আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ টি–২০ বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাকিস্তান নেবে শুক্র বা আগামী সোমবার। পাক ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নকভি একথা জানিয়েছেন। সোমবার পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করেন নকভি। তারপরেই এই কথা জানান। 


এদিকে, আইসিসি দিয়েছে মাস্টারস্ট্রোক। যদি সত্যিই পাকিস্তান টি–২০ বিশ্বকাপ বয়কট করে সেক্ষেত্রে বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ করে দেওয়া হবে বাংলাদেশকে। এমনটাই জানা গিয়েছে। আর মহসিন নকভিরা যদি সত্যিই বিশ্বকাপ বয়কট করেন, তাহলে ক্ষতি হবে সে দেশের ক্রিকেটেরই। আইসিসির শাস্তির মুখে পড়তে হবে বাবর আজম, সলমন আলি আঘাদের। 


এটা ঘটনা, পাকিস্তানের দাবি মেনে ভারতের মাটিতে আয়োজিত টি–২০ বিশ্বকাপে হাইব্রিড মডেল এনেছে আইসিসি। অর্থাৎ, পাকিস্তান তাদের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় খেলবে। সেই মতো সূচি হয়েছে। কিন্তু যদি পাকিস্তান খেলতে না চায়, তাহলে সেই চুক্তি ভঙ্গ হবে। আর সেক্ষেত্রে ভবিষ্যতে আর কোনও প্রতিযোগিতায় হাইব্রিড মডেলের দাবি করতে পারবে না পাকিস্তান। যেখানে খেলা হবে, সেখানেই খেলতে হবে তাদের।


আইসিসির কোনও বড় প্রতিযোগিতার আগে বিশ্বক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থার সঙ্গে চুক্তি হয় পূর্ণ সদস্য দেশের। শেষ মুহূর্তে বিশ্বকাপ বয়কট করলে চুক্তিভঙ্গ করবে পাকিস্তান। এছাড়া প্রতি বছর পাকিস্তানকে লভ্যাংশ হিসাবে ৩১৬ কোটি টাকা দেয় আইসিসি। তারা ইতিমধ্যেই হুঁশিয়ারি দিয়েছে, পাকিস্তান বিশ্বকাপ বয়কট করলে লভ্যাংশ কেটে নেওয়া হবে। সেক্ষেত্রে ৩১৬ কোটি টাকা লোকসান হবে নকভিদের ক্রিকেট বোর্ডের। 


পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড জানিয়েছে, তাদের সরকার যা বলবে, তাই মেনে চলবে তারা। অর্থাৎ, বিশ্বকাপ বয়কট করা, না করার সিদ্ধান্ত পুরোপুরি সরকারের। সেক্ষেত্রে ক্রিকেটে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে পাকিস্তানকে নির্বাসিত করতে পারে আইসিসি। এমনকি, আইসিসির নির্দেশ মেনে এশিয়া কাপ থেকেও পাকিস্তানকে নির্বাসিত করতে পারে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল।


পাকিস্তান বিশ্বকাপ বয়কট করলে ভবিষ্যতে তাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলার আগে ভাববে বিভিন্ন দেশ। কারণ দ্বিপাক্ষিক সিরিজের সূচিও আইসিসি তৈরি করে। 


এমনকী প্রভাব পড়তে পারে পাকিস্তান সুপার লিগেও। বিভিন্ন দেশ তাদের খেলোয়াড়দের পাকিস্তান সুপার লিগে খেলার অনুমতি (এনওসি) না–ও দিতে পারে। তাহলে পিএসএলের জৌলুস অনেকটাই কমবে।