ডিম বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় প্রাণিজ খাদ্য। তুলনামূলকভাবে কম দামে সহজে পাওয়া যায় এবং এতে প্রচুর প্রোটিন ও গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান থাকায় বিশ্বের প্রায় সব দেশেই ডিমের চাহিদা বাড়ছে। এই বাড়তি চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে গত কয়েক দশকে বিশ্বজুড়ে ডিম উৎপাদনও দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।
2
8
আন্তর্জাতিক কৃষি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ডিম উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষ দেশ হল চীন। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার ডেটাবেসে প্রকাশিত উৎপাদন তথ্য বিশ্লেষণ করে এই তথ্য জানা গেছে।
3
8
সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের মোট ডিম উৎপাদনের প্রায় ৩৫ থেকে ৩৮ শতাংশই চীনে উৎপাদিত হয়। অর্থাৎ বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি ডিম একাই উৎপাদন করে এই দেশ।
4
8
২০২৩ সালে চীনে ডিম উৎপাদনের পরিমাণ ৩৫ মিলিয়ন মেট্রিক টনেরও বেশি। এত বিশাল উৎপাদনের পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে বিশাল জনসংখ্যা এবং দেশের ভেতরেই ডিমের বিপুল চাহিদা।বড় আকারের বাণিজ্যিক পোলট্রি খামার।উন্নত প্রজনন প্রযুক্তি ও পশুখাদ্য ব্যবস্থাপনা। শক্তিশালী কৃষি সরবরাহ ব্যবস্থা। এই সব কারণ মিলিয়েই চীন বহু বছর ধরে ডিম উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষে রয়েছে।
5
8
চীনের পরে ডিম উৎপাদনে বিশ্বের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ভারত। তৃতীয় স্থানে রয়েছে আমেরিকা। আন্তর্জাতিক কৃষি পরিসংখ্যানের তথ্য এবং ভারতের রিপোর্ট মিলিয়ে এই তথ্য মিলেছে।
6
8
চীন বছরে ৩৫ মিলিয়ন মেট্রিক টনের বেশি ডিম উৎপাদন করে। ভারত বছরে ৬ মিলিয়ন মেট্রিক টনের বেশি উৎপাদন করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বছরে প্রায় ৭ মিলিয়ন মেট্রিক টন ডিম উৎপাদিত হয়।এই তিনটি দেশ মিলেই বিশ্বের মোট ডিম উৎপাদনের বড় অংশ জোগান দেয়।
7
8
গত দুই দশকে বিশ্বজুড়ে ডিম উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ সালে বিশ্বে ডিম উৎপাদন ছিল প্রায় ৫১ মিলিয়ন টন, যা ২০২০ সালে বেড়ে প্রায় ৮৭ মিলিয়ন টনে পৌঁছেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং সস্তা প্রোটিনের চাহিদা বাড়ার কারণে ডিম উৎপাদন ভবিষ্যতেও বাড়তে থাকবে।
8
8
অন্যান্য প্রাণিজ প্রোটিনের তুলনায় তুলনামূলকভাবে কম দামের হওয়ায় উন্নত ও উন্নয়নশীল—দুই ধরনের দেশেই ডিম মানুষের দৈনন্দিন খাদ্য তালিকার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।