।''
বাংলাদেশের প্রাক্তন অধিনায়ক আক্রম খান আবার অন্য রকম আশঙ্কা করছেন। তিনি বলছেন, ''পরিস্থিতি যেদিকে মোড় নিচ্ছে, তাতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচ সরতে পারে অন্যত্র।''
KKR Media Advisory. 🔽 pic.twitter.com/ZUZB620Uv7
— KolkataKnightRiders (@KKRiders)Tweet by @KKRiders
এবারের নিলামে বাংলাদেশের তারকা বোলার মুস্তাফিজুর রহমানকে ৯ কোট ২০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে দলে নিয়েছিল কেকেআর।
কিন্তু সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশের উদ্ভুত পরিস্থিতিতে সোশ্যাল মিডিয়া উত্তাল হয়ে ওঠে এই দাবিতে, মুস্তাফিজুর খেললে কেকেআর-কে বয়কট করা হবে।
উজ্জ্বয়িনীর ধর্মীয় নেতা হুমকি দিয়েছিলেন, কেকেআর যদি মুস্তাফিজুরকে খেলায় তাহলে স্টেডিয়াম ভাঙচুর করা হবে।
মুস্তাফিজুরকে নিয়ে চাপ বাড়ছিল। এই প্রেক্ষিতে ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড জানিয়ে দেয়, মুস্তাফিজুর 'আউট' আইপিএল থেকে। বোর্ডের এহেন ঘোষণার কিছুক্ষণ পরেই কলকাতা নাইট রাইডার্স জানিয়ে দেয় তারা বাংলাদেশের তারকাকে ছেড়ে দিচ্ছে।
সেদেশের প্রাক্তন অধিনায়ক আক্রম খান আজকাল ডট ইন-কে বলেন, ''বাংলাদেশ অত্যন্ত হতাশ। কলকাতা নাইট রাইডার্স দুর্দান্ত এক দল। সেই দলের হয়ে খেলার সুযোগ এসেছিল মুস্তাফিজুরের কাছে। ফিজ খেললে পরিস্থিতির উন্নতি হয়তো হত। কিন্তু আমি বলব, সার্বিক ভাবে পরিস্থিতি কিন্তু খারাপই হল।''
মুস্তাফিজকে দলে নেওয়ার জন্য কেকেআর মালিক শাহরুখ খানের দিকেও উড়ে আসে কটাক্ষ। দেশের প্রাক্তন ক্রিকেটার অতুল ওয়াসন অবশ্য কিং খানের হয়ে ব্যাট ধরে বলেছেন, শাহরুখ খানকে দোষারোপ করা ঠিক হচ্ছে না।
শশী থারুর বলছেন, ''মুস্তাফিজুর রহমান একজন ক্রিকেটার, যার সঙ্গে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঘটনার কোনও সম্পর্কই নেই। তিনি একজন ক্রীড়াবিদ। দু'টি বিষয়কে মিশিয়ে ফেলাটা ঠিক নয়।''
Recalling my views on the subject, now that @bcci has deplorably pulled the plug on @Mustafiz90. And what if the Bangladeshi player in question had been @LittonOfficial or @soumyasarkar_06? Who are we punishing here: a nation, an individual, his religion? Where will this mindless… https://t.co/KSftpw0YGa
— Shashi Tharoor (@ShashiTharoor)Tweet by @ShashiTharoor
মুস্তাফিজুর-অধ্যায়ে ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের ভিন্ন মেরুতে অবস্থান করছেন তিরাশির বিশ্বজয়ী দলের সদস্য মদনলাল।
একটি সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মদন লাল জানান, এই ঘটনা খেলাধুলার মধ্যে রাজনীতির অনুপ্রবেশেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
আক্রম খান আবার বলছেন, ''আজকে বাংলাদেশের ক্রিকেট যে জায়গায় পৌঁছেছে তার পিছনে বিসিসিআই-এর অনেক অবদান রয়েছে। ভেবেছিলাম মুস্তাফিজুর খেললে পরিস্থিতির উন্নতি হবে। কিন্তু আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ইডেন গার্ডেন্সে বাংলাদেশের গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচ রয়েছে। এখন মনে হচ্ছে ইডেনে কি বাংলাদেশের ম্যাচগুলো হবে? শ্রীলঙ্কায় চলে যেতে পারে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো।''
উদ্ভুত পরিস্থিতিতে আক্রম খানের এমনই আশঙ্কা।
শশী থারুর আবার বলছেন, '' আমার মতামত ফের একবার স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি। বিসিসিআই নিন্দনীয়ভাবে মুস্তাফিজুরকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মুস্তাফিজুর না হয়ে খেলোয়াড়ের নাম যদি হত লিটন দাস বা সৌম্য সরকার, তাহলে কী হত? আমরা কাকে শাস্তি দিচ্ছি? একটি দেশ, একজন ব্যক্তিকে নাকি তাঁর ধর্মকে? খেলাধুলোর সঙ্গে এভাবে রাজনৈতিক রং মিশিয়ে দেওয়া কোন পথে নিয়ে যাবে আমাদের?''
