আজকাল ওয়েবডেস্ক: টি-২০ বিশ্বকাপের দল থেকে বাদ পড়ার পর মুষড়ে পড়েছিলেন। মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। পরের কয়েকদিন হতাশায় ডুবে যান। এই জায়গা থেকে বেরোতে কিছুটা সময় লাগে জীতেশ শর্মার। কিন্তু এখন আর সেই নিয়ে ভাবেন না। কারণ জীবন তাঁকে আরও কঠিন বাস্তবের সম্মুখীন করেছে। যার সামনে বিশ্বকাপের দল থেকে বাদ পড়া খুবই তুচ্ছ। ১ ফেব্রুয়ারি বাবাকে হারান ভারতীয় উইকেটকিপার ব্যাটার। কিছুদিন অসুস্থ থাকার পর পরলোক গমন করেন মোহন শর্মা। বিশ্বকাপের দলে থাকলে বাবার সঙ্গে তাঁর শেষ কয়েকদিন কাটাতে পারতেন না। তাই সুযোগ না পাওয়া সাপে বর।
জীতেশ বলেন, 'আমি বিশ্বকাপের দলে সুযোগ না পাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছিলাম। আমিও মানুষ। আমার খারাপ লাগতেই পারে, দুঃখ হতে পারে। কিন্তু কয়েকদিন পর সেই দুঃখ ঘুঁচে যায়। কারণ কয়েকদিন পর আমার বাবা অসুস্থ হয়ে পড়ে। ১ ফেব্রুয়ারি মৃত্যু হয়। আমি বাবার সঙ্গে সাতদিন কাটাতে পেরেছি। তারপর বুঝলাম, বিশ্বকাপের থেকেও বেশি আমার বাবার আমাকে দরকার ছিল। তারপর আর আমার বিশ্বকাপের দলে সুযোগ না পাওয়া নিয়ে কোনও আক্ষেপ নেই। এই কারণে কোনও হতাশাও নেই। আমার রাগও হয়নি। ভগবান আমাকে বাবার সঙ্গে থাকার সাতদিন সুযোগ দেয়। আমি তাঁর দেখাশোনা করার সুযোগ পাই। টিভিতে বিশ্বকাপ দেখেছিল। এটা আলাদা অনুভূতি। আমি দলের জন্য খুশি।'
জীতেশ বড় ছেলে। বাবার অনুপস্থিতিতে তাঁর ওপর সংসারের যাবতীয় দায়িত্ব। জীতেশ বলেন, 'আমি কখনও ভুলতে পারব না। কারণ বাবা আর নেই। বাবাকে হারানোর কয়েকদিন পর বুঝতে পারলাম, বড় ছেলে হিসেবে এবার সব দায়িত্ব আমার। মা, ভাই, পরিবারের দেখভাল আমাকেই করতে হবে। তাই ওদের সামনে নিজের আবেগ দেখাতে পারব না। কারণ ওরা আমার ওপর নির্ভরশীল। কয়েকদিন পর রূঢ় বাস্তবের মুখোমুখি হতে হয়। বাবা আর নেই, সেটা বিশ্বাস করার চেষ্টা করছি। আমার হৃদয়ের একটা অংশ ফাঁকা। মৃত্যু পর্যন্ত সেটা ফাঁকাই থাকবে।' বাবার মৃত্যুর শোক কাটিয়ে বেরোতে পারেননি ভারতের উইকেটকিপার ব্যাটার। তবে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে ফের ক্রিকেটে ডুবে যেতে তৈরি। রিঙ্কুর কথা তুলে ধরলেন জীতেশ। ব্যক্তিগত সেটব্যাক থেকে বেরিয়ে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফেরার লড়াইয়ের কথা তুলে ধরেন। জীতেশ বলেন, 'রিঙ্কুও একই জিনিসের মধ্যে দিয়ে গিয়েছে। সেই কারণেই আবার মাঠে ফিরতে পেরেছে। এটা বড় বিষয়।' সঞ্জু স্যামসন এবং ঈশান কিষাণ দুর্দান্ত ছন্দে থাকায়, তৃতীয় উইকেটকিপারের দলে সুযোগ পাওয়া কঠিন। তবে আশাবাদী জীতেশ। ফিনিশারের ভূমিকা পালন করতে চান।
